বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সরকারের উচিত এখনই জাতীয় নির্বাচন দেওয়া --মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ আসলেই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে থাকলে দলটির ভয়ের কিছু নেই। তাদের উচিত এখনই নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দেওয়া। তবে তিনি দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ ছিল না। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভিকে বেশি সুযোগ দেয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান  অতিথির বক্তব্যে মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন। নাগরিক  ফোরাম ‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির প্রস্তাব : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মওদুদ আহমদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বেশি সুবিধা পেয়েছেন। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন সবই তাঁদের বন্ধুপ্রতিম। তাই সেখানে সবার জন্য লেবেল প্লেইং ফিল্ড ছিল না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যদি সরকারকে জনগণ ভোট দিয়েই থাকে তাহলে ভয়ের কী? প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ করে দিয়ে একটি তত্ত্বাবধায়ক বা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন করুন। এখনই নির্বাচন দিন। যারা জিতবে, তারা দেশ পরিচালনা করবে। এটা তো সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যতই শক্তিশালী হোক দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। অতীত অভিজ্ঞতা সেটিই বলে।
মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি আলোচনার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা ইতিবাচক। এই আলোচনা অব্যাহত রাখা দরকার। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায়।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা অভিযোগ করেন, এখন দেশে কোনো রাজনীতি নেই। যা আছে অপরাজনীতি এবং একদলীয় রাজনীতি। বিরোধী দলের কোনো প্রয়োজনীয়তাই তারা বোধ করছে না। বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করতে সমস্ত আয়োজন তারা করেছে। এ জন্যই কি আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। অথচ আমরা লন্ডনে থেকেও স্বাধীন পূর্বপাকিস্তান গঠনের লক্ষ্যে কাজ করেছি। তখন আওয়ামী লীগও কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। এরপর দেশে পর্যায়ক্রমে বহু আন্দোলন হয়েছে। অতপর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় আমি বিদেশ থেকে আইনজীবী নিয়ে আসি। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির ব্যবস্থা করি।
মওদুদ আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর সময়ই আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। কারণ তিনি বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা তার বিরোধীতা করেছিলাম। আর আমাকেই জেল খাটতে হয়েছে।’
গণতন্ত্র ফেরানোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জÑ মন্তব্য করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সব মূল্যবোধ ধ্বংস করে ফেলেছে। তারা নতুন কোনো মূল্যবোধ তৈরি করতে পারেনি। গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক চর্চা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অর্থাৎ কোনো ক্ষেত্রেই তারা মূল্যবোধ দেখাতে পারেনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু বলেন, নারায়ণগঞ্জে মিডিয়া ক্যু এবং সূক্ষ্ম কারচুপি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন অনেক পোড় খাওয়া নেতারাও বিভ্রান্ত হয়েছেন। দুদু বলেন, নারায়ণগঞ্জের মতো একটি সন্ত্রাসকবলিত এলাকায় আইভির পক্ষে কীভাবে জেতা সম্ভব? যে শহরে বস্তির মতো আবর্জনায় ভরে থাকে সেখানে কীভাবে তিনি জেতেন?
২০১১ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভোট পেয়ে আইভী জিতেছিলেন দাবি করে দুদু বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে জনগণ অতীষ্ঠ। তারপরও কীভাবে তিনি জেতেন। নির্বাচনে সুক্ষ্মভাবে বড় ধরনের ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমেই আইভিকে জেতানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ পারেও বটে!
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহিল মাসুদের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় অন্যদের মধ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ