বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ছড়া/কবিতা

আলোর আশা
মতিউর রহমান মল্লিক

নামবে আঁধার তাই বলে কি
আলোর আশা করবো না?
বিপদ-বাধায় পড়বো বলে
ন্যায়ের পথে লড়বো না?

মেঘ দেখে চাঁদ
যায় কি দূরে হারিয়ে?
যায় কি নদী
পাহাড় দেখে পালিয়ে?
হায়-হতাশায় মরবো শুধু
আশায় হৃদয় ভরব না?

দুঃখ দেখে তাই বলে কি
স্বপ্ন সুখের দেখতে নেই?
রণাঙ্গনে হার আছে তাই
জেতার কানুন শিখতে নেই?

বজ্রপাতের ভয় আছে তাই বিহঙ্গ
পাখার ভেতর গুটিয়ে রাখে সব অঙ্গ?
ঝড়-তুফানে মরবো বলে
সাগর পাড়ি ধরবো না?


শীত এলে
হোসাইন মোস্তফা

শীত এলেই নজর কাড়ে
খেজুর গাছে হাঁড়ি
মৌ মৌ গন্ধে বিভোর
গাঁয়ে বাড়ি বাড়ি।

সর্ষেফুলে চোখ ধাঁধানো
মাঠ যে অপরূপ
রঙিন সাজে প্রজাপতির
ওড়াউড়ি খুব।

আঁধার ভোরে বাদুড় করে
রসের হাঁড়ি খোঁজ
কুয়াশাতেই জাল বিছিয়ে
মাকড়সাদের ভোজ।

শিশির ভেজা দুর্বাঘাসে
মুক্তোমানিক হাসে
কাকতাড়ুয়া দেয় পাহারা
ফিঙে নাচে পাশে।

হিমেল হাওয়ায় ঠকঠকিয়ে
মানুষ পশু কাঁপে
শীত এলেই গর্তে লুকায়
খোলস ছেড়ে সাপে!


বাবুই
আব্দুস সালাম

ঠোঁট ও দেহ বাদামী রঙের
বুননবিদ পাখি
নেচে বেড়ায় গাছে গাছে
কিচিরমিচির ডাকি।

দেশি, দাগি, বাংলা বাবুই
আমার দেশে আছে
নদী-ডোবা পুকুরপাড়ে
গ্রামাঞ্চলের গাছে।

তাল, নারিকেল, খেজুর গাছে
বাবুই বাসা বোনে
ডিম পাড়ার সে জায়গা রাখে
বাসার একটি কোণে।

কেউবা বলে শিল্পী-তাঁতী
কেউবা কারিগর
চোখটা জুড়ায় যখন দেখি
তাদের বাড়ি-ঘর।

ফুলের রেণু, শস্যদানা
ঘাস-পোকা এর খাদ্য
রাতের বেলায় খাবার খোঁজে
যেমন আছে সাধ্য।

রাতে জোনাক ধরে আনে
ছড়ায় ঘরে জ্যোতি
এমন কিছু করবো না হায়
তাদের হবে ক্ষতি।


এই শীতে
মোস্তফা কামাল সোহাগ

এই শীতে ভাপা পুলি
খেতে লাগে মিঠা
কষ্ট হয় যাদের নেই
ঘরবাড়ি ভিটা।

এই শীতে আমার দাদু
খক্খকিয়ে কাশে
পৌষ মাঘ শীতকাল

শীত বুড়ি আসে।
এই শীতে হিমকুয়াশায়
ঢাকা চারিপাশ
নানীর হাতে পিঠা খেতে
মনে লাগে আশ।
এই শীতে গোসল করতে
গায়ে লাগে ঠাণ্ডা
ইচ্ছে করে নিজের গায়ে
নিজে মারি ডান্ডা।
এই শীতে সর্ষেফুলে
প্রজাপতির দল
খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি
সবাই খেতে চল।


শীত ও করিম চাচা
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

কালের চাকা ঘুরে ঘুরে
আসছে আবার শীত
তাইনা ভেবে করিম চাচার
দুই চোখে নিদ।

করিম চাচা এ্যাজমা রোগী
শীতে বাড়ে কষ্ট
শীতের রাতে চিল্লানী তার
শুনি সবাই পষ্ট।

ঠাণ্ডা-শীতে কাশ বেড়ে যায়
শ্বাস হয়ে যায় বন্ধ
শীত এলে তাই করিম চাচা
হারিয়ে ফেলেন ছন্দ।

করিম চাচা খুব অভাবী
কামলা খাটেন রোজ
নুন আনতে তার পান্তা ফুরায়
কোথায় পাবেন ডোজ!

সবাই যদি এগিয়ে আসি
বাড়াই দয়ার হাত
তবেই চাচা শীতকে এবার
করবে কুপোকাত।


মুহাম্মাদ রাসুল
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

ধরা যখন অন্ধকারে
ছিল নিমজ্জিত
কন্যা হলে মানুষ যখন
জিন্দা করব দিত।
সবল ছিল অত্যাচারী
অন্যরা মজলুম
চোর-ডাকাতের ভয়ে সবার
হারাম হতো ঘুম।

শিরক-বিদা’ত-পাপাচারে
ডুবে ছিল সব
মানত নানান দেব-দেবি
জানত না কে রব।
হানাহানি-দ্বন্দ্ব ছিলো,
নিত্য হতো যুদ্ধ
দিকে দিকে মানবতা
ছিল অবরুদ্ধ।

ঠিক তখনি কেগো এসে
ভেঙে দিল ভুল
মানবতার বন্ধু তিনি
মুহাম্মাদ রাসূল।


শীতের পাখি
জুলফিকার আলী

ডানায় উড়ার স্বপ্ন এঁকে,
এলি পাখি কোন দেশ থেকে।
যাবি বলে বাংলাদেশ বেড়িয়ে,
এলি কি তুই সাইবেরিয়া পেরিয়ে।
হিজল গাছে বাসা বুনবি,
শীতের বুড়ির গল্প শুনবি।
ঝিলের জলে মাছ খাবি
সাথে আরো শামুক পাবি।
থাকবি তোরা ক'তিথি?
বলনা শীতের অতিথি।
আশ্রয় পেতে বাংলায় আসিস,
পুকুর, ডোবায় সুখে ভাসিস।
এই অতিথি পাখিদের,
শিকার নিষেধ বন্যপ্রাণী বাকীদের।
না ধরি অতিথি পাখি,
নিরাপদে তাদের রাখি।


মন ছুটে যায়
সা'দ সাইফ

মন ছুটে যায় দূর নীলিমায়
পাখিরা যেথা ভেসে বেড়ায়।
মন ছুটে যায় দূর পাহাড়ে
ঝর্ণা যেথা আছড়ে পড়ে।
মন ছুটে যায় ফুলের বনে
ভোমরা যেথা মধুর টানে।
মন ছুটে যায় সবুজ ঘাসে
হাঁটতে যেথা শিশির মেশে।
মন ছুটে যায় নদীর বাঁকে
স্বপ্নেরা যেথা আমায় ডাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ