বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করলো ইন্দোনেশিয়া

২৬ ডিসেম্বর,রয়টার্স/ফ্রান্স ২৪: এক যুগ আগে প্রলয়ঙ্করী সুনামিতে নিহতদের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে স্মরণ করেছে ইন্দোনেশিয়ার  হাজারো মানুষ।
সোমবার ইন্দোনেশিয়ার মসজিদ ও গণকবরের সামনে লোকজন তাদের হারানো স্বজনদের উদ্দেশ্যে কুরআন তেলাওয়াত করেন।
প্রায় ১২ বছর আগে ওই সুনামিতে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। ওই সুনামিটি ইতিহাসের স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়ভহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
যাদের স্বজনরা এখনো তাদের হারানোর ব্যাথা ভুলতে পারেনি। আর সেজন্যই প্রতি বছর এই দিনে ইন্দোনেশিয়ার লোকেরা তাদের হারানো স্বজনদের স্মরণ করেন।
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উলে লিহিউ গণকবরে যেখানে প্রায় ১৫ হাজার  মানুষকে গণকবর দেওয়া হয়েছে। গণকবর দেওয়া নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। উলে লিহিউ গণকবরে স্বজনদের জন্য প্রার্থনা করতে আসা ৬৫ বছরের মরিয়ম জানান, তিনি প্রতি বছর এখানে এসে প্রার্থনা করেন।
ভয়ঙ্কর সেই সুনামিতে মরিয়ম ছেলে, বউ ও তিন নাতি-নাতনিকে হারান।  মরিয়ম তাদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রতি বছর উলে লিহিউ গণকবরস্থানে প্রার্থনা করেন।
এক যুগ পরও থাইল্যান্ডে শনাক্তহীন সুনামির ৪০০ লাশ : এশিয়ায় ২০০৪ সালে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী সুনামিতে নিহত দুই লাখ ২৬ হাজার মানুষের মধ্যে অন্তত ৪০০ জনের লাশ এখনও শনাক্তহীন অবস্থায় থাইল্যান্ডে রয়ে গেছে। গককাল সোমবার দেশটির পুলিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছে।
১২ বছর আগে ২৬ ডিসেম্বর ইন্দোনেশীয় উপকূলে ৯১৫ মাত্রার একটি প্রচণ্ড শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভারত মহাসাগরজুড়ে একটি সুনামি ছড়িয়ে পড়ে। এই সুনামিতে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় তা বিশ্বের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম।
ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। থাইল্যান্ডে পাঁচ হাজার ৩৯৫ জন মানুষ নিহত হন। এদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার জনই পর্যটক।
“২০০৪ সালের সুনামির পর থেকে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ চার থেকে পাঁচ হাজার স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি মৃতদেহ আমরা শনাক্ত করতে পারিনি,” বলেন থাইল্যান্ডের ফাং নগা প্রদেশের টাকুয়া পা জেলার ডেপুটি পুলিশ সুপার আনন্দ বুনকেরকায়েও।
থাইল্যান্ডের পর্যটন এলাকাগুলো সুনামিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। সুনামির আঘাতে যেসব হোটেল বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর জায়গায় নতুন হোটেল তৈরি হয়েছে। ভরা পর্যটন মওসুমে সেখানে পর্যটকে ছেয়ে গিয়ে আগের মতোই ব্যবসা চলছে।
চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ তিনি কোটি ২৪ লাখ বিদেশি পর্যটক আসবে বলে আশা করছে দেশটি।
সমালোচকরা বলছেন, থাইল্যান্ডের সুনামি সতর্কতা জারির ব্যবস্থা আগের মতোই অপর্যাপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতার কথাই বলেছেন তারা।
অপরদিকে থাই সরকারের দাবি, সতর্কতা জারির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ