মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যুগ্মসচিবসহ দু’জনের সাফাই সাক্ষ্য আদালতে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন পানির পাম্পের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর মামলায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাসুদ করিমসহ দুজনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আকতারুজ্জামানের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করে আগামী ২৯ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এদিন সাফাই সাক্ষ্য দেয়া অপরজন হলেন রেলওয়ের পরিচালক (প্রকৌশল) আব্দুল হক। 

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শিশু জিহাদ পাইপের মধ্যে পড়ে গিয়ে নিহত হওয়ার পর রেলপথ মন্ত্রণালয় মাসুদ করিমকে আহ্বায়ক এবং আব্দুল হককে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ৯ জনকে ওই ঘটনায় দায়ী করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই সম্পর্কে গতকাল তারা সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে মামলাটিতে ৩ জনের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ করলেন আদালত। 

এর আগে মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে নিহতের বাবা বাদী নাসির ফকিরসহ ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত। মামলার আসামীরা হলেন রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর হাউজের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে আব্দুস সালাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার জাফর আহমেদ শাকি, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দীপক কুমার ভৌমিক এবং সহকারী প্রকৌশলী-২ মো. সাইফুল ইসলাম। সাক্ষ্য গ্রহণকালে আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর জিহাদ পাইপের মধ্যে পড়ে গেলে মিডিয়ার কল্যাণে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরদিন দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান শিশুটি পাইপে নেই বলে ঘোষণা দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করেন জনৈক মজিদ, লিটু ও আনোয়ার। তাদের তৈরি একটি ক্যাচারের মাধ্যমে জিহাদকে টেনে তোলা হয়। 

ওই ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন ফকির ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর একটি মামলা করেন। চার মাসের মধ্যে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল শাহজাহানপুর থানার এসআই আবু জাফর জাহাঙ্গীর আলম এবং শফিকুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে অপর ৪ জনও দায়ী বলে নারাজী দাখিল করলে ২০১৫ সালের ৪ জুন সিএমএম আদালত ডিবি পুলিশকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাটি অধিকতর তদন্তের পর আসামীদের অভিযুক্ত করে ডিবি পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান গত ৩১ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর গত ৪ অক্টোবর ছয় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ