শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বেকুটিয়ায় ৬শ’ ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এগিয়ে চলেছে ঝালকাঠি-পিরোজপুর সংযোগ সেতুর নির্মাণ কাজ

মো. আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি : বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের সংযোগ স্থল কচা নদীতে বেকুটিয়া ফেরীঘাট সংলগ্ন এলাকায় বেকুটিয়া সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। সর্বনিম্ন দরদাতা চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এর সত্ত্বাধিকারী “ঝিয়াং-জি” এর সাথে চুক্তি অনুযায়ী সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা বরাদ্দে  এ কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের ঝালকাঠি-পিরোজপুর সংযোগ স্থল বেকুটিয়ার কাছে কচা নদীর উপর প্রায় ১ হাজার ৪৮০ মিটার দীর্ঘ “চীন বাংলাদেশ ৮ম মৈত্রি সেতু নির্মাণে ৩শ মিলিয়ন ইউরোপিয়ান ডলার এর একটি অনুদান চুক্তি সম্পাদিত হয়। বেকুটিয়া সেতুর প্রকল্প ব্যায় প্রথমে ধরা হয় ১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু চীন সরকার এর ব্যায় ৬শ ২০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে। যার মধ্যে মূল সেতুর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছে ৪শ কোটি টাকা। বাকি টাকা সেতুর সংযোগসড়ক নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যায় করা হবে। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি জানান, ডিসেম্বরের শুরুতেই কচা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ জুন রাজধানীর সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পরিমল বিকাশ সুত্রধর এবং চীন সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এজেন্সির ডেপুটি ডিরেক্টর জিয়াং জিং ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রাথমিকভাবে এই মূল সেতু নির্মাণের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শত ২০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই চীন সরকার অনুদান দিতে সম্মত হয়েছে। মূল সেতুর দুই দিকের সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণের মূল্য এবং সড়ক নির্মাণের খরচ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া নির্মাণ কাজে বিদ্যুৎ, মাটি ভরাট এবং চীনের প্রকৌশলীবৃন্দসহ চীনা কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের। পিরোজপুর শহরে ৫ কিলোমিটার পূর্বে কচা নদীর ভাটিতে বেকুটিয়া ফেরিঘাটের সন্নিকটে এ সেতু নির্মাণ করা হবে। বেকুটিয়া ফেরিঘাট থেকে ৮শত ৩৫ মিটার দক্ষিণে এবং কাউখালী প্রান্তের ফেরিঘাট থেকে ১১৫ মিটার উত্তরে ১.৪৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৩.৪ মিটার প্রশস্ত এবং ব্রিজের উভয়পাশে ১.৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। যাবতীয় নদী শাসন, আবহাওয়া বাতাসের গতি নদী ভাংগন বিষয়ে জরিপের জন্য চীনা বিশেষজ্ঞদল কয়েকবার এসে এলাকা ঘুরে সবকিছু চূড়ান্ত করেছে। এদিকে দীর্ঘদিনের সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘব হতে যাওয়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে মুখে এখন পদ্মা ও বেকুটিয়া সেতু। বেকুটিয়া সেতুর কাজ সমাপ্ত হলে বেকুটিয়া নৈকাঠী ও চরখালী-টগড়া ফেরি সার্ভিসের আর কোন প্রয়োজন হবে না। এদিকে দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর পায়রা এবং সমুদ্র সৈকত সাগর কন্যা কুয়াকাটার সাথে সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল এবং সমুদ্র বন্দর মংলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে এই বেকুটিয়া সেতুটি। পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম জানান, এই সেতুটি নির্মিত হলে পিরোজপুর জেলার চারটি উপজেলার সাথে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক সংযোগ হবে। ঝালকাঠি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মাহবুব হোসেন জানান, বেকুটিয়া সেতু নির্মিত হলে মংলা ও বেনাপোল বন্দরের সাথে যোগাযোগের সময় অনেকটা কমে যাবে। ফলে পরিবহন খরচ ও সময় কম লাগবে। এ অঞ্চলের অর্থনীতির ক্ষেত্রে এক ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান অকল্পনীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ