বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

হার দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফর শুরু টাইগারদের

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিউজিল্যান্ড সফরের শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। হার দিয়েই টাইগারদের শুরু হলো নিউজিল্যান্ড সফর। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৭৭ রানে। ফলে প্রথম ম্যাচে বড় জয় নিয়ে স্বাগতিকরা সিরিজে এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। গতকাল ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে করে ৩৪১ রান। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল ৩৪২ রান। ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২৬৪ রানে অলআউট হলে নিউজিল্যান্ড জয় পায় ৭৭ রানে। বাংলাদেশ খেলতে পারেনি পুরো ৫০ ওভার। ৪৪.৫ ওভারেই অল আউট হয় বাংলাদেশ।
জয়ের জন্য ৩৪২ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জের সামনে নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৩৪ রানে বাংলাদেশের ওপেনার ইমরুল কায়েস ব্যক্তিগত ১৬ রানে আউট হলে উইকেট পতন শুরু টাইগারদের। টিম সাউদির বলে লুক রনকির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন কায়েস। ম্যাচের শুরুতেই জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি কায়েস। দলীয় ৩৪ রানে ফিরেই যেতে হয়েছে তাকে। দলীয় ৪৮ রানে বাংরাদেশ হারায় দ্বিতীয উইকেট। এবার বিদায় নেন সৌম্য সরকার। বরাবরের মতোই ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন সৌম্য। জেমস নিশামের বলে মিডঅফে কেন উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৮ বলে ১ রান করে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। সৌম্য আউট করার পর দলীয় ৪৮ রানেই ফিরতে হয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। সৌম্য ১ রান করলেও রানের খাতা খোলার আগেই মাঠ ছাড়েন রিয়াদ। মাহমুদউল্লাহকেও বিদায় করেছেন নিশাম। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে গিয়ে উইকেটরক্ষক রনকিকে ক্যাচ দেন রিয়াদ। ফলে ৪৮ রানে প্রথম তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংরাদেশ।  তবে সাকিব-তামিম মিলে দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু আবারও বাংলাদেশ শিবিরে নিশামের সফল আঘাত। এবারতামিম ইকবালকে ফেরান তিনি। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে সুন্দর একটি জুটির গড়ার সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলেন তামিম। তবে ১৮তম ওভারে নিশামের শেষ বলে ডিপ পয়েন্টে মিচেল স্যান্টনারের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তামিম। আউট হওয়ার আগে তিনি ৫টি চারের মারে ৫৯ বলে ৩৮ রান করেন। তামিম আউট হলেও দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার ব্যাটে ভর করেই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ দল। তবে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকা হয়নি সাকিবের। দলীয় ১৪৪ রানে ফার্গুসনের বলে সাউদির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে তিনি ৫৪ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কার মারে করেন ৫৯ রান। দলের পক্ষে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। সাকিবের আউটের পর মুশফিকের সঙ্গে যোগ দিতে আসেন সাব্বির রহমান। তবে বেশি সময় থাকতে পারেননি সাব্বির। একটি ছক্কার মারে ১০ বলে ১১ রান করে ফার্গুসনের বলে বোল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিলেন সাব্বির।  ফলে বাংলাদেশের দলীয় ১৬৭ রানে হারায় ৬ উইকেট। ফলে দলে শেস বরসা ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে সতর্কভাবে খেলে দলে রান যোগ করছিলেন তিনি। তবে ৩৯তম ওভারে সাউদির দ্বিতীয় বলে ১ রান নিতে গিয়ে পায়ে চোট পান মুশফিক। ফলে মুশফিক রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। তিনি ৩টি চারের মারে ৪৮ বলে ৪২ রান করেন তিনি। মুশফিক রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরলে মাঠে নামেন দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। তবে তিনি ৩টি চারের মারে ১৪ রান করেই আউট হন। তবে ব্যাট করতে নেমে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ দিকে তার ব্যাটে ভর করেই হারের ব্যবধান কিছুটা কমায় বাংলাদেশ দল। তিনি ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মারে ৪৪ বলে ৫০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। মোসাদ্দেকের ৫০ রানের উপর নির্ভর করে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২৬৪ রান। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে জেমস নিশাম ও লকি ফার্গুসন ৩টি করে উইকেট নেন। আর টিম সাউদি ২টি ও মিচেল স্যান্টনার ১টি উইকেট নেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩৪১ রানের  বিশাল স্কোর গড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে ইনজুরি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরে উইকেট পেতে কিন্তু সমস্যা হয়নি মোস্তাফিজুর রহমানে। বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট কিন্তু এনে দেন মোস্তাফিজই। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তিনিই কিউইদের ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলকে ফিরান।  মোস্তাফিজের স্লোয়ার বলে ব্যক্তিগত ১৫ রানেই বিদায় নেন ওপেনার গাপটিল। দলের হয়ে বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি কেন উইলিয়ামস। তিনি আউট হন ৩১ রানে। এরপর নেইল ব্রুম ২২ রানে ও জেমস নিশাম ১২ রানে আউট হন। ফলে ২৯ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে কিউইদের স্কোর ছিল ১৫৮ রান। তবে পঞ্চম উইকেটে ১৫৮ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ান ল্যাথাম ও মুনরো। ৪৭তম ওভারে সাকিব যখন এই জুটি ভাঙেন। কিন্তু এর আগেই নিউজিল্যান্ড তুলে নেয় ৩১৬ রান। ৬১ বলে ৮৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে এসেছে কলিন মুনরোর ব্যাট থেকে। ল্যাথাম পূর্ণ করেছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক। ৪৮তম ওভারে মুস্তাফিজের শিকার হয়ে সাজঘরে  ফেরার আগে তিনি খেলেছেন ১২১ বলে সেঞ্চুরিসহ ১৩৭ রানের ইনিংস। এটি তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। মিচেল স্যান্টনারের ৮ ও টিম সাউদির ৭ রানে ভর করে কিউইদের শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড করে ৩৪১ রান। ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরে পুরো ১০ ওভারই বল করেছেন মোস্তাফিজ। ১০ ওভার বল করে তিনি ৬২ রানে নিয়েছেন দুটি উইকেট। আর ১০ ওভার বল করে ৬৯ রান খরচে সাকিব নিয়েছেন তিনটি উইকেট। বাকি দুটি উইকেট গিয়েছে তাসকিন আহমেদে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
নিউজিল্যান্ড : ৩৪১/৭, ৫০ ওভার (লাথাম ১৩৭, মুনরো ৮৭, সাকিব ৩/৬৯)।
বাংলাদেশ : ২৬৪/১০, ৪৪.৫ ওভার (সাকিব ৫৯, মোসাদ্দেক ৫০*, নিশাম ৩/৩৬)।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৭৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : টম লাথাম (নিউজিল্যান্ড)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ