ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 June 2021, ৩ আষাঢ় ১৪২৮, ৫ জিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

প্রথম ওয়ানডেতে পারল না বাংলাদেশ

স্কোর: ৪৪.৫ ওভারে বাংলাদেশ ২৬৪; নিউ জিল্যান্ড ৩৪১/৭। নিউ জিল্যান্ড ৭৭ রানে জয়ী

অনলাইন ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের দেয়া ৩৪২ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে যেয়ে পারল না বাংলাদেশ। অনুজ্জ্বল বোলিং আর দুর্বল ব্যাটিংয়ের জেরে হারল ৭৭ রানের ব্যবধানে।

টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে যায় বাংলাদেশ।ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার পর এটি ছিল মুস্তাফিজের প্রথম ম্যাচ।ফলে তার বোলিংয়ের সেই ধার ছিল না। ২ উইকেট নিলেও রান দিয়েছেন ঢের বেশি। অন্যদিকে স্বাগতিকরাও দুর্দান্ত খেলেছেন। ৩৪২ রানের বিশাল টার্গেট মোকাবেলা করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ছিল বাজে।মূলত ব্যাটিংয়ে বাজে শুরু আর বোলিংয়ে বাজে শেষেরই মাশুল দিল বাংলাদেশ। 

৭৭ রানে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ। নিউ জিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এটি তাদের টানা অষ্টম পরাজয়।

টম ল্যাথামের শতকে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান করা নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশকে বেধে রাখে ২৬৪ রানে। ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধ শতক পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ব্যাটে-বলে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। হারের সঙ্গে যোগ হয়েছে মুশফিকুর রহিমের চোটের দুর্ভাবনা।

নিউ জিল্যান্ডের কন্ডিশনে পেস বোলিং কতটা সামলাতে পারবেন মোসাদ্দেক হোসেন তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দারুণ এক ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্য জানান দিয়েছেন এই তরুণ। পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক।

লকি ফার্গুসনের বলে উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তাসকিন আহমেদ। তখন ৬ ওভারে ৯০ রান চাই বাংলাদেশের।

দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ফিরেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মিচেল স্যান্টনারের বলে অধিনায়ক ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ২৪২/৭।

ক্র্যাম্পের সঙ্গে আর পেরে উঠলেন না মুশফিকুর রহিম। দলের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন। তার আগে অবশ্য মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে ৫২ রানের ভালো একটি জুটি উপহার দিয়েছেন তিনি। 

মাঠ ছাড়ার সময় মুশফিকের রান ৪৮ বলে ৪২। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ক্রিজে আসার সময় ১১.৩ ওভারে ১২৩ রান চাই বাংলাদেশের।

৩৫তম ওভারের শেষ বলে দুইশ’ রানে পৌঁছেছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। শেষ ১৫ ওভারে আর ১৪০ রান চাই অতিথিদের। ওভার প্রতি দকার ৯.৩৩ রান।

সাকিব আল হাসানের মতো ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই ফিরেন সাব্বির রহমান। এবারও বোলার লকি ফার্গুসন। কিছুটা এগিয়ে এসে চমৎকার ক্যাচ তালুবন্দি করেন ট্রেন্ট বোল্ট। ১৬ রান করে সাব্বির ফিরে যাওয়ার সময় অতিথিদের স্কোর ১৬৭/৬।

লকি ফার্গুসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেও মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাকিব আল হাসান।

৫৪ বলে ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার করেন ৫৯ রান। তার বিদায়ে ভাঙে মুশফিকের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি।

বল হাতে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও লড়াই করেন সাকিব আল হাসান। মিচেল স্যান্টনারের বলে এক রান নিয়ে অর্ধশতক করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৫০ বলে ৫০ রান করতে হাঁকান ৫টি চার ও একটি ছক্কা।

২৩তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারের বলে সাকিব আল হাসানের চারে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে বাংলাদেশের সংগ্রহ। এরই মধ্যে ৪ উইকেট হারানো দলটির তখনও ২৭.৪ ওভারে চাই ২৪০ রান। ওভার প্রতি প্রয়োজন ৮.৬৭ রান।

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ভালো একটি জুটি গড়ার সম্ভাবনা জাগিয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। জেমস নিশামের বলে আপার কাট করে ডিপ পয়েন্টে সহজ ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।৩৮ রান করে তামিম ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৮১/৪। 

সৌম্য সরকারকে ফেরানোর পর মাহমুদউল্লাহকেও বিদায় করেন জেমস নিশাম। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটক্ষককে ক্যাচ দেন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য এই ব্যাটসম্যান। তিন বলে শূন্য রানে তার ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৪৮/৩।

প্রস্তুতি ম্যাচ রানে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া সৌম্য সরকার ফিরেন দ্রুত। জেমস নিশামের বলে মিডঅফে কেন উইলিয়াসনের হাতে ক্যাচ দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান (৮ বলে ১)।         

শুরুতেই জীবন পাওয়া ইমরুল কায়েস সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। টিম সাউদির আগের ওভারটি মেডেন খেলেন। পরের ওভারে লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর রিভিউ নেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কিন্তু তাতে পাল্টায়নি সিদ্ধান্ত। ২১ বলে ১৬ রান করে ইমরুল ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৩৪/১।

মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই ফিরতে পারতেন ইমরুল কায়েস। টিম সাউদিকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান এই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ছক্কা হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলার পর সেই ওভারে একটি চারও মারেন তিনি।

টম ল্যাথামের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস আর কলিন মানরোর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ গড়েছে নিউ জিল্যান্ড। বোলিং-ফিল্ডিংয়ে হতাশার দিনে ৩৪২ রানের বিশাল লক্ষ্য পেয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। জিততে হলে গড়তে হবে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড।

১৯৯০ সালে শারজায় দুই দলের প্রথম দেখায় ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান করেছিল নিউ জিল্যান্ড। ২৬ বছর ধরে সেই রানই ছিল সর্বোচ্চ। এবার ক্রাইস্টচার্চে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান করে নতুন রেকর্ড গড়লো কেন উইলিয়ামসনের দল।

বাংলাদেশের তিনশ’ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের কৃতিত্ব আছে তিনটি। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে প্রথম জয় পায় তারা। ২০১৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে জেতে ৩০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে। 

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়র রেকর্ড নিউ জিল্যান্ডেই। গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেলসনে ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৪১/৭  (গাপটিল ১৫, ল্যাথাম ১৩৭, উইলিয়ামসন ৩১, ব্রুম ২২, নিশাম ১২, মানরো ৮৭, রনকি ৫, স্যান্টনার ৮*, সাউদি ৭*; মাশরাফি ০/৬১, মুস্তাফিজ ২/৬২, তাসকিন ২/৭০, সাকিব ৩/৬৯, সৌম্য ০/২৫, মোসাদ্দেক ০/৪০)

এক সিরিজ পর দলে ফেরা লুক রনকি ফিরেন ৫ রান করে। তাসকিন আহমেদের বলে চড়াও হতে গিয়ে বোল্ড হন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।  

ক্যারিয়ার সেরা ১৩৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলা টম ল্যাথামকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। স্টাম্পের বাইরের বল তাড়ার চেষ্টায় উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। তার ১২১ বলের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

খুনে মেজাজে ব্যাট করা কলিন মানরোকে ফিরিয়ে দিয়ে দেড়শ’ ছাড়ানো জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। পয়েন্টে তাসকিন আহমেদেকে ক্যাচ দেন মানরো। তার ৬১ বলের ঝড়ো ইনিংসটি গড়া ৮টি চার ও চারটি ছক্কায়। 

টম ল্যাথামের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং এবং কলিন মানরোর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪৬তম ওভারে তিনশ’ রানে পৌঁছায় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ।

চার দিয়ে ইনিংস শুরু করা কলিন মানরো পঞ্চাশে পৌঁছান ছক্কা হাঁকিয়ে। ৪৪ বলে তিনটি করে ছক্কা-চারে আসে বাঁহাতি মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানের তৃতীয় অর্ধশতক।

তাসকিন আহমেদের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকে পৌঁছান টম ল্যাথাম। ঘরের মাঠে ১০০ বলে নিজের রান তিন অঙ্কে নিতে ৫টি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

৩৭তম ওভারে মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে কলিন মানরোর চারে দুইশ’ পার হয় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ। এর আগে ১৯তম ওভারে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে স্বাগতিকদের স্কোর।

মাথার উপর দিয়ে চার হাঁকানো জেমস নিশামকে ফিরিয়ে মধুর প্রতিশোধ নেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের আর্ম বলের জবাব ছিল না বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের।

১২ রান করে নিশাম এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৫৮/৪।

জীবন পাওয়ার সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি নিল ব্রুম। সাকিব আল হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। সাকিবের আগের ওভারে ১৭ রানে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি।

২৫তম ওভারে ব্রুম ফিরে যাওয়ার সময় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৩৪/৩।

২৪তম ওভারে ঘরের মাঠে অর্ধশতকে পৌঁছান টম ল্যাথাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২, ৪, ২৮ রানের তিনটি ইনিংস খেলা নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ৫৫ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় পঞ্চাশ স্পর্শ করেন।

সাকিব আল হাসানের বলে নিল ব্রুমের সহজ ক্যাচ হাতে পেয়েও তালুবন্দি করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। ২০১৩ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলতে নামা ব্রুম লংঅফে ক্যাচ দেওয়ার সময় ১৭ রানে ব্যাট করছিলেন।

দ্রুত রান সংগ্রহ করতে থাকা কেন উইলিয়ামসনকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। পঞ্চদশ ওভারে অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে মুশফিকুর রহিমকে সহজ ক্যাচ দেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক।

৩৬ বলে ৫টি চারে ৩১ রান করেন উইলিয়ামসন ফিরে যাওয়ার সময় স্বাগতিকদের স্কোর ৭৯/২।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গর্ডন গ্রিনিজের সমান ৯৬ ইনিংসে চার হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এই দুই জনের চেয়ে কম ইনিংসে ওয়ানডেতে চার হাজার রান ছুঁয়েছেন কেবল হাশিম আমলা (৮১), ভিভ রিচার্ডস (৮৮) ও বিরাট কোহলি (৯৩)।  

ঝড় তোলার আগেই মার্টিন গাপটিলকে (১৯ বলে ১৫) ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের লেগ স্টাম্পের বাইরের স্লোয়ার বল জায়গা করে নিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন স্বাগতিকদের বিস্ফোরক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। মোটেও টাইমিং হয়নি, আকাশে উঠা বল মিডঅনে সহজেই তালুবন্দি করেন সৌম্য সরকার।

ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে গাপটিল ফিরে যাওয়ার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩১/১।

সকাল থেকেই মেঘে ঢাকা ক্রাইস্টচার্চের আকাশ। কালো মেঘ অবশ্য নয়, ধূসর ঘন মেঘ। সঙ্গে গা কাঁপিয়ে দেওয়া ঠাণ্ডা বাতাস। কিউইদের গ্রীষ্মেও বাংলাদেশকে মাঠে নামতে হচ্ছে প্রতিকূ কন্ডিশনে। সঙ্গে যোগ হয়েছিল টসে হার। তবে নিউ জিল্যান্ডের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে দেয় স্বস্তি।

টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন কেন উইলিয়ামসন। মাশরাফি বিন মুর্তজা টসের সময় জানালেন, জিতলে তিনি বেছে নিতেন বোলিং।

মোসাদ্দেক হোসেন ও তানভীর হায়দারের মধ্যে শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছে মোসাদ্দেকের ওপরই। মাশরাফি-মুস্তাফিজের সঙ্গে তৃতীয় পেসার তসকিন আহমেদ। প্রয়োজনে কাজ চালাবেন সৌম্য সরকার।

দুদিন আগেও উইকেটে ছিল বেশ ঘাস। তবে ছেঠে ফেলা হয়েছে প্রায় সবই। ম্যাচের দিন উইকেট বাদামি থেকে প্রায় সাদা। টস রিপোটে ধরাভাষ্যকার বললেন, দারুণ ব্যাটিং উইকেট হবে।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান। 

নিউ জিল্যান্ড দল: মার্টিন গাপটিল, টম ল্যাথাম, কেন উইলিয়ামসন, নিল ব্রুম, জেমস নিশাম, কলিন মানরো, লুক রনকি, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি, লকি ফার্গুসন, ট্রেন্ট বোল্ট।

ঘরের মাটিতে সফল বাংলাদেশ কিন্তু বাইরে? চেনা কন্ডিশনের বাইরে কেমন করবেন মাশরাফি বিন মুর্তজা-মুশফিকুর রহিমরা সেই প্রশ্ন গত কিছু দিন ধরে উঠছে। সেই পরীক্ষার সিরিজে কঠিন প্রতিপক্ষই পেয়েছেন তারা। নিউ জিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কখনও জেতেনি তারা।

প্রথম ম্যাচটায় ভালো করে পুরো সফরের সুরটা ঠিক করে নিতে চায় বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের পথে এগিয়ে যেতে প্রথম ওয়ানডেতে জিততে চান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। মানসিকভাবে এগিয়ে থাকতে বক্সিং ডে ম্যাচের দিকে তাকিয়ে কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে।

টানা খেলার মধ্যে আছে দল, মিলেছে পর্যাপ্ত বিশ্রামও। অস্ট্রেলিয়ায় হয়েছে প্রস্তুতি ক্যাম্প। হাতে সময় নিয়ে নিউ জিল্যান্ডে এসেছে দল। খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই ছন্দে আছে- সফরের জন্য নিজেদের প্রস্তুতিতে খুশি চন্দিকা হাথুরুসিংহে ও মাশরাফি বিন মুর্তজা।

দুঃস্বপ্নের নিউ জিল্যান্ডে সুখস্মৃতির খোঁজে আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০০১ সালের সফর দিয়ে চোটের সঙ্গে সখ্য শুরু তার। সেখানে ফিরে এবার তার চোখে জয়ের স্বপ্ন। নিউ জিল্যান্ডে স্বাগতিকদের কাছে আগের সাত ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। এবার চিত্রটা পাল্টাতে চান, জয় শুরু করতে চান এবারের সিরিজ থেকেই। 

শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ যাদের বিপক্ষে খেলেছিলেন সেই নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচ দিয়েই মুস্তাফিজুর রহমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা নিশ্চিত। ফিজিও ডিন কনওয়ে এরই মধ্যে দিয়েছেন খেলার সবুজ সংকেত। আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতা তরুণ পেসারের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডে দিয়েই ফিরবেন কি না সিদ্ধান্ত নেবেন ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসারই। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একমাত্র ম্যাচে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ।  

এক জন অফ স্পিন অলরাউন্ডার অন্য জন লেগ স্পিন অলরাউন্ডার। প্রথম ওয়ানডের একাদশ সাজাতে দুই জনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে বাংলাদেশকে। অভিষেক হবে লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারের নাকি বিদেশে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ মিলবে তরুণ মোসাদ্দেক হোসেনের?

স্বাগতিক অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে তার দল। অতিথি ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে পেসারদের তাতিয়ে রেখেছেন তারা। নিউ জিল্যান্ডের কন্ডিশনে ভীষণ বিপজ্জনক ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি তো আছেনই। লকি ফার্গুসনের গতিও চ্যালেঞ্জ হতে পারে তামিম ইকবালদের জন্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ