শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শাবি খুলে দেয়া হলো

সিলেট ব্যুরো : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের পর গত বুধবার থেকে ১৫ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন শাবি ভিসি আমিনুল হক ভূইয়া। বুধবার ২ টা থেকে শাবি খুলে দেয়ার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রছাত্রীরা প্রথমে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। ঐ দিন ২টা থেকে ভিসিসহ সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ভিসি কার্যালয়ের কর্মচারীসহ সবাইকে তারা তালা বদ্ধ করে রাখে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভিসি কার্যালয়ের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। একদিন বন্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পিছু হটে সাড়ে ২১ ঘন্টা পর মুক্ত হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নিজ বাংলোয় গেছেন শাবি ভিসি ড. আমিনুল হক ভূঁইয়া। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জরুরী সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের পরই অবরোধ তুলে নিয়ে ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়। ফলে তিনিসহ ভেতরে আটকা পড়া কর্মকর্তারা মুক্ত হন। সেখান থেকে ভিসি তার বাংলোয় যান।

গত বুধবার সকালে ছাত্রলীগের বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে সিন্ডিকেট সভায় আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা প্রথমদিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করলেও পরে ক্যাম্পাসে এসে ভিসি ভবন ঘেরাও করেন। ফলে সেখানে ভিসি ছাড়াও শাবির কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী আটকা পড়েন। বিকেলে ওই ভবনের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা।

মাঝখানে সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভার জন্য ভবনের তালা খুলে দেয়া ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছিল। তখন শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। কিন্তু সেটা আদায় না হওয়ায় রাত ৯টার দিকে দ্বিতীয় দফা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

অবরোধের সাড়ে ১১ঘন্টা পর নিজের কার্যালয় ফটকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছিলেন শাবি ভিসি অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার কথায় আশ্বস্থ হতে না পেরে রাতভর অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান।

সংকট নিরসনে সকাল সাড়ে নয়টায় জরুরী সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এবং আগামী রোববার পর্যন্ত বৈধ ছাত্রদের জন্য তিনটি ছাত্রহল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে সিন্ডিকেট কমিটির সভায় ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া শাবির তিন আবাসিক ছাত্রহলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা তদন্তে শাবির পরিবেশ ও পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জহির বিন আলমকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি খুব শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে বলে জানা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ