সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

জয়পুরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত স্কুলছাত্রীর অস্ত্রোপচার

স্টাফ রিপোর্টার : ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার স্কুলছাত্রীর মাথার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার হয়।

এ দিকে,গতকাল বেলা ১২টার দিকে ওই স্কুল ছাত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

গত ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে কালাই উপজেলার বানদিঘী গ্রামে নিজ ঘরে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয় ওই স্কুলছাত্রী। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স হাসপতালে পরে রোববার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অসিতচন্দ্র সরকার জানান,গতকাল সোমবার বেলা দেড়টা থেকে পৌনে তিনটা পর্যন্ত তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তার মাথার প্যারাইটাল বোন ভেঙে ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। সেটা তুলে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় যে আঘাত ছিল সেগুলোরও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আগের চেয়ে একটু ভাল হলেও এখনও পর্যন্ত আশঙ্কামুক্ত না। দুই তিন দিন গেলে বিস্তারিত বলা যাবে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান গতকাল ঢামেকে ওই স্কুল ছাত্রীকে দেখে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, তার মাথায় চাপাতি জাতীয় কোন কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এতে তার মাথার হাড় ভেঙ্গে গেছে। সে এখনো অচেতন। এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। একদল মানুষই করেছে এটা।তিনি বলেন, পশু সমতুল্য কিছু মানুষ আছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২০১৬ সালে বিশ্বে মানবাধিকার বেশি লঙ্ঘিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন , তার কিছুটা আমাদের দেশে তো পড়বেই। যেমন জঙ্গি তৎপরতা বাংলাদেশে চলছেই। এদের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে এমন অনেক ঘটনা ঘটছে যেটা আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। এটাও আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি।

 মেয়েটির বাবা জানায়, সে কালাই উপজেলার আত্রাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নবম শ্রেণি থেকে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। ঘটনার দিন রাতে সে তার রুমে একাই ছিল। শনিবার ভোরে ফজর নামাজ পড়ার জন্য দরজা খুলতে গিয়ে দেখি বাইরে থেকে দরজা বন্ধ।তখন চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা দরজা খুলে দেয়। মেয়ের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে দ্রুত তার রুমে গিয়ে দেখি বিছানার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় সে পড়ে আছে। কে বা কারা আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়েছে এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পরি নাই।

ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যা করতে এই হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ