শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনের দুবলা পল্লীতে বিষমুক্ত শুঁটকি আহরণ

খুলনা অফিস : শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের দুবলা জেলে পল্লী। মাছ বাছা, কাটাসহ জেলে ও ব্যবসায়ীদের সমাগমে এখন ভিন্ন আমেজ বইছে সাগরপাড়ের দুর্গম এ চরাঞ্চলে। গভীর সমুদ্রে নানা প্রজাতির মাছ আহরণ আর শুটকি প্রক্রিয়া করণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলে-ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এ পল্লীতে উৎপাদিত হচ্ছে কীটনাশক ও বিষমুক্ত শুটকি। তাই দেশ ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও দুবলার শুটকির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আর্থিক ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না দুবলার জেলে ও শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। আর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে শুটকি প্রক্রিয়াকরণ এ শিল্পের প্রসারও ঘটছে না। জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, সাগরপাড়ের ৬টি চরে এ মওসুম শুরু হয় মূলত প্রতিবছর অক্টোবর মাসে। সমুদ্র যাত্রাসহ নানা প্রস্তুতিতে অনেক সময় লেগে যায় জেলে-ব্যবসায়ীদের। তাই জেলেরা মৎস্য আহরণ ও শুটকি প্রক্রিয়া শুরু করেছে চলতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে। কয়েক হাজার জেলে এখন সুন্দরবনের সাগর উপকূলে মৎস্য আহরণ ও শুটকি প্রক্রিয়া করতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। প্রতি বছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ মাসব্যাপী থাকে এ মওসুম। গত বছর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ শুটকি আহরণ মৌসুমে ৯ হাজার ৮৩৮ জন জেলের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ৮৮৫ টাকা রাজস্ব আদায় করলেও এবার মৌসুমে এ লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে দু’কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে বলে আশা করছে বনবিভাগ। জেলে ও মহাজন সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে এ বছর ১০-১৫ হাজার জেলে ও মৎস্য আহরণকারী জড়ো হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চর, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল¬া, মাঝেরকিল¬া, শেলার চর ও নারকেল বাড়িয়া চরে। সুন্দরবন অভ্যন্তরে ছয়টি মৎস্য আহরণ, শুটকি প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়ে এ দুবলা জেলে পল্লী। দুবলা জেলে পল্লীর জেলেরা নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুটকি তৈরির জন্য অস্থায়ী ডিপো ঘর ও মাচা তৈরি করেন। জেলেরা সমুদ্র মোহনায় বেহুন্দীসহ বিভিন্ন প্রকার জাল দিয়ে মাছ ধরে তা বাছাই করে মাছ শুটকি করে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার জেলে সুন্দরবন উপকূলে মৎস্য আহরণ ও শুটকি প্রক্রিয়া করতে সেখানে অবস্থান করছেন।  বনবিভাগ সূত্র জানায়, গত বছর শুঁটকি আহরণ মওসুমে প্রায় পৌনে দু’কোটি টাকার মত রাজস্ব আদায় হলেও এ বছর দু’কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার কুইন্টাল শুটকি আহরণ করেছিল জেলেরা। এ বছর আশা করা হচ্ছে ৩০ হাজার কুইন্টাল শুটকি আহরণ করা হবে।  পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, দুবলার চরে অবস্থানরত জেলেরা সুন্দরবনের গাছ দিয়ে ঘর তৈরি বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। গত শুটকি মৌসুমেও সুন্দরবনের গাছ ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি।  বন বিভাগের খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, জেলে ও মৎস্যজীবীরা পাস-পারমিট ছাড়া সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জেলেদের কাছ থেকে যদি সুন্দরবন বিভাগের কেউ অবৈধভাবে টাকা আদায় করে থাকে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে চলতি মওসুমের শুরুতেই নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ