বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

৬দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মধ্যপাড়া খনি বাঁচাও এলাকা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির মানববন্ধন

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি প্রকল্পটি দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় খনিটি দ্রুত চালুকরণ, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন বোনাস পরিষদসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে মধ্যপাড়া খনি বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গতকাল সোমবার খনি গেটে ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন করেন -সংগ্রাম

ফুলবাড়ী দিনাজপুর সংবাদদাতা : দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা পাথর খনিতে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে মধ্যপাড়া খনি বাঁচাও, এলাকা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মধ্যপাড়া পাথর খনির মূলগেটের সামনে মধ্যপাড়া খনি বাঁচাও এলাকা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মোঃ আফজাল হোসেন (মাস্টার) এর নেতৃত্বে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক মানব বন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মধ্যপাড়া খনি বাঁচাও এলাকা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মোঃ আফজাল হোসেন (মাস্টার), তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের এক মাত্র পাথর খনি মধ্যপাড়া, সেই খনিটি চালু ছিল, কিন্তু খনিটি একটি বেসরকারি কোম্পানী জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোটিয়াম (জি টি সি)দায়িত্ব  হাতে নেয়ার পর খনিটি কিছুদিন চালু থাকলেও দীর্ঘ দেড় বৎসর ধরে বন্ধ রয়েছে। খনিটিতে বিভিন্ন পদে ৬শত শ্রমিক কাজ করে আসছে। কিন্তু খনিটির উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবতর জীবনযাপন করছে। তিনি আরও বলেন এই খনির পাথর দিয়ে পদ্মাসেতু নির্মাণ করার কথা ছিলো। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে দেশের বাইর থেকে পাথর চড়াদামে কিনে এনে কাজ করা হচ্ছে। উত্তর করিয়ার “নাম নাম” কোম্পানী খনিতে কাজ করা কালে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেয়া হয়নি। খনিতে কিছু দুর্নীতি বাজ কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রে খনিটি বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। শ্রমিকদের স্বার্থে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ত্বরাম্বিত করার লক্ষে অনতিবিলম্বে ৬ দফা দাবী বাস্থবায়ন করার দাবি জানান। তারা ৬ দফা দাবি আদায়ে বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি প্রদান করেন।

৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুর্বের ন্যায় ১ম, ২য় ও ৩য় শিপ্ট চালু করে শ্রমিকদের কাজে নিয়োগ দিতে হবে, দেড় বৎসর ধরে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতাসহ উৎসব বোনাস পরিশোধ করতে হবে, যে সমস্ত অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে পারছেনা তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নিতে হবে, খনি উত্তোলনে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং কাজে বাস্তব পারদর্শী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করতে হবে, অনভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি কোম্পানীর সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করতে হবে, ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি প্রদান সহ অধিগ্রহণ কালীন বকেয়া পাওনা বর্তমান মূল্যে পরিশোধ করতে হবে, ব্লাস্টিং এর কারণে যে সকল বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে তা নির্মাণে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তৎ সঙ্গে খনি হতে নিষ্কাশিত পানি ড্রেনের মাধ্যমে বের করে দিতে হবে। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মধ্যপাড়া খনি বাঁচাও, এলাকা বাঁচাও সংগ্রাম পরিশোধের সাধারণ সম্পাদক রাজু সাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জিয়াউর রহমান।  এ দিকে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের একজন কর্মকর্তার সাথে গতকাল সোমবার মানব বন্ধন কর্মসূচি বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, খনিটির ভূগর্ভস্থ উন্নয়নমূলক কাজ চলছে শ্রমিকরা পর্যায় ক্রমে কাজে যোগদান করছে অচিরেই মধ্যপাড়া খনিটি উৎপাদনে যাবে।  এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের জি এম (প্রশাসন), জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোটিয়াম (জিটিসি)’র জাবেদ সিদ্দিকী এর  সাথে গতকাল সোমবার মোবাইল ফোনে কথা বললে  তিনি জানান, আমি একটি মিটিংয়ে আছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ