সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

এমপিদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ইসির

স্টাফ রিপোর্টার: জেলা পরিষদ নির্বাচনে ‘কিছু’ স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এসেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। তিনি বলেন,সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ‘শিগগির’ নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছি এমপি-মন্ত্রীদের ।

গতকাল সোমবার শেরেবাংলা নগরস্থ ইসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহনেওয়াজ বলেন, “কিছু প্রার্থী ও সরকার দলীয় এমপি নানাভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে-এমন অভিযোগ লিখিত ও মৌখিকভাবে আমরা পেয়েছি। কেউ বলছেন-ক্যামেরায় ছবি তুলে আনতে, কেউ বলছেন ব্যালট পেপারের পেছনে বিশেষ চিহ্ন দিতে।”এ ধরনের কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গত বুধবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলায় স্থাপিত কেন্দ্রে ভোট চলবে। দেশে প্রথমবারের মতো এ নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের সিটি, পৌর, উপজেলা ও ইউপি জনপ্রতিনিধিরা ভোট দেবেন।

ইতোমধ্যে এ নির্বাচনকে ঘিরে অনেক এলাকায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীরা ভোট কেনাবেচা ও নানা পদ্ধতি ব্যবহারে চাপ দিচ্ছে বলেও গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

“ভোটের আর দু’দিন রয়েছে। এমপিদের কাছে অনুরোধ করছি-আপনারা এলাকা থেকে চলে আসেন। আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে কেউ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যেই হোন না কেন অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না।”

 সেই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি ভোটকক্ষের সামনেই একজন করে নির্বাহী হাকিম নিয়োজিত রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “কোনো ভোটার বা জনপ্রতিনিধি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোটারকে তল্লাশি করে তা নিশ্চিত করবে। ব্যালট পেপারের কোথাও পরিচিতিমূলক চিহ্ন ব্যবহার করলে তা বাতিল করা হবে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

আইন শ্ঙ্খৃলা রক্ষায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সদস্য এবং কেন্দ্রের কাছাকাছি অনেক জেলায় বিজিবি, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য থাকবে।

৬১ জেলা ভোট হচ্ছে এবার। প্রতি জেলায় চেয়ারম্যান একজন, সাধারণ সদস্য ১৫টি ওয়ার্ডে ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। ৬৩ হাজারেরও বেশি ভোটারের এ নির্বাচনে জেলা ও উপজেলায় ওয়ার্ডভিত্তিক ৯১৫টি কেন্দ্র রয়েছে।

ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন; কুষ্টিয়া জেলাও চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর আদালতের আদেশে তা স্থগিত করা হয়।

নির্দলীয় এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে অনেক জেলায়। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এ নির্বাচনের সমালোচনা করে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ