শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রাজধানীতে যানজটে বছরে ক্ষতি ২৭২৪ কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে যানজট ও গাড়ির ধীর গতির কারণে প্রতিমাসে ক্ষতি হচ্ছে ২২৭ কোটি টাকা। বছরে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্ন্যান্স এন্ড ডেভলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ‘নগর পরিস্থিতি ২০১৬ : ঢাকা মহানগর যানজট-শাসন-ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। 

প্রধান গবেষক ড. শাহনেওয়াজ হোসেন বলেন , ঢাকার যানজটে কতটা সময় ব্যয় হয়, তাতে আর্থিক ক্ষতি কী হয় এবং কোন ধরনের যানজট ব্যবস্থাপনায় আসলে খুব বেশি অর্থের দরকার হয় না সেটি দেখার চেষ্টা করা হয়েছে গবেষণায়। যানবাহন ব্যবস্থাপনায় ৩০টিরও বেশি এজেন্সি কাজ করছে, তাদের মধ্যে ৬টি ভালোভাবে কাজ করছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে এবং একের কাছে অপরের জবাবদিহিতারও অভাব রয়েছে।

শাহনেওয়াজ হোসেন বলেন, ঢাকার যানজট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে হকারদেরকে দায়ী করা হয়, বাহ্যিকভাবে দেখা যায় এরা নিয়ন্ত্রণাধীন নেই। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকায় যে আড়াই লাখের মতো হকার রয়েছে, তারা সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, এই আড়াই লাখের মতো হকারকে যদি আমরা সুনির্দিষ্ট একটা ব্যবস্থার মধ্যে আনতে পারি তাহলে মাসিক পাঁচ কোটি টাকা তোলা যাবে এবং এই টাকা ট্রাফিক ম্যানজমেন্ট বা যানজট নিরসনে ব্যবহার করা যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দর থেকে পোস্তগোলা ভায়া গুলশান, মহাখালী, গুলিস্তান এবং বুড়িগঙ্গার সড়কটি ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই রুটে অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত সময়ে (অফপিক আওয়ারে) গাড়ির গতিসীমা থাকে ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার, তবে পিক আওয়ারে যানজটের কারণে গতিসীমা কমে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার। 

গাড়ির এই ধীর গতির কারণে প্রতিমাসে ২২৭ কোটি বা ২৮ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিবার যাতায়াতে একজন যাত্রীকে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য জনপ্রতি ৫৩ টাকা। এটা গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অতিরিক্ত খরচ। ২০০৪ সালে ঢাকায় গাড়ি চলাচলের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ দশমিক ২ কিলোমিটার। ২০১৫ সালে এই গতি নেমেছে ঘণ্টায় ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটারে।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে ঢাকার যানজটের জন্য বিশেষত তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, প্রাইভেট কার দিয়ে সড়কের জায়গা দখল এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন। প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকার ৯৮ দশমিক ৩ ভাগ গণপরিবহন ও ৬৮ ভাগ প্রাইভেট কার ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে। নতুন এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল যান শৃংখলা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই রাজধানী ঢাকার ভয়াবহ যানজট অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। ব্যয়বহুল প্রকল্প জরুরি নয়।

এতে আরো বলা হয়েছে, গণপরিবহনের অনেক চালক গাড়ি পার্কিংয়ের নিয়ম, গতিসীমা, গাড়ি চালানোর সময় কী কী কাগজ প্রয়োজন সেগুলো জানে না। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, বিআরটিএ-তে চালক ও গাড়ির লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা ‘দালাল’ দ্বারা প্রভাবিত, যারা টাকার বিনিময়ে এমনকি পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স সরবরাহ করে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), দুই সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথোরিটি (ডিটিসিএ), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং যাত্রীদের কেস স্টাডি, মাঠ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়। এতে ৭৭৪ জন পরিবহন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ