বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

আত্মসমর্পণকারী দুই নারী ৭ দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানকালে আত্মসমর্পণকারী দুই নারীর সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চান কাউন্টার টেররিজমের পরিদর্শক সাইদুর রহমান। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মেহের নিগার সূচনা তাদের প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামী দুই নারী জঙ্গি হলো- মেজর জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার ওরফে শীলা ওরফে সুমাইয়া ওরফে মারজুন (৩৪) ও মাইনুল ইসলাম ওরফে আবু মুসার স্ত্রী তৃষামনি ওরফে উম্মে আয়শা (২২)।

এর আগে দুপুর ৩টার দিকে ওই দুই প্রশিক্ষিত জঙ্গিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। এর বিপরীতে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক সাইয়েদুর রহমান। আদালতে উপস্থিত হওয়ার সময় জেবুন্নাহার ওরফে শীলার শিশুকন্যা এক বছর চার মাস বয়েসী মারিয়াম বিনতে জাহিদ ও তৃষামনির কন্যা জুরাইরিয়া (৪ মাস) তাদের সঙ্গে ছিল। আসামীপক্ষে কোনও আইনজীবী ছিল না। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর দুই আসামী পুলিশী হেফাজতে আদালত ত্যাগ করে।

শুক্রবার গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ খানের পূর্ব আশকোনায় পুলিশ অপারেশন রিপল ২৪ পরিচালনা করে। পুলিশ জানায়, এ সময় জঙ্গি সুমনের স্ত্রী নারী জঙ্গি সারিকা তার শিশু সন্তানকে নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে পরনের সুইসাইডাল ভেস্টটির বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিযান চলাকালে গুলীতে নিহত হয় আফিফ কাদেরী নামে আরেক কিশোর। আফিফ কাদেরী আজিমপুরে নিহত তানভীর কাদেরীর ছেলে। শীলা ও তৃষামনি পুলিশের কাছে সসন্তান আত্মসমর্পণ করে। 

গুলীতে নিহত কিশোর জঙ্গি : এদিকে আশকোনায় নিহত কিশোর ছেলেটি গুলীতে নিহত হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা গেছে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ময়নাতদন্ত শুরু করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।

বেলা ২টার দিকে সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর দক্ষিণখানে নিহত কিশোর জঙ্গিকে আমরা অজ্ঞাত (১৪) হিসেবে পেয়েছি। তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহত কিশোরের শরীরের একাধিক জায়গায় গুলীর চিহ্ন রয়েছে। তার শরীর থেকে একটি তাজা গুলী পাওয়া গেছে। এ গুলীতেই তার মৃত্যু হয়েছে। যেহেতু তাকে আমরা অজ্ঞাত হিসেবে পেয়েছি, সেজন্য তার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য চুল, দাঁত, থাই মাসল সংগ্রহ করা হয়েছে। সে কোনো উত্তেজক ওষুধ বা শক্তিবর্ধক দ্রব্য সেবন করেছে কি না, এজন্য ইউরিন ও ব্লাড সংগ্রহ করা হয়েছে। কেমিকেল অ্যানালাইসিসের জন্য ভিসেরা, ব্লাড ও ইউরিন নেয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার ‘সূর্য ভিলা’ নামে ভবন থেকে ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত ছেলেটির নাম আফিফ। তার হাতে একটি নাইন এমএম পিস্তল ছিল এবং পাশে একই ধরনের আরও একটি অস্ত্র পড়ে ছিল। আফিফ আজিমপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত তানভীর কাদেরীর যমজ দুই ছেলের একজন। অপরজনের নাম তাহরীম কাদেরী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ