মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

শ্রীপুরে কেমিক্যাল কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ

শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা : ক্যামিক্যল কার খানার রাসায়নিক পদার্থের বিষ ক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ মরছে গাছ পালা গবাদি পশু। নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। দেবে যাচ্ছে বসত ঘর ফসলের মাঠ। ভূ গর্ভস্থ পানি দূষণের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে নলকূপ। বিষাক্ত গ্যাসের দূর্গন্ধে বাড়ী ঘর ছাড়তে হয় গ্রামবাসীদের। পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশংকায় গত দু‘দিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করছে গ্রামের মানুষ। পরিবেশ বিনষ্ট করার  গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের আজিজ গ্রুপের এ.এস.এম ক্যামিক্যল কারখানার বিরুদ্ধে।
শনিবার দুপুুরে সরেজমিনে গিয়ে গ্রামবাসী ও ভুক্ত ভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায় ওই কারখানার যাত্রা লগ্ন থেকে পরিবেশ দূষণ শুরু করে। প্রথম দিকে আশ পাশ এলাকায় ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিলেও এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে গ্রামের পাঁচশতাধিক পরিবার ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
গ্রামবাসীরা জানায় কারখানার বিষাক্ত গ্যাসে মরে যাচ্ছে আশ পাশের গাছ পালা। বিষাক্ত বর্জ পানির লাইন ভূ-গর্ভস্থ পানির লেয়ারের সাথে সংযোগ করে দেয়ায় দূষিত হয়ে গেছে ভূ-গর্ভের পানি। নলকূপ দিয়ে উঠে আশে দূর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পানি। বার বার গভীর নলকূপ স্থাপন করেও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেনা গ্রামের মানুষ।  এ পানি পান করে মারা যাচ্ছে গবাদী পশু। নষ্ট হয়ে যাছে গর্ভবতী মায়ের ভ্রুণ। টেপিরবাড়ী গ্রামের মামুন জানায় কারখানার বিষাক্ত পানি আর গ্যাসে তার পাঁচ বিঘা জমির বাগানের গাছ মরে গেছে।  সৈয়দ আহাম্মদ বলেন তার বাড়ীর বসতঘর মাটির নিচে দেবে যাচ্ছে।বাপ্পি জানান তার বাড়ীর চারটি ঘর সহ বসত ভিটা ক্রমেই দেবে যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর জানায় তার দু‘টি গরু পানির বিষক্রিয়ায় মারা গেছে।বাবুল মিয়া বলেন কারখানা থেকে এমন দূর্গন্ধ বের হয় ফলে নি:শ্বাস নেয়া বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাসের গন্ধে সময় সময় মানুষ বাড়ী ঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ কারখানা কর্তৃপক্ষ ভিতরে পুকুর খনন করে তার তলায় বোরিং করে ভূ-গর্ভের পানির লেয়ারে সংযোগ করে দেয়ায় সহজেই বিষাক্ত পানি ভূ-গর্ভে মিশে যাচ্ছে। বাপ্পি মিয়া জানায় ভূ-গর্ভের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কারখানা থেকে তিন চার‘শ পরিবারকে পানি সরবরাহ করা হয়। এ পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী।স্থানীয়রা জানায় বিষাক্ত পানি ব্যবহার করে ছড়িয়ে পড়ছে পানি বাহিত রোগের পাশাপাশি দূরারোগ্য চর্মরোগ। সরেজমিনে দেখা গেছে ওই কার খানার আশপাশ এলাকায় বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে গাছের পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ঘরের দেয়াল চালের টিন। কারখানার ম্যানেজার এডমিন মোকারম হোসেন গ্রাম বাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন  এখানে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড,স্টেবল ব্লিচিং পাউডার,ক্লোরিনয়েড প্যারাফিন উৎপাদন হয়। যান্ত্রীক ত্রুটির কারণে ক্লোরিন গ্যাস লিকেজ  হয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করেছিল তাই  আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যন আঃ বাতেন সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন
পানি পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ