শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা একে অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা অন্য সংস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। শুধু সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোই নয়, রাষ্ট্রের বিভাগগুলোও এ প্রতিযোগিতার বাইরে নেই। কেবল বিচার বিভাগই এর ব্যতিক্রম। যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তাদের মধ্যে এ আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বেশি। কিন্তু বিচার বিভাগ কখনো এ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি এবং করবেও না।
সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাহস না থাকলে বিচার বিভাগে আসবেন না। এখনও যাদের সাহস নেই তারা চাকরি ছেড়ে চলে যান। সাহস দেখান। কারণ আপনাদের কাছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। আপনারা ন্যায় বিচার করবেন। কারও কথায় নয়, আইনের কথায়। আইন অন্ধ হতে পারে, কিন্তু বিচারকরা অন্ধ নয়। সবকিছু দেখার এখতিয়ার আপনার আছে। সবকিছু দেখেই আদেশ দেবেন। কিন্তু পুলিশ চাইলো রিমান্ড, আপনারা হুট করে দিয়ে দেন- এই অন্যায়টা করবেন না।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আমরা সব সময় রাষ্ট্রের বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আর এর জন্য শাসনতন্ত্র আমাদের ওপর যতটুকু দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করেছে, আমরা শুধু ততটুকুই করব। আমি আশা করব, রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ ও প্রতিষ্ঠান বিচার বিভাগকে সেভাবেই সহযোগিতা করবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন’ এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুইদিনব্যাপী এই সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে হবে। দ্বিতীয় দিনে অংশ নিবেন কেবল জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকরা।
প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশে পাঁচ বছর শাসন করতে পারবে, দেশ পরিচালনা করতে পারবে, আর সেই সরকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কোনো নির্বাচন দিতে পারবে না-এটা রাজনীতিবিদদের দেউলিয়াপনা।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত করার জন্য গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক সরকারের স্থলে অগণতান্ত্রিক সরকার সমাধান নয়। এটি রাজনীতিবিদদের দেউলিয়াপনা। ত্রয়োদশ সংশোধনীর ফলে অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনকে একটি মহলের খেয়াল খুশি মতো পরিচালনার ব্যবস্থা হয়েছিল। ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন রাষ্ট্রের মূলভিত্তি জনগণের সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রের প্রজাতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পরিচয় খর্ব করায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত তা অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে ঘোষণা করে। এই সংশোধনী বাতিল করে গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে নির্দেশ দেয় বিচার বিভাগ। ফলে জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পঞ্চম সংশোধনী এবং সপ্তম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে সংবিধান এদেশের জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে সে সংবিধানকে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সংশোধন করে অপবিত্র করা হয়েছে এবং শহীদদের আত্মার প্রতি অসম্মান পপ্রর্শন করা হয়েছে। পবিত্র সংবিধান থেকে সামরিক আইন তথা সামরিক শাসকদের সংশোধিত ও সন্নিবেশিত বিধানসমূহ মুছে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিচার বিভাগের এই আদেশের ফলে সামরিক শাসনের সম্ভাবনা চিরতরে নির্বাসিত হয়েছে এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার সুযোগ পরাহত হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, পরোয়ানা জারির পরও যদি সাক্ষী হাজির না হয় তাহলে মামলা ওই পার্যায়ে নিষ্পত্তি করে দেবেন। আসামী ধরার ক্ষেত্রে পুলিশ যতোটা পারদর্শী সাক্ষী হাজিরের ক্ষেত্রে ততোটা পারদর্শী না। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, রিমান্ড নিয়ে এরইমধ্যে আমরা নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। টর্চারের মাধ্যমে কোন আসামীর কাছ থেকে যেন স্বীকারোক্তি আদায় না করা হয়। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের যে নির্দেশনা ছিল বিচারকরা তা মেনে চলবেন।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে ট্রাইব্যুনাল সরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সরানোর জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলাম। তার কোন অগ্রগতি নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেল হত্যা মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা যদি জেলা দায়রা জজ আদালতে হতে পারে তাহলে যুদ্ধাপরাধের মামলা হতে বাধা কোথায়?
বিচারক স্বল্পতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমেরিকায় ১০ লাখ মানুষের জন্য ১০৭ জন, কানাডায় ৭৫ জন, ইংল্যান্ডে ৫১ জন, অষ্ট্রোলিয়ায় ৪১ জন, ভারতে ১৮ জন বিচারক রয়েছেন। অথচ বাংলাদেশে ১০ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১০ জন বিচারক রয়েছেন। জনসংখ্যা এবং মামলার সংখ্যা অনুপাতে বিচারক নিয়োগ প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে আপিল বিভাগে নয়জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৮৯ জন বিচারকের মধ্যে তিনজন বিচারক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চারজন বিচারক গুরুতর অসুস্থ। ফলে বিভিন্ন সময় বেঞ্চ গঠনের সময় আমাকে হিমশিম খেতে হয়। এদের মধ্য হতে ২০১৭ সালে সাতজন বিচারক অবসর গ্রহণ করবেন। ফলে বেঞ্চ গঠনে জটিলতা আরও প্রকট হবে। গত আগস্ট মাসে আইনমন্ত্রীর সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আমি আটজন অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের জন্য সরকারকে পরামর্শ দিই। দীর্ঘ আলোচনার পরে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এ সুপারিশ পাঠানো হলেও দীর্ঘ চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এ নিয়োগ প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি।
নিম্ন আদালতে বিচারকের সংখ্যা কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকের অনুমোদিত পদ সংখ্যা এক হাজার ৬৫৫; এর মধ্যে ৩৮৭টি পদ শূন্য রয়েছে। অবশিষ্ট এক হাজার ২৬৮ জন বিচারক দ্বারা ২৭ লক্ষাধিক মামলা নিষ্পত্তি করা অসম্ভব। তাছাড়া প্রতিদিন নতুন মামলা দায়ের হচ্ছে। সংগত কারণে বর্তমানে শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দেয়া আবশ্যক।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়ার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এটর্নি এবং জেনারেল মাহবুবে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্মেলনের সভাপতি বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, জনগণের শেষ ভরসাস্থল আদালত। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি অপরিহার্য। বিচারকদের শতভাগ পক্ষপাতহীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটালে সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণের মাঝে ভুল ধারণার সৃষ্টি হবে। আপিল বিভাগের এই জ্যেষ্ঠ্য বিচারপতি জেলা জজদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের বিরাট দায়িত্ব। একটি জেলার অভিভাবক। কাগজে-কলমে অভিভাবক হলে হবে না। আপনারা দেখবেন আপনাদের জজ সাহেবরা সময়মতো এজলাসে উঠছে কিনা।’ তিনি বিচারকদের সময়মতো এজলাসে উঠার, সময়মতো সমন, আদেশ জারি করার এবং রিমান্ডে নেয়ার ক্ষেত্রে অতি সম্প্রতি আপিল বিভাগের দেয়া ১৯ দফা গাইডলাইন সম্বলিত রায়টি অনুসরণ করার জন্য বিচারকদের প্রতি আহবান জানান।
সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বলেন, প্রায় ১৪ বছর আগে বিচার বিভাগ ছেড়ে চলে গেলেও প্রতিদিনই আপনাদের কথা মনে হয়। আপনাদের কথা মনে হলে আমার মনটা খারাপ হয়ে যায়। আপনারা হয়ে যাচ্ছেন স্ক্রিম কোল্ড।
তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্টসহ বিচার বিভাগ সম্পর্কে একটা কথা বলতে চাই, ‘জাস্টিস ইজ নট ওয়ানলি টু বি ডান বাট ইট মাস্ট বি সিন টু হ্যাব বিন ডান’। এই জিনসটা ভুলে গেলে বিচার বিভাগ থাকবে না। আমরা কি করছি এখন, কী হচ্ছে এখন। একটা জামিন পেলে সঙ্গে সঙ্গেই উপর আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। এটা কেন? জামিন পাওয়া তার অধিকার। কারণ একটা মানুষের সাংবিধানিক স্বাধীনতা আছে। পুলিশ বা অন্য কারও কথায় সেই স্বাধীনতা খর্ব করা যায় না। এই জামিন যদি আদালত দিয়ে থাকে, ঐ আদালতের এখতিয়ার ছিল কী ছিল না, সেটা দেখতে হবে। আদালতের যদি এখতিয়ার থাকে জামিন দিতে পারেন। কিন্তু স্টে করার তো কোন আইন বা বিধান নেই। আমরা হুট করে স্টে করে দিই। কয়েকমাস পরে ঐ আপিল আদালতই বলে জামিন দেয়াটা ঠিক ছিল, তাহলে যে জামিনপ্রাপ্ত আসামী কয়েকমাসের দুর্ভোগ পোহালো এর জন্য কে দায়ী থাকবে? আপনারা এটা খুব বেশিভাবে খেয়াল করবেন।
পুলিশের কথায় হুট করে রিমান্ড দেবেন না উল্লেখ করে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, যখনই পুলিশ কোন মামলা নিয়ে এসে বলে রিমান্ডে দেয়ার জন্য। আমরা বিচারকরা ডান-বাম কিছুই না দেখে পুলিশের কথায় রিমান্ডে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু কেন? আমরা কি পুলিশকে বলতে পারি না, তোমার ডাইরি নিয়ে আসো। কী কারণে তুমি রিমান্ড চাও? এখন জানা হয়ে গেছে সবখানেই রিমান্ডটা ভালোবাসার জন্য নয়। পুলিশের কাছে ‘থার্ড ডিগ্রী মেথড’ আছে। এই মেথড প্রয়োগের জন্য রিমান্ড। তাকে পিটিয়ে, অত্যাচার করে স্বীকারোক্তি আদায় করাই থাকে রিমান্ডের উদ্দেশ্য। হাইকোর্ট থেকে জেলগেটে রিমান্ডে নেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু জেলগেটে তো রিমান্ডে নেয়া হয় না। কারণ কী, প্রকাশ্যে পেটাবে, জনগণ জেনে যাবে, তাই নিয়ে কী লাভ।
বিচারকদের সাহস থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাহস না থাকলে বিচার বিভাগে আসবেন না। এখনও যাদের সাহস নেই তারা চাকরি ছেড়ে চলে যান। সাহস দেখান। কারণ আপনাদের কাছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। আপনারা ন্যায় বিচার করবেন। কারও কথায় নয়, আইনের কথায়। আইন অন্ধ হতে পারে, কিন্তু বিচারকরা অন্ধ নয়। সবকিছু দেখার এখতিয়ার আপনার আছে। সবকিছু দেখেই আদেশ দেবেন। কিন্তু পুলিশ চাইলো রিমান্ড, আপনারা হুট করে দিয়ে দেন- এই অন্যায়টা করবেন না।
সাহস দেখিয়ে জামিন দিলে বা রিমান্ড আবেদন খারিজ করলে বিশেষত স্বৈরশাসকের আমলে বিচারকদের বদলি করা হতো উল্লেখ করে বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বলেন, এর জন্য সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব হচ্ছে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রটেকশন দেয়া। অধস্তন আদালতের কেউ যাতে ভয়ে অন্য ধরণের আদেশ না দেয়। বিচারকরা যাতে  না ভাবে আমার আদেশে ক্ষমতাসীন দল, পুলিশ বা অন্য কেউ নারাজ হয়ে যাবে। এটা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে সুপ্রিমকোর্ট। সুপ্রিমকোর্ট বিচারকদের প্রটেকশন দিতে পারলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এদেশে চালু হবে। বিচারকদের তিন বছরের আগে বদলি না করার আহবান জানিয়ে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকার যদি তিন বছরের আগে বদলি চায়ও তাহলে প্রধান বিচারপতি তার সঙ্গে দ্বিমত করবেন। জামিন না দেয়া, কথা না শোনাসহ নানা কারণে বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে- এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি হস্তক্ষেপ না করলে, বিচারকদের প্রটেকশন না দিলে বিচার বিভাগ থাকবে না। কারণ দুষ্টু লোকের অভাব নেই। আমরা যখন আইনজীবী হিসেবে যুক্ত হয়েছি, তখন কিন্তু চুক্তি করে করে টাকা দেয়ার নিয়ম ছিল না। তোমাকে মামলায় জিতিয়ে দেব- আমাকে এত টাকা দিতে হবে। এখন চুক্তি হয়। এই চুক্তির এরিয়া কিন্তু আপিল বিভাগ পর্যন্ত চলে গেছে। এটা থেকে বাঁচার জন্য প্রধান বিচারপতিকে শক্ত হতে হবে।
বিচারকদের প্রেষণে পাঠানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ডেপুটেশনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা যাবে কেন। আইনজীবীর কী অভাব আছে? প্রেষণে গেলে বিচারিক মন নষ্ট হয়ে যায়। সুযোগ-সুবিধার জন্য অনেকে আছেন প্রেষণে থাকার জন্য তদবিরও করেন। ডেপুটেশন সিস্টেম বাদ দিতে হবে। আইনমন্ত্রীকে বিচার বিভাগের লোক উল্লেখ করে তিনি বলেন, উনার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ থাকবে কেন? উনি আইন ও বিচার বিভাগের মন্ত্রী। উনি বিচার বিভাগের মন্ত্রী। উনি আমাদের বিরুদ্ধে যাবেন কেন? উনার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির খারাপ সম্পর্ক হবে কেন? বরং উনি চেষ্টা করুক আইন মন্ত্রণালয় আলাদা হয়ে যাক এবং বিচার মন্ত্রণালয় আলাদা হয়ে যাক। তাহলে আর খারাপ সম্পর্ক থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ