সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

ধ্বংসের সঙ্গে উন্নয়নের পার্থক্য বোঝেন না এমন কতিপয় মানুষের হাতে দেশের মানুষ জিম্মি -অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

রামপাল চুক্তির বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিছিল-পূর্ব সমাবেশের আয়োজন করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যারা ধ্বংসের সঙ্গে উন্নয়নের পার্থক্য বোঝেন না এবং দেশের স্বার্থের সঙ্গে কতিপয় লুটেরার স্বার্থের পার্থক্য করতে পারেন না, তাঁদের হাতে দেশের মানুষ আজ জিম্মি। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কম খরচের বহু বিকল্প সরকারকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার সেগুলো নিচ্ছে না।

গতকাল সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করে সুন্দরবন রক্ষায় ‘দাবি দিবস’ উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশের এক মন্ত্রী বলেছেন, বুড়িগঙ্গা নদীকে তাঁরা হাতিরঝিলের মতো বানাবেন। যাঁরা ঝিল আর নদীর পার্থক্য জানেন না, খনিজ কয়লার সঙ্গে কাঠ কয়লার পার্থক্য বোঝেন না, ধ্বংসের সঙ্গে উন্নয়নের পার্থক্য বোঝেন না এবং দেশের স্বার্থের সঙ্গে কতিপয় লুটেরার স্বার্থের পার্থক্য করতে পারেন না, তাঁদের হাতে দেশের মানুষ আজ জিম্মি।

তিনি অভিযোগ করেন, যে প্রকল্পে খরচ বেশি, সে প্রকল্পে সরকারের আগ্রহও বেশি। কারণ, মেগা প্রকল্প হলে সেখান থেকে কমিশন, চুরি, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের সুযোগ বেশি থাকে।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি বৈশ্বিক প্রতিবাদ দিবসে ‘ইয়েস টু লাইফ’, ‘নো টু কোল’, ‘সেভ সুন্দরবন’ শীর্ষক স্লোগানে প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রতিবাদ জানাবেন। বাংলাদেশেও এ দিবস পালন করা হবে। ১৪ জানুয়ারি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে দেশে বিকল্প জ্বালানি নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে। আর ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সরকার দাবি না মানলে ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরীতে সকাল ছয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত হরতাল পালিত হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের মার্কসবাদী শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণফ্রন্টের টিপু বিশ্বাস, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ