রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে সৃষ্ট সংকট ক্রেতাদের কালো তালিকা দীর্ঘ করবে

স্টাফ রিপোর্টার : সাম্প্রতিক সময়ে সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় নতুন করে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। পোশাক কারখানার পরিবেশগত মান উন্নয়নে অ্যাকর্ড এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোর সুপারিশের প্রেক্ষিতে কিছু উন্নয়ন হলেও নতুন সংকট পোশাক ক্রেতাদের আগের কালো তালিকা আরো দীর্ঘ করবে বলে আশংকা প্রকাশ হচেছ। 
গত কয়েক দিনের ব্যবধানে উল্লিখিত এলাকায় যেভাবে শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে তাতে অনেক ক্রেতাই নতুন করে অর্ডার দেবে না। একই সাথে অনেক পোশাক কারখানাও তাদের ক্রেতাদের চাহিদামতো মাল ডেলিভারি  দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ক্রেতাদের কালো তালিকার পোশাক কারখানার সংখ্যা আরো দীর্ঘ করবে।
শ্রমিক অসন্তোষের এই পরিস্থিতির আগে থেকেই দীর্ঘ আড়াই বছরে কয়েক দফায় সময় নিয়েও ত্রুটি সংশোধন করতে পারেনি ১৭৮ পোশাক কারখানা। ফলে এসব কারখানা এখন ক্রেতাজোটের কালো তালিকায় চলে গেছে। ক্রেতাদের দুইটি জোটই চিহ্নিত এসব কারখানাকে চূড়ান্তভাবে চিঠি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের পোশাক খাতের এই কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মানদ- উন্নয়নে কাজ করছে আন্তর্জাতিক দুই ক্রেতাজোট। এ নিয়ে পরিদর্শন চালাতে গিয়ে শনাক্ত হওয়া ত্রুটি সংস্কারে পিছিয়ে থাকা পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কও ছেদ করছে জোট দুটি। সম্পর্ক ছেদ হওয়া এসব কারখানাকে টার্মিনেটেড সাপ্লায়ার হিসেবে চিহ্নিত করছে ইউরোপভিত্তিক ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ। অন্যদিকে একই ধরনের কারখানাকে সাসপেন্ডেড ফ্যাক্টরি বলে অভিহিত করছে উত্তর আমেরিকাভিত্তিক অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি। গত আড়াই বছরে ১৭৮ কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছে জোট দুটি।
জানা গেছে,  শ্রমিকের স্বার্থে কারখানার নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা, ত্রুটিযুক্ত কারখানা খালি করায় অনীহা, অনৈতিক কর্মকা- সংস্কারের প্রমাণ দিতে ব্যর্থতা, মূল্যায়নে অসহযোগিতা, কারখানা নকশার ঘাটতিসহ নানা কারণে এ ১৭৮টি কারখানার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছে ক্রেতাজোট দুটি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই  দায়ী করা হয়েছে কারখানার নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ ব্যর্থতাকে। ফলে এসব কারখানার সঙ্গে লেনদেনে না জড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দুই শতাধিক ক্রেতার প্রতি সুপারিশ জানিয়েছে জোট দুটি। তবে ত্রুটি সংশোধন সাপেক্ষে জোট দুটির সঙ্গে আবারো সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ রয়েছে কারখানাগুলোর। সেক্ষেত্রে নিজ খরচে মূল্যায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে কারখানা কর্তৃপক্ষকেই।
সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে অ্যালায়েন্সের আওতাভুক্ত মোট কারখানার সংখ্যা ৬৭১। এসব কারখানায় কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১১ লাখ শ্রমিক। অন্যদিকে অ্যাকর্ডের আওতাভুক্ত মোট কারখানা রয়েছে ১ হাজার ৬৪৭টি। এগুলোয় কর্মরত রয়েছেন প্রায় সাড়ে ১৯ লাখেরও বেশি শ্রমিক।
অ্যালায়েন্সের সম্পর্কোচ্ছেদের তালিকায় কারখানা রয়েছে ১০৮টি। এর মধ্যে সাতটিতে পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু হলেও তা এখনো সাসপেন্ডেড হিসেবেই চিহ্নিত রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাকর্ডের ‘টার্মিনেটেড’ তালিকাভুক্ত কারখানার সংখ্যা ৭০। এগুলোর মধ্যে বৃহৎ-ক্ষুদ্র ও মাঝারি তিন ধরনের কারখানাই রয়েছে। রয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের মালিকানাধীন কারখানাও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ