বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : সুনির্দিষ্ট আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের একাংশ। এ জন্য প্রয়োজনে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। সময় লাগলে সবাই রাজি থাকলে সেটা নেয়া যেতে পারে বলে মনে করে দলটি।

গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গভবনে দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে দলের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। জাসদ রাষ্ট্রপতিকে মোট সাতটি প্রস্তাব দেয়। বিকাল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে। এরপর বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিক আখতার সাংবাদিকদেরকে তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে তুলে ধরেন।

শিরিন আক্তার জানান, তারা রাষ্ট্রপতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতীয় চার মূলনীতিতে বিশ্বাসীকে নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করতে বলেছেন। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে আইন করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

এক প্রশ্নের জবাবে শিরীন আখতার বলেন, যেহেতু এখন সংসদ আছে, তাই এই সংসদেই এই আইন করার কথা বলেছেন তারা।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতেই। তার আগেই নতুন কমিশন নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী তিনিই এই কমিশন নিয়োগ দেবেন। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে তিনি বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

রাষ্ট্রপতির এই আলোচনার অংশ হিসেবেই বিকালে গণভবনে যায় জাসদ প্রতিনিধি দল। তারা বলছে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন বলা হলেও এ বিষয়ে কোনা আইন নেই। তারা বলেছেন, এ বিষয়ে আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা ভালো।

কিন্তু আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে গেলে তো পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না-এমন মন্তব্যের জবাবে শিরীন আখতার বলেন, অবস্তান বিবেচনা করে সবাই সম্মত হলে এটি করা যায় বলে আমরা ভাবছি।

শিরীন আখতার বলেন, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের জন্য নাম প্রস্তাব করার পক্ষে। এরপর রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটি গঠন করলে সে নাম সেখানে যাবে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি পাঁচ জন কমিশনার গঠনে তিনজন করে মোট ১৫টি নাম পাঠাবে রাষ্ট্রপতিকে। এই নামগুলো এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে যেন মানুষ তাদের সম্পর্কে জানতে পারে।

শিরীন আখতার বলেন, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী একজন নারী নির্বাচন কমিশনারসহ মোট পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করতে হবে।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর গলা ভাঙা থাকায় তিনি কথা বলতে চাননি। তবে সাংবাদিকদের চাপাচাপিতে তিনি একটি প্রশ্নের জবাব দেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর এই সংলাপ ফলপ্রসু হওয়ার সম্ভাবনা কত-জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতবারের সংলাপ তো সফল হয়েছে। তখন যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল, সেটা বাতিল করার প্রস্তাব দেয়নি বিএনপি। এবারও আমরা আশা করি, রাষ্ট্রপতি এবার সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও ফলপ্রসু নির্বাচন কমিশন উপহার দিতে পারবেন। জাসদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো হলো,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সংবিধানের চার মূলনীতিতে আস্থাশীল ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ছয় মাস আগে আইন অনুযায়ী নতুন নির্বাচন গঠনের কার্যক্রম শুরু করা। বাছাই কমিটি কর্তৃক রাজনৈতিক দল, সামাজিক নাগরিক সংস্থা, দেশের যেকোনও নিবন্ধিত ভোটারের কাছ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নামের প্রস্তাব আহ্বান করা। বাছাই কমিটি কর্তৃক রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো বাছাই করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের বিপরীতে তিনজন করে নামের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ