শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ আদলে আজ ৬১ জেলা পরিষদে নির্বাচন

  • নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক, ভোট কিনতে টাকার ছড়াছড়ি
  • ইতোমধ্যে ২২ চেয়ারম্যান, ১৯২ কাউন্সিলর বিনাভোটে নির্বাচিত

সরদার আবদুর রহমান : ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ তথা বেসিক ডেমোক্রেসির আদলে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর পদে আজ বুধবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোটার হয়েছেন। এতে মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজারের বেশি। 

৬০-এর দশকে তৎকালীন পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট আইউব খান এই আদলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন। এই পদ্ধতির তিনি নামকরণ করেছিলেন ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ বা বেসিক ডেমোক্রেসি। এই জেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে বলে জানা গেছে। ভোট কিনতে টাকার ছড়াছড়ি চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমান জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় ১৫ জন সাধারণ ও ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। এ হিসেবে সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য প্রত্যেকটি জেলাকে ১৫টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের জন্য জেলাকে ৫টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। আর ভোটার হয়েছেন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও সদস্যগণ। জেলা পরিষদ নির্বাচনে কেবল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ হিসেবে স্থানীয় সরকারের ৪টি প্রতিষ্ঠানের মোট ভোটারের সংখ্যা ৬৩ হাজার ১৪৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৪৮ হাজার ৩৪৩ জন ও নারী ১৪ হাজার ৮০০ জন। সবচেয়ে বেশি ভোটার হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। দেশে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৭১টি। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গড়ে ১৩ জন করে প্রায় সাড়ে ৫৯ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছে। এভাবে ৪৮৮টি উপজেলা পরিষদে প্রায় দেড় হাজার, ৩২০টি পৌরসভায় সাড়ে ৩ হাজার এবং ১১টি সিটি কর্পোরেশনে সাড়ে ৪শ’ নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন।

এই নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এবার নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটার নন, ফলে তারা নিজেকেও ভোট দিতে পারবেন না। আবার যারা ভোটার হয়েছেন তারা প্রার্থী হতে পারেননি। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন ১৪৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী রয়েছেন ৩ হাজার ৭৯০। এই নির্বাচনে বেশির ভাগ জেলা পরিষদেই সরকার দলীয়রাই প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বী। ইতোমধ্যে ২২ জন চেয়ারম্যান, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৯ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৩ জন ১৯২ জন কাউন্সিলর বিনা ভোটে অর্থাৎ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এরা প্রধানত সরকারদলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এই নির্বাচনের বাইরে রয়েছে। ফলে নির্বাচনের জন্য লড়তে হবে ৩৯ জেলায় চেয়ারম্যান পদে ১২৪ জন, কাউন্সিলর পদে ২,৯৮৬ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮০৬ জন প্রার্থীকে। এ ছাড়া ১৬টি জেলায় মাত্র দু’জন করে প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন, নারায়ণঞ্জে আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরে মো: আখতারুজ্জামান, ঠাকুরগাঁওয়ে সাদেক কোরাইশী, জয়পুরহাটে আরিফুর রহমান রকেট, নাটোরে সাজেদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, যশোরে শাহ হাদিউজ্জামান, বাগেরহাটে শেখ কামরুজ্জামান টুকু, ঝালকাঠিতে সরদার শাহ আলম, ভোলায় আব্দুল মোমিন টুলু, নেত্রকোনায় প্রশান্ত কুমার রায়, মুন্সীগঞ্জে মো: মহিউদ্দিন, দিনাজপুরে আজিজুল ইমাম চৌধুরী, নওগাঁয় এ কে এম ফজলে রাব্বি, কুষ্টিয়ায় রবিউল ইসলাম, ফেনীতে আজিজ আহমেদ চৌধুরী, কিশোরগঞ্জে মো: জিল্লর রহমান, ঢাকায় মো: মাহবুবুর রহমান, হবিগঞ্জে মুশফিক হুসেন চৌধুরী, চট্টগ্রামে এম এ সালাম, টাঙ্গাইলে ফজলুর রহমান খান ফারুক ও ফরিদপুরে মো: লোকমান মৃধা।

মৌলিক গণতন্ত্রের আদল?

‘জেলা পরিষদ’ একটি স্থানীয় সরকার পদ্ধতি। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুুব খান একটি নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ ১৯৫৯ জারি করেন। অবশ্য পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশ এ সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা পোষণ করতো এবং তারা একে জেনারেল আইয়ুব খান এবং তাঁর সহযোগী কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটি সুনিপুণ কৌশল হিসেবেই গণ্য করতো। শুরুতে মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি পাঁচ স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা। নিম্ন থেকে শুরু করে এ স্তরগুলো ছিল, পল্লী এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌর এলাকায় শহর ও ইউনিয়ন কমিটি, পূর্ব পাকিস্তানে থানা পরিষদ ও পশ্চিম পাকিস্তানে তহসিল পরিষদ, জেলা পরিষদ, বিভাগীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক উন্নয়ন উপদেষ্টা পরিষদ। সারা দেশে সর্বমোট পরিষদের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩০০টি। তৎকালীন ছিল জেলা পরিষদগুলোতে একজন চেয়ারম্যান এবং সরকারি ও বেসরকারি সদস্যদের নিয়ে এ পরিষদ গঠিত হতো। সদস্যদের সংখ্যা ৪০-এর বেশি হতো না। সকল থানা পরিষদের চেয়ারম্যানই সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের সদস্য থাকতেন এবং উন্নয়ন বিভাগের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অন্যান্য সরকারি সদস্য মনোনীত হতেন এবং সমান সংখ্যক সদস্য মনোনীত হতেন বেসরকারি সদস্যদের মধ্য থেকে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকার বলে এ পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন এবং পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা। পাকিস্তানে ৭৪টি জেলা পরিষদ ছিল। মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর ছিল জেলা পরিষদ। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এই যে, এটি রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ এবং দু’টি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচনের জন্য পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৮০ হাজার সদস্য সমন্বয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করে। মৌলিক গণতন্ত্র স্থানীয় সরকারের ভিত্তি হিসেবে বলবৎ থাকা ছাড়াও জনগণের সমর্থন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারকে বৈধতা দানের জন্য রাজনৈতিক ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতো। ১৯৬০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য যে রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হয়, তাতে মৌলিক গণতন্ত্রীরা আইয়ুুব খানের পক্ষে রায় দেয়। গ্রাম ও শহরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক জনগণ মৌলিক গণতন্ত্রী কর্তৃক একচেটিয়া নির্বাচনী অধিকার প্রয়োগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। যার ফলে ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে। মৌলিক গণতন্ত্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুধু যে আইয়ুব সরকারকে বৈধতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, বরং ১৯৬৯ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের পতনের পর এর নিজস্ব বৈধতাও হারিয়ে ফেলে। 

জেলা পরিষদের ইতিহাস

ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জেলা পরিষদ থাকলেও ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের অধীন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডকে নতুন আঙ্গিকে পরিণত করে ডিস্ট্রিক কাউন্সিল নামকরণ করা হয়। এ ব্যবস্থায় ১৯৬৩ সালে জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনটিও হয়েছিল স্থানীয় সরকারের নিম্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে। এরপর ১৯৬৬ সালে দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালে নির্বাচিত পরিষদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জেলা প্রশাসককে এর প্রশাসক করে ডিস্ট্রিক কাউন্সিলের যাবতীয় কাজ পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা দেয়া হয়। ডিস্ট্রিক কাউন্সিলের স্থলে জেলা বোর্ড নামকরণ করা হয়। ১৯৭৬ সালে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং জেলা বোর্ডের নামকরণ করা হয় জেলা পরিষদ। পরে এরশাদ সরকারের সময় স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, ১৯৮৮ পাস হয়। ওই আইনেও পাকিস্তান আমলের মতো পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্য নির্বাচনের বিধান করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকার নির্বাচন না করে দলীয় সংসদ সদস্যদের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ওই আইনটি বাতিল করে জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে দেয়। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০০০ সালে আবারো জেলা পরিষদ আইন পাস করে। তবে নির্বাচন দেয়ার আগে আবারো বিএনপি ক্ষমতায় এলে আইনটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় এসে জলা পরিষদ সক্রিয় করে এবং ২০১১ সালে দেশের ৬১টি জেলায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয়। প্রশাসক নিয়োগের ৫ বছরের মাথায় ক্ষমতাসীন এ দলটি পরিষদের নির্বাচনের উদ্যোগ শুরু করে।

নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক

এবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সরকারপন্থী স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক প্রার্থী এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় এমপিদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে কমিশন থেকে স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়া ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আচরণবিধি অনুযায়ী এ নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা প্রচার চালাতে পারবেন না। আবার তারা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি না হওয়ায় ভোটও দিতে পারছেন না। এজন্য স্থানীয় এমপিদের এলাকা ত্যাগের জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে দেশের অন্যকোন রাজনৈতিক দল অংশ না নিলেও ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে এ নির্বাচনে এমপিদের বিরুদ্ধে ভোট কেনাবেচা থেকে শুরু করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে ভোটাররা ভোট কেনাবেচায়ও বেশ দর কষাকষি করছেন। জানা গেছে, ভোটাররাও যেসব প্রার্থীর কাছ থেকে বেশি টাকা পাচ্ছেন তাকেই ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আবার প্রার্থীরা ভোট কিনে নিশ্চিত হচ্ছে না। যার কাছ থেকে ভোট কিনেছেন তিনি সত্যি ভোট দিয়েছেন কিনা তা যাচাই করতে ব্যালট পেপারে বিশেষ চিহ্ন দেয়ার অঙ্গীকার আদায় করে নিচ্ছেন। এমনকি প্রার্থীরা যারা ভোট কিনেছেন তারাও ভোটারদের ভোট দেয়ার পর চিহ্ন দেয়া ব্যালটের ছবি তুলে আনতে বলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকাশ্যে ভোট না দিলে হুমকি দিচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট কেনার নামে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অল্পসংখ্যক ভোটার হওয়ায় প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে মোটা অঙ্কের টাকাসহ উপহার বিতরণ ও ভুরিভোজের ব্যবস্থাও করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ইসি। রাজশাহীর একটি খবরে জানা যায়, এখানে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলুর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আ’লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে লিখিতভাবে কিছু অভিযোগ করেন। মোহাম্মদ আলী তাঁর অভিযোগে বলেন, গত রোববার তানোর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনী সভা করেন মাহবুব জামান ভুলু। এ সময় তিনি তার পক্ষে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি তাদের ভুরিভোজ করান। পরে তিনি শুধু চেয়ারম্যানদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। অভিযোগপত্রে মোহাম্মদ আলী সরকার আরো বলেন, সরকারি অডিটোরিয়াম ও ইউএনওর কার্যালয় ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোয় নির্বাচনী আচরণবিধির ৬ এর (খ) ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। এ ছাড়া ভোটারদের ভুরিভোজ করিয়ে ভুলু নির্বাচনী আচরণবিধির ১৭ এর (খ) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এ ধরনের বিধিবহির্ভূত প্রচারণায় তার সমূহ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য ভুলুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জের খবরে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংক্ষিপ্ত সফরে এসে ব্যারিস্টার ইমন প্যানেলে ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গত সোমবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে দুপুর ১২টায় তার নির্বাচনী এলাকার শাল্লা ও বেলা ২টায় দিরাই পৌঁছান তিনি। এ সময় জনপ্রতিনিধিদের সাথে পৃথক মতবিনিময় করেন। দিরাইয়ে নিজ বাসভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের ডেকে দফায় দফায় বৈঠক করে সবাইকে ব্যারিস্টার ইমন প্যানেলে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি জেলায় ১৫টি করে ভোটকেন্দ্র থাকবে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনী কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করবে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রকে ঘিরেই নিরাপত্তা বলয় থাকবে। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ ও ব্যালটে কোনো চিহ্ন দিলে তা বাতিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোটারকে তল্লাশি করে তা নিশ্চিত করবেন। ব্যালট পেপারের কোথাও কোনো প্রকার চিহ্ন ব্যবহার করলে তা বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ