মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

কলকাতার সাহিত্য পুরস্কার পেলেন মুহম্মদ মতিউর রহমান

কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা ‘নতুন গতি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৬’ পেলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক মুহম্মদ মতিউর রহমান। কলকাতার বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা  ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর সাহিত্য ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ  পুরস্কার দিয়ে আসছে। এ বছর বাংলাদেশের অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের আরো চারজন সাহিত্যিককে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন কবীর সুমন, কামাল হোসেন, মহম্মদ বরজাহান ও সিদ্ধার্থ সিংহ। সমাজসেবার জন্য পুরস্কার পানÑ সাংসদ ইদ্রিশ আলি, কাজী মুহাম্মদ ইয়াসীন, ডা. আবদুল হামিদ, মহ: মাসুদ মির্দ্যা ও ওমর ফারুক সিদ্দিকী। লিটল ম্যাগাজিনের জন্য পুরস্কার পান প্রশান্ত রায় ও এ. মতলেব। পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে ‘কলকাতার মুসলিম ইনস্টিটিউট হল’-এ গত ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ থেকে মুহম্মদ মতিউর রহমানসহ পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট কবি-শিল্পী-লেখক-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সাহিত্যিক দেবেশ রায়। স্বাগত ভাষণ দেন নতুন গতির সম্পাদক এমদাদুল হক নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ সুলতান আহমেদ, সাহিত্যিক আব্দুর রউফ, আবদুর রাকিব, ড. গৌতম নিয়োগী, ড. মীরাতুন নাহার, সাজাহান বিশ্বাস, ড. সুঞ্জন মিদ্দে, ডা. এম. নুরুজ্জামান, ড. সেখ আবদুল মুজিদ, সাহিদ আকবর, মেহবুব মুর্শিদ, এ টি এম রফিকুল হাসান ও খাদেমুল ইসলাম। পরের দিন ৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ‘উর্দু একাডেমি হল’-এ সাহিত্য পাঠের আসর বসে। উভয় অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক হিন্দু-মুসলিম কবি-সাহিত্যিকগণ অংশগ্রহণ করেন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক মুহম্মদ মতিউর রহমানের জন্ম ৩রা পৌষ, সোমবার ১৩৪৪ (১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩৭) সিরাজগঞ্জ জেলার অন্তর্গত শাহজাদপুর উপজেলার চর নরিনা গ্রামের  মাতুলালয়ে। পৈত্রিক নিবাস শাহজাদপুর উপজেলার চর বেলতৈল গ্রামে। পিতা আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানী ও মা মোছাম্মৎ আছুদা খাতুন। গ্রামের স্কুলে পিতার তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ, ১৯৫৬ সালে মেট্রিক, ১৯৫৮ সালে  আই.এ. ও ১৯৬০ সালে বি.এ. এবং ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ. পাস করেন। ১৯৬২ থেকে ঢাকাস্থ সিদ্ধেশ্বরী কলেজে যথাক্রমে অধ্যাপক, ভাইস-প্রিন্সিপ্যাল ও ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ্যালের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালে মাত্র চার মাসের জন্য করটিয়া সা’দৎ কলেজে যোগ দেন। এছাড়া, ১৯৬৩-৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকাস্থ আমেরিকান প্রকাশনা সংস্থা ‘ফ্রাঙ্কলিন বুক প্রোগ্রামস’-এ সহকারী সম্পাদক ও প্রথম বাংলা বিশ্বকোষ প্রকল্পের অন্যতম সম্পাদক ও ১৯৭০-৭১-এ ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এর সাহিত্য-সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৭-৯৬ পর্যন্ত ‘দুবাই চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’তে প্রকাশনা বিভাগে সম্পাদক এবং ২০০৩-০৯ তে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর বাংলা বিভাগের  প্রফেসর ও চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহঃ সাহিত্যচিন্তা, বাংলা সাহিত্যের ধারা, বাংলাদেশের সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্য, হাজার বছরের বাংলা কবিতা, রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ ও আমাদের সংস্কৃতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, গদ্যশিল্পী নজরুল, বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি নজরুল (জীবন ও কাব্য), ফররুখ প্রতিভা, ফররুখ আহমদের স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য (১ম ও ২য় খ-, সম্পাদিত), বাঙালি মুসলিম নবজাগরণে সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠনের ভূমিকা, বাংলা ভাষা ও ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, সাহিত্য কথা, ভাষা ও সাহিত্য, ঞযব ঋৎববফড়স ড়ভ ধ ডৎরঃবৎ ধহফ ড়ঃযবৎ ঊংংধুং, মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতœ ঃ জীবন ও সাহিত্য, নজিবর রহমান রচনাবলী (১ম ও ২য় খ-, সম্পাদিত), সংস্কৃতি, আমাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি, ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বাংলা সন ও বাংলা নববর্ষ,  ঐতিহ্য সভ্যতা সংস্কৃতি, ইবাদত, মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ মহানবী স., মহানবীর আদর্শ সমাজ, মানবাধিকার ও ইসলাম, ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার, মুসলিম বীর ও মনীষী, হৃদয়ে কাবা, স্মৃতির সৈকতে, আরব উপসাগরের তীরে, নিভৃতে অলিন্দে, ইউরোপ আমেরিকার পথে জনপদে, অনিন্দ্য নগরী ইস্তাম্বুল প্রভৃতি। -মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ