বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আবারো দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার

স্পোর্টস রিপোর্টার : জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম হয়ে টানা চারবার দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতলেন নৌবাহিনীর অ্যাথলেট শিরিন আক্তার। গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে আকর্ষণীয় এই ইভেন্টে শিরিন ১২.০১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌঁড় শেষ করে স্বর্ণপদক জেতেন। ১২.২০ সেকেন্ড সময়ে নৌবাহিনীর আরেক অ্যাথলেট সোহাগী আক্তার পান দ্বিতীয়স্থান। এবং ১২.৩৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন সেনাবাহিনীর বর্ষা খাতুন।
১০০ মিটার স্প্রিন্টের স্বর্ণটা যেন অবধারিতভাবে লেখা রয়েছে নৌবাহিনীর দুই অ্যাথলেট মেজবাহ ও শিরিনের জন্যই। তবে দ্বিতীয়স্থানটাও তো ওই সংস্থারই। জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার প্রথমদিন বৃহস্পতিবার মেজবাহর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন আবদুর রউফ। তাদের পার্থক্য ছিল .০৬ সেকেন্ডের। এবার অবশ্য তা হয়নি। সোগাহী আক্তার বেশ খানিকটা পিছিয়েই ছিলেন। ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করতে শিরিন যেখানে সময় নেন ১২.০১ সেকেন্ড। সেখানে সোগাহী ১২.২০ সেকেন্ড। এই দু’জনের পার্থক্যটা .১৯ সেকেন্ডের।
সেরা স্প্রিন্টারের মুকুট মেজবাহ জিতেছেন পাঁচবার। অন্যদিকে শিরিন চারবার। তবে অলিম্পিক খেলে আসা এই দুই অ্যাথলেটেরই লক্ষ্য ছিল মুকুট ধরে রাখা। সেটাই হয়েছে। এবারও পুরুষ ও মহিলা দ্রুততম মানব ও মানবীর খেতাব গেছে নৌবাহিনীর ঘরেই। সেরা স্প্রিন্টারের মুকুট ধরে রাখতে পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শিরিন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসের পাঁ ছুয়ে সালামও করেন। এর কারণ অবশ্য ব্যাখ্যা করেন নৌবাহিনীর এই স্প্রিন্টার, ‘আসলে সোহাগীকে অনেক বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়েছিল। তাই বেশ জোড়েই দৌড়েছিলাম। পড়ে দেখলাম আসলে আমিই চ্যাম্পিয়ন। তাই আনন্দে কান্না এসেছিল।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শিরিন আক্তার। এ বছর পরীক্ষাও দিচ্ছেন তিনি। তাই পরীক্ষা শেষ করে বিকেল তিনটায় অনুশীলন করতেন শিরিন। অনেকটা কষ্ট করেছেন সেরার মুকুট ধরে রাখতে। শুনুন শিরিনের মুখ থেকেই, ‘এবার এই খেতাব ধরে রাখতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এ জন্য আমি নৌবাহিনী ও কাফী স্যারকে ধন্যবাদ।’ তখনো সময়টা হয়তো জানেনা শিরিন। তবে টাইমিংয়ের যে উন্নতি হয়েছে সেটা বুঝতে পেরেছিলেন, ‘আমার মনে হয় টাইমিংয়ে উন্নতি হয়েছে। এটাই আমার চাওয়া ছিল।’ শিরিনের আগের টাইমিং ছিল ১২.২০ সেকেন্ড। অলিম্পিকের পর নিজেই একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ছিলেন বলে জানান শিরিন, ‘আসলে অলিম্পিক গেমসে খেলাতেই একটি চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সেরার মুকুট ধরে রাখার। চ্যালেঞ্জটা নিজের সঙ্গেই ছিল। তা ধরে রাখতে পেরে আমি খুশী।’ তবে দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের অভাবের কথা মেজবাহর মতো বললেন শিরিনও। তার কথায়, ‘দীর্ঘ মেয়াদী অনুশীলন করতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হতো। আর তা হলে আগামী সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে স্বর্ণের আশা করতে পারবো।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ