বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অবৈধ ইহুদী বসতি নির্মাণ বন্ধে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ১৪-০ ভোটে পাস ॥ শর্ত মানতে অস্বীকৃতি ইসরাইলের

২৪ ডিসেম্বর, বিবিসি : দখলকৃত ভূমিতে ইসরাইলী অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধের আহবান জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
এসব বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে ওই প্রস্তাবে।
প্রস্তাবটি পাস হওয়ায় ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও, ইসরাইল জানিয়েছে, প্রস্তাবের শর্তগুলো তারা মানবে না।
প্রথমে মিসর এ প্রস্তাবটি এনেছিল, কিন্তু এর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য মার্কিন হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করে ইসরাইল। এরপর মিসর প্রস্তাবটি ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু পরে মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, সেনেগাল আর ভেনিজুয়েলা আবার প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে তোলে।
১৫ সদস্য দেশের পরিষদে গত শুক্রবার ১৪-০ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়, ভোট দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
এ ধরণের ভোটাভুটিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ভেটো বা আপত্তি দিয়ে থাকে। তবে এই প্রস্তাবের ভোটের সময় দেশটি ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে।
জাতিসঙ্ঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার বলেছেন, প্রস্তাবের সব শব্দ বা বক্তব্যের সাথে একমত নয় বলে এর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র নয়। আবার আমরা বিরুদ্ধেও দাড়াইনি, কারণ সমস্যার সমাধানে যে দুই দেশ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, এই প্রস্তাব তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
প্রস্তাবটি পাসে সন্তোষ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনী নেতারা বলেছেন, এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের বড় বিজয় এবং ইসরাইল যে উগ্র কর্মকাণ্ড করছে, সেটির প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ব।
তবে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, ইসরাইল এই প্রস্তাবের শর্ত মানবে না বরং এই প্রস্তাবের কার্যকারিতা ঠেকাতে তারা মার্কিন হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অপেক্ষা করবেন।
ট্রাম্প এর মধ্যেই বলেছেন, আসছে জানুয়ারি তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতি অন্যরকম হবে।
বসতি নির্মাণের বিষয়টি ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাকর বিষয় এবং শান্তি আলোচনার বড় বাধা বলে বিবেচনা করা হয়।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা জমিতে ১৪০টি বসতি তৈরি করেছে ইসরাইল, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ ইহুদী বসবাস করেন।
এদিকে ফিলিস্তিন নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিল আমেরিকা। ইসরাইলের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়ে ফিলিস্তিনে ইসরাইল-অধিকৃত অংশে নির্মাণের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা এক প্রস্তাবনায় ভোটদানে বিরত থাকল ওয়াশিংটন। যার জেরে এই প্রস্তাবনা পাস হয়ে গেল। ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই প্রস্তাব রুখে দিতে পারত তারা। এবারই প্রথম এমন সিদ্ধান্ত নিল দেশটি। এটা আমেরিকার দীর্ঘদিনের নীতির পরিবর্তন।
দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২২ ডিসেম্বর আবেদন করেছিলেন ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে ‘ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাবনা’ রুখে দিতে। কিন্তু ভোটদানে বিরত থাকার কারণ হিসেবে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার বলেছেন, ওয়াশিংটন মনে করে এই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের মধ্যে আবার দুই দেশের স্থিতিবস্থা নষ্ট হবে। নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেবে।
এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হননি ট্রাম্প। মার্কিন অবস্থানে তিনি যে খুশি হতে পারেননি তা টুইট করে জানিয়েছেন। বলেছেন, ২০ জানুয়ারির পর পরিস্থিতি অন্যরকম হবে। শুক্রবার এই নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছিল নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভেনেজুয়েলা, সেনেগাল। মিসরও প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছিল। তবে মার্কিন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের চাপে শেষ পর্যন্ত নাম প্রত্যাহার করে নেয়। অবশেষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪ দেশের ভোটাভুটিতে পাস হয়ে গেল এই প্রস্তাব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ