বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

‘বাবুল জড়িত থাকলে তদন্ত করা হোক’ মিতুর বাবা

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম অফিস : সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আকতার মিতু হত্যা মামলার বিষয়ে এবার মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্ত কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সিএমপি কার্যালয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সিএমপি সূত্র জানায়, মিতু হত্যা মামলার বিষয়ে মিতুর বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের কাছে বাবুল আক্তার ও মিতুর বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছে। প্রশ্ন করেছেন, মিতু হত্যার আগে ও পরে বাবুল আক্তার তার ঢাকার বাসায় অবস্থানকালীন সময়ে আচরণ সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে। মিতু হত্যায় বাবুল আক্তারের হাত রয়েছে এমন গুঞ্জন আছে পুলিশ প্রশাসনে। ফলে অতি স্পর্শকাতর হয়ে ওঠেছে এ মামলাটি। মোশাররফ হোসেন বলেন, মিতু হত্যাকা-ের সঙ্গে বাবুলের যদি কোন সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে অবশ্যই তা তদন্ত করা হোক। শুধু বাবুল নয় অন্য কেউও যদি জড়িত থাকে তাও তদন্ত করে দেখা হোক। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন পুলিশের এক সময়কার কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন। হত্যাকারী যেই হোন তাকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বাবুল আক্তারকে সন্দেহ করেন কি না সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাবুলকে সন্দেহ করি না। হত্যাকারী যেই হোন বাবুল আক্তারও যদি হয়ে থাকেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মো.কামরুজ্জামান জানান, মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে মিতুর বাবাকে ডাকা হয়েছে। তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর বাবুল আক্তারও সিএমপিতে আসেন। স্ত্রী খুনের মামলার বাদি হিসেবে ওইদিন বাবুল আক্তার সিএমপিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের কার্যালয়ে হাজির হয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন।
এই বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেছিলেন, মামলার বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি মৌখিকভাবে উনাকে (বাবুল আক্তার) আমার কার্যালয়ে আসার অনুরোধ করেছিলাম। অনেকবার অনুরোধের পর তিনি এসেছেন। বাদি হিসেবে মামলা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। আমিও কিছু তথ্য জানতে চেয়েছিলাম। সেগুলো তিনি জানিয়েছেন।
৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নগরীর ও আর নিজাম রোডে দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও গুলীতে নিহত হন সদর দফতর কর্মরত তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার নিজে বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। হত্যাকা-ের পর ২৪ জুন রাতে বাবুল আক্তারকে রাজধানীতে তার শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে আসামির মতো তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে বাবুল আক্তারের পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
মিতু হত্যা মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই মামলার দুজন আসামি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। দুজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছে, মুছার নির্দেশে এবং তদারকিতে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। পুলিশের সোর্স মুছা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। মুসার পরিবার দাবি করেছে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কিন্তু পুলিশ এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে,মুসা পলাতক। তাকে ধরার জন্য বিমান বন্দর ও সীমান্ত ফাঁড়ি গুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
সিএমপির গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সুপার হয়েছিলেন বাবুল আক্তার। মিতু হত্যাকা-ের আগের দিন তিনি পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ সুপার পদে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তার যোগদান হয়ে ওঠেনি। দেশ-বিদেশে আলোচিত এ হত্যাকা-ের প্রায় দু’মাস পর পুলিশের চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন বাবুল আক্তার বর্তমানে তিনি একটি হাসপাতালে চাকরি করছেন বলে সূত্রে প্রকাশ। সব মিলিয়ে মিতু হত্যা রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ