শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নারীসহ দুইজন নিহত চারজনের আত্মসমর্পণ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর দক্ষিণখানের পূর্ব আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় ‘রিপল ২৪’ নামে  অভিযানে এক নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছে। চারজন আত্মসমর্পণ করেছেন এবং এক শিশু আহত হয়েছে। নিহতরা হচ্ছে জঙ্গি সুমনের স্ত্রী ও এক তরুণ। চার আত্মসমর্পণকারী হচ্ছে রূপনগরে নিহত মেজর জাহিদের স্ত্রী শিলা ও তার সন্তান এবং জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষা ও তার সন্তান। গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে দক্ষিণখানের আশকোনায় হাজিক্যাম্পের কাছে  পূর্বপাড়ার ৫০ নম্বর ‘সূর্যভিলা’ নামে বাড়িটি ঘিরে রাখে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখান থেকে চারজন আত্মসমর্পণ করেন। পরে কয়েক দফা পুলিশ ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুইজন নিহত হয়। আহত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন, যা তারা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে বাড়িটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। অভিযানে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটি) নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে সোয়াট। সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা সহায়তা করে।
বিকালে ঘটনাস্থলে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। এর আগেই সেখানে উপস্থিত হন ঢাকা মেট্টোপলিটন (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটি) প্রধান মনিরুল ইসলাম।  আইজিপি বলেন, আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় অপারেশনের নাম রিপল ২৪। এর অর্থ- প্রতিপক্ষের আঘাতে না পালিয়ে পাল্টা আঘাত করা বা কাউন্টার দেয়া।
বিকালে পৌনে চারটায় ঘটনাস্থেেল উপস্থিত হয়ে এক তাৎক্ষণিক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে রাজধানীর আশকোনায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ওই বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের সোয়াত টিম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান জানতে পেরে পুলিশ এখানে অভিযান চালায়। বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গি মুসা। আমরা জঙ্গিদের আহ্বান করেছি, তোমাদের অবস্থান থেকে সারেন্ডার করো। পুলিশ বাহিনী নানাভাবে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছিল। তারা কী করবে, কী করবে না এমন অবস্থায় ছিল। তিনি জানান, মেজর জাহিদের স্ত্রী ও মেয়েসহ সাতজন ছিল এখানে। এই জায়গাটি ভাড়া করেছিল মুসার স্ত্রী ও মেয়ে। প্রথমে দু’জন নারী আত্মসমর্পণ করে। তাদের সঙ্গে ছিল দু‘টি শিশু। এরপর আরও তিনজন বাকি থেকে গিয়েছিল। তারা কিছুতেই আত্মসমর্পণ করছিল না। ওই তিন জনের মধ্যে ছিল একটি  শিশু মেয়ে।
আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, আমাদের পুলিশ বাহিনী তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করেই যাচ্ছিল। তারা চরম ধৈর্য দেখিয়েছে। তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করতে করতেই এক সময় সুমনের স্ত্রী হঠাৎ করে বেরিয়ে আসার কথা বলে। শিশু মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসে সে। তার গায়ে সুইসাইডাল ভেস্ট বাধা ছিল। তাতে তাজা গ্রেনেড ছিল। পুলিশ তাকে ওই ভেস্ট পরে না আসার জন্য চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু ওই নারী ভেতরে গিয়ে আবার বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে সুইসাইড ভেস্টের সুইচ ধরে টান দেয়। এতে বিস্ফোরণ হয়। সঙ্গে থাকা ওই মহিলা তাৎক্ষণিক মৃত্যুবরণ করে। সঙ্গে থাকা শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পুলিশ ওই শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এরপরও ভেতরে একটি ছেলে ছিল। সে কিছুতেই আত্মসমর্পণ করছিল না। তাকে আত্মসমর্পণের অনুরোধে কাজ না হলে পুলিশ ভেতরে (কাঁদানে) গ্যাস নিক্ষেপ করে। এরপর সে গুলী করতে শুরু করে। তার কাছে গ্রেনেড ছিল। সেগুলো ছুড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ তার অবস্থান লক্ষ্য করে গুলী ছুড়তে শুরু করলে ভেতর থেকে গুলী বন্ধ হয়। ভেতরে তাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
তবে বাসাটির ভেতরে অসংখ্য গ্রেনেড রয়েছে। কতগুলো রয়েছে আমরা জানি না। ভেতরে অস্ত্রও থাকতে পারে। আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল টিম সেখানে গিয়ে দেখবে ভিতরে কী কী আছে। এখন কাউকেই ভেতরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা বিস্তারিত জানতে পারলে জানাবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকের অপারেশনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এখন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ভেতরে ঢুকে সেগুলো ক্লিয়ার করবে।
ছেলেটিও বাবার পথে : চলতি বছরের মাঝামাঝিতে গুলশান হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের একটি বাড়িতে অভিযানের সময় টিকতে না পেরে জঙ্গি তানভীর কাদেরী আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশ জানায়। গোয়েন্দারা বলছেন, তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর নব্য জেএমবির সমন্বয়কের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছিলে কাদেরী। ‘আব্দুল করিম’ ও ‘শমসেদ’ নামে সংগঠনে পরিচিত ছিলেন তিনি। করিম নাম ব্যবহার করেই তিনি বসুন্ধরা আবাসিকে গুলশান হামলাকারীদের জন্য ফ্ল্যাট ভাড়া করেছিলেন। কাদেরীর স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা এবং তার জমজ ছেলেদের একজন আজিমপুরের ওই অভিযানের সময় আহত অবস্থায় গ্রেফতার হন। তখন অন্য ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার সাড়ে তিন মাস পর আশকোনার বাড়িটিতে কাদেরীর আরেক ছেলের খোঁজ পেয়ে অভিযানের কথা জানান পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সকাল ১০টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, দফায় দফায় আত্মসমর্পণ করতে বলার পর নিহত জঙ্গিনেতা মেজর (অব.) জাহিদের স্ত্রী ও তার মেয়ে এবং পলাতক জঙ্গিনেতা মুসার স্ত্রী ও মেয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেন। তারা একটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলীও পুলিশের কাছে জমা দেন। ভেতরে থাকা বাকি তিনজনের মধ্যেএক নারী এক শিশুকে নিয়ে দুপুরে বেরিয়ে এসে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটালেও কাদেরীর কিশোর ছেলেটি বেরিয়ে আসছিল না না। ছেলেটি কিছুতেই আত্মসমর্পণ করছিল না। তখন পুলিশ গ্যাস নিক্ষেপ করে। সে ভেতর থেকে গুলী চালানো শুরু করে। তখন ভেতরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশ দেখে সেখানে সে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সকালে বলেন, ভেতরে তিনজন রয়েছেন। তাদের কাছে প্রচুর এক্সপ্লোসিভ (বিস্ফোরক) ও সুইসাইড ভেস্ট রয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা ভেতরে আছে তাদের বারবার অত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তারা ভেতর থেকে বলছে-তাদের শরীরে গ্রেনেড বাঁধা, গ্রেফতারের চেষ্টা করলে বিস্ফোরণ ঘটাবে।
অভিযানে থাকা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বোরকা পরা  নারী শিশুটিকে হাতে ধরে বেরিয়ে এসেছিলেন। বাইরে এসে তিনি হাতটি একটু উঁচু করে তারপরই নামিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশ তখন কাউকে সেদিকে ভিড়তে না দিলেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছিল বাইরে থেকে। স্থানটি ধোঁয়ায় ভরে যেতেও দেখা যায়। ওই নারীর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বাড়ির গাড়ি বারান্দায় পড়ে থাকে। ভেতরে কাদেরীর ছেলে সশস্ত্র অবস্থায় থাকায় পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করতে যেতে পারেনি বলে জানান ছানোয়ার।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাটিকামারি গ্রামের কাদেরী লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে দুটি বেসরকারি কোম্পানি ঘুরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং শাখায় উচ্চ পদে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০১ সালে তিনি বিয়ে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে লেখাপড়া শেষ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সেইভ দ্য চিলড্রেন’এ চাকরিরত ফাতেমাকে। ২০১৪ সালে হজ করতে সপরিবারে সৌদি আরবে যান তানভীর। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তানভীরের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রতা ধরা পড়ে আত্মীয়দের চোখে। ফাতেমাও তখন থেকেই হিজাব পরা শুরু করেন বলে স্বজনরা জানান। হজ থেকে ফিরে ২০১৪ সালে ডাচ-বাংলার চাকরি ছেড়ে ‘আল সাকিনা হোম ডেলিভারি সার্ভিস’ নামে একটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন কাদেরী। এর  মধ্যেই তিনি জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের ভাষ্য। তার স্ত্রী আদালতে নিজের কর্মকা-ের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, স্বামীর কারণেই নাশকতার এই পথে নেমেছিলেন তিনি।
জাহিদের স্ত্রীসহ ৪ জনের আত্মসমর্পণ: অভিযান শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর আস্তানা থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশের কাছে ধরা দেন নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষনেতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার শীলা। সাড়ে ৯টার দিকে তারা আত্মসমর্পণের পর পুলিশ তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ছানোয়ার হোসেন বলেন, জাহিদের স্ত্রী ও মেয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছে নব্য জেএমবির এখনকার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা মুসার স্ত্রী ও মেয়েও। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলী পাওয়া গেছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুরের রূপনগরের একটি বাসায় পুলিশের অভিযানে জাহিদ নিহত হওয়ার পর থেকে তার স্ত্রীকে খুঁজছিল পুলিশ। নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরী গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের যে বাসায় পুলিশি অভিযানে নিহত হন সেই বাসা জাহিদ ভাড়া করে দিয়েছিলেন। জঙ্গি গোষ্ঠীটিতে তামিমের পরেই ছিল তার অবস্থান। পুলিশ কর্মকর্তা ছানোয়ার আগে জানিয়েছিলেন, সংগঠনে মেজর মুরাদ নামে পরিচিত জাহিদ নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় তামিমদের আস্তানাতেই ছিলেন। তবে অভিযান শুরুর আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান। পাইকপাড়ায় অভিযানের পরদিন জাহিদ পরিবার নিয়ে রূপনগরের বাসা ছাড়েন বলেও ছানোয়ার জানিয়েছিলেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপদ স্থানে রেখে তিনি আবার রূপনগরের বাসায় ফিরেছিলেন কি না, সে বিষয়েে পুলিশ কিছু না জানালেও ২ সেপ্টেম্বর এই বাসাতেই অভিযানে নিহত হন জাহিদ।
লাশ উদ্ধার হবে আজ: আশকোনার যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, তাতে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করবে আজ (রোববার)। ওই বাড়ির মধ্যে যে শিশুটির লাশ রয়েছে সেটাও উদ্ধার করা হবে এদিন। নিহত নারীর লাশ গতকালই উদ্ধার করে মর্গে পাঠপানো হয়।  অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাসাটি এখন অন্ধকার। ভেতরে গ্যাস ও বিস্ফোরক রয়েছে। তাই এখনই ভেতর প্রবেশ করা যাচ্ছে না। আগামীকাল সকাল থেকে ফের আমাদের বম্ব ডিসপোজাল টিম কাজ করবে। রোববার সকাল থেকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হবে। তবে রাতে বাড়িটি পুলিশ প্রহরায় থাকবে বলে জানান তিনি। সিটিটিসি প্রধান জানান, ওই বাড়ির মধ্যে যে লাশটি রয়েছে, সেটাও আগামীকাল সকালে উদ্ধার করা হবে। তবে বাইরে থাকা নারীর লাশটি আইনগত  প্রক্রিয়া শেষ করে আজকেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। ওই বাড়ির বাকি লোকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে এলাকায় স্বস্তি: দক্ষিণখানের আশকোনার পূর্বপাড়ার ‘সূর্যভিলা’ নামে বাড়ির জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় ওই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে যাওয়ায় গতকাল বিকেল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। বন্ধ থাকা সড়কগুলো খুলে দেয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি থাকলেও ক্রমেই জনসাধারণের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে। এর আগে সকাল থেকে ওই এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। তাছাড়া হাজি ক্যাম্প থেকে সূর্যভিলা সড়কসহ আশপাশের সবগুলো সড়কে কোনো প্রকার যানবাহন প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। যাত্রী সাধারণের ওপরেও ছিলো কঠোর নজরদারি।
সকাল থেকে এ লাকার দোকানপাট বন্ধ ছিলো। তবে বিকেলে পুলিশের সফল অভিযান শেষে জনসাধারণের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে থাকে। দোকান-পাটসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফিরে স্বাভাবিক কর্মকা-। ‘নোয়াখালী ভাই ভাই হোটেল’ এর একজন কর্মচারী বলেন, দোকান খুলতে এসে দেখি পুরো এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে আর দোকান খুলেনি। মাঝে মধ্যে গুলী ও বোমার শব্দে আতঙ্কিত ছিলাম। রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়ায় এলাকার কোনো দোকান খোলা সম্ভব হয়নি। দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দোকান খুলি।
বিকেল হাজি ক্যাম্পের সামনের সড়কটি পুলিশ বন্ধ করে রাখে। এ সড়কটি দিয়ে আশকোনার পূর্বপাড়া এলাকায় কোনো যানবাহান প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপরেও রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারি। দায়িত্বরত পুলিশ জানায়, জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের স্বার্থে সড়কটি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এছাড়াও মন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসেছেন। সব কিছু বিবেচনায় সকাল থেকে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। যারা এ এলাকার বাসিন্দা ও গণমাধ্যম কর্মী শুধু তাদেরকে যেতে দেয়া হয়। তবে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানায় পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ