শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বছর জুড়েই খুলনায় লবণের বাজার অস্থিতিশীল

খুলনা অফিস : খুলনার খুচরা বাজারে এখন কেজি প্রতি লবণের মূল্য সর্বনিম্ন ২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ টাকা। সেপ্টেম্বরে ছিল সর্বনিম্ন ২৪ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা। তবে জুলাইয়ে ১৮ থেকে ২৮ টাকা দরে কেজি বিক্রি হলেও এপ্রিলে ফের বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ থেকে ৪০ টাকায়। অবশ্য, খুলনার উৎপাদিত লবণ মার্চ ১৬ থেকে ১৭ টাকা আর জানুয়ারিতে ১৬ থেকে ২০/২২ টাকায় কেজি বিক্রি হয়। বছর জুড়েই খুলনায় লবণের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সেই সাথে ছুঁয়েছে কেজি প্রতি রেকর্ড মূল্য। 

সূত্র জানায়, লবণের এই রেকর্ড মূল্য গড়ার নেপথ্যে ছিল ভরা মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া, কাঁচামাল সংকটে মিলের উৎপাদনে ভাটা, সরবরাহে ঘাটতি, সীমান্তলগ্ন জেলাগুলোসহ স্থানীয় বাজারে চোরাইপথে আসা ভারতের লবণ আধিপত্য বিরাজ, অসাধু ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ও কোরবানি ঈদে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া। ঘাটতি পূরণে এবার বিদেশ থেকে আমদানি হলেও আশানুরূপ দাম কমেনি। 

সূত্র আরো জানায়, ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছরই লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। ১৯৭৪ সালে এ অঞ্চলে সের প্রতি লবণের মূল্য ছিল ৮০ টাকা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার, টেকনাফসহ দেশের প্রায় দশ অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত লবণ খুলনার পদ্মা সল্ট ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, পূরবী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিাজ, মধুমতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিাজ (প্রাঃ) লিমিটেড, তিতাস সল্ট ইন্ডাস্ট্রিাজ, তিস্তা সল্ট ইন্ডাস্ট্রিাজ, রমনা সল্ট রিফাইনারীজ, রাজাপুর সল্ট রিফাইনারীজ, ইছামতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিাজ ও গফ্ফার ফুড প্রোডাক্টস পরিশোধন করা হয়। শতকরা ৩০ ভাগ ঘাটতির কারণে এক মণ লবণ পরিশোধন করলে মেলে ২৮ কেজি। ফলে পাইকাররা ২০ থেকে ২১ টাকা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ২৪ থেকে ২৫ টাকায় আয়োডিনযুক্ত সাধারণ লবণ বিক্রি করছে। সাধারণ আয়ের মানুষেরা এই লবণ গত বছরে ৯/১০ টাকায় ক্রয় করেছে। তবে কোরবারি ঈদকে ঘিরে অস্থির হয়ে ওঠে লবণের বাজার। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে মাঠ পর্যায়ে লবণের মণ ৮০০ টাকা হয়। এ বছরের আগস্টে ১০-১২ টাকায় বিক্রিত লবণ হয় ২২-২৪ টাকা এবং ১৮-২৮ টাকা দরে বিক্রিত প্যাকেটজাত লবণ ৩৫-৪০ টাকা হয়। দেশে লবণের ঘাটতির অজুহাতে সিন্ডিকেট দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়াতে বরাবরই তৎপর একটি চক্র এমন অভিযোগ ওঠছে। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে লবণ উৎপাদন শুরু হয় মহেশখালীতে। উৎপাদন শুরুর সাথে দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসার কথা থাকলেও তা হয়নি। 

জানা গেছে, ২০১৫ সালে লবণ উৎপাদন মৌসুম চৈত্র মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ঘটে। ফলে উৎপাদনের লক্ষমাত্রার ৩ লাখ টন ঘাটতি দেখা দেয় বিসিকের জরিপে। যদিও মন্ত্রণালয় ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেয়। এ বছরও উৎপাদন মৌসুমে পরপর দু’বার বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে উৎপাদন গতি হ্রাস পায়। ফলে বাজারে হু-হু করে লবণের দাম বেড়েছে। ২৮০/২৯০ টাকা মণ প্রতি বিক্রয়ের লবণ বর্তমানে সর্বনিম্ন ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা হয়। পাইকারী দরের ১২/১৩ টাকা কেজি প্যাকেট লবণ ১৫/১৬ টাকা থেকে শুরু করে বর্তমানে ২০/২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোটা বছর জুড়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি মূল্য বেড়েছে। সেই সাথে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মতো আছেই। আর নতুন আতঙ্ক সীমান্ত লগ্ন জেলার বাজার ও মোকামে, এমনকি স্থানীয় বাজারেও ভারতের লবণ চোরাইপথে ঢুকছে। 

খুলনা লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও পূরবী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল পোদ্দার ও মধুমতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব আকতার হোসেন ফিরোজ বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন ঘাটতির সাথে গত বছরের ঘাটতি মিলিয়ে চরম কাঁচামাল সংকট দেখা দিয়েছে। এতে একদিকে মিলগুলো উৎপাদন গতি হারিয়েছে, অন্যদিকে চাহিদানুযায়ী বাজারে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশের শিল্পখাতে কয়েকগুণ লবণের চাহিদা বেড়েছে। দেশের লবণ শিল্প তথা মিলগুলো সচল রাখতে অচিরেই লবণ আমদানি উন্মুক্ত করার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ