মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

‘স্বামীর চাপে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে নারীরা’

স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, নারীরা স্বামীর চাপে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। স্বেচ্ছায় কোনো নারী জঙ্গিবাদে আসেননি। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছায় এখনো কোনো নারী জঙ্গিবাদে এসেছেন বলে আমরা তথ্য পাইনি। তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। নারীদের পারিবারিক খোঁজ নিয়েও তেমন কোনো তথ্য আসেনি। তবে আশকোনার সূর্য ভিলায় আত্মসমর্পণকারী দুই নারী পরিষ্কার কোনো তথ্য দিচ্ছেন না বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কয়েকজন জঙ্গির সাংগঠনিক নাম তারা বলেছেন। 

মনিরুল আরও বলেন, আশকোনায় যে নারী জঙ্গি আত্মঘাতী হয়েছে সে মূলত হতাশা থেকে এই পথ বেছে নিয়েছিল বলে আমরা ধারণা করছি। কারণ তার স্বামী মারা যাওয়ার পর জঙ্গি সুমনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সুমনের মাধ্যমে সে জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়েছিল। সুমনও কিছুদিন আগে গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এখন তার আর কোনও আশ্রয় থাকবে না বলেই সে আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের শীর্ষ এই কর্মকর্তা বলেন, এর আগে আজিমপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া নারীরা তাদের জবানবন্দিতে স্বামীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তানভীর কাদেরী জানিয়েছিল, জঙ্গিবাদে যুক্ত না হলে সে তাকে ছেড়ে দিতো। সামাজিক ও আত্মীয়স্বজনের কাছে লজ্জিত হওয়ার ভয়ে সে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হয়। একই রকম তথ্য জানিয়েছিল আরেক শীর্ষ জঙ্গি মারজানের স্ত্রী প্রিয়তিও।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আশকোনার আস্তানায় অস্ত্র ও গ্রেনেড মুজদ করার কারণ জানতে দুই নারী জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এসব কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং তাদের পরিকল্পনা কী ছিল তা মুসাকে না ধরা পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছু বলা যাবে না। প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি বড়দিন উপলক্ষ্যে তারা কোথাও হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কারণ সুইসাইডাল ভেস্ট ও গ্রেনেডগুলো রেডি করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পেরেছে আশকোনার বাসাটি মুসা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। মুসা বাসাটি অফিস কাম বাসা হিসেবে ব্যবহার করতো। সাংগঠনিক কাজে সে বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকলেও মাঝে মধ্যে সে ওই বাসায় আসতো। তার সঙ্গে আরও কয়েক সঙ্গী সেখানে আসতো। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের আস্তানা এবং নেতাকর্মী ও এক্টিভিস্টরা ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসছে। আমরা নিয়মিত নজরদারি মাধ্যমে জঙ্গিদের দমন করার চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত ১২টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট দক্ষিণখান থানার পূর্ব আশকোনার ৫০ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে এক নারী ও এক কিশোর জঙ্গি নিহত হয়েছে। পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে দুই নারী ও তাদের দুই সন্তান। নিহত নারী জঙ্গির আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে আহত হয় তার শিশুকন্যা। ওই শিশুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ