শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

উপেক্ষিত প্রথম মুসলিম মহিলাকবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা

আজাদ এহতেশাম : বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবি সাহিত্যিকদের কাব্যকীর্তির অপ্রতুলতায় পূর্ণতার মানসে হঠাৎ আলোর দ্যুতি নিয়ে আবির্ভাব যশস্বী কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার (১৯০৬-১৯৭৭)। তিনি স্বকালে মুসলিম কবিদের অকর্ষিত ঊষর কাব্যভূমে স্বীয় মেধা, মনন ও প্রজ্ঞার অমিয় বারি সিঞ্চলে সজীব ও শ্যামলতায় প্রাণবন্ত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। দৃঢ় প্রত্যয় ও একনিষ্ঠতায় বিভাগপূর্ব বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবি সাহিত্যিকদের অস্তিত্বের সংকটকালে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। তাঁর সৃষ্ট পথপরিক্রমায় পরবর্তী মুসলিম কবি সাহিত্যিকগণ সাহিত্য সাধনার পরম্পরা ও প্রেরণার যোগসূত্রের সন্ধান পেয়েছিলেন।
বিশ শতকের সমাজ প্রেক্ষাপটে মুসলিম নারীর সাহিত্য চর্চা অকল্পনীয় ছিল সন্দেহাতীত ভাবে।  কুসংস্কারের  ঘেরা টোপ ছিঁড়ে প্রথম নিজেকে অসুর্যস্পর্শা মুক্ত করলেন রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২), এর পরেই মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার (১৯০৬-১৯৭৭) অবস্থান। উচ্চশিক্ষিত না হয়েও আত্মস্বভাবজাত কবি সত্তার মৌলিকত্বে সমকালে প্রতিষ্ঠিত কবি সাহিত্যিকগণের দৃষ্টি আকর্ষক হতে পেরেছিলেন। পরবর্তীকালে সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯) তাঁর কণ্টকমুক্ত পথের নিশানা সূত্রের পদচারণায় বাংলা সাহিত্যে অন্যতম নারী সাহিত্যিকের শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার (১৯০৬-১৯৭৭) কাব্যের বিষয়বস্তু বহু বর্ণিল বিচিত্র অনুষঙ্গ প্রত্যক্ষীভূত না হলেও প্রকৃতি, পরিবেশ, পারিপার্শি¦কতা, জীবন, সমাজ ও মানুষ তাঁর কাব্যে বৃহৎ অংশ জুড়ে বিস্তৃত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, প্রাণহানি, বিপর্যস্ত মানবিকতা মধ্যবিত্তের অস্তিত্বের টানাপোড়ন গোটা বিশ্বকে গভীর সংকটে নিপতিত করে। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা দেশে দেশে মানবিক বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করে সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন যা তাঁর কাব্যের পঙক্তিতে মূর্ত হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া তাঁর কাব্যে নিসর্গ প্রকৃতি রোমান্টিক কবি মানসের সংশ্লিষ্টতায় কখনো গীতি সংক্রান্ত আবার কখনো নিরাভরন সৌন্দর্য ও বেদনার চিত্রকল্পে অপূর্ব বাণীমূর্তিরূপে আবির্ভূত হয়েছে।
তাঁর কবি প্রতিভার কিরণ প্রভা প্রতিভাত হয়েছিল একেবারে কৈশোরকাল থেকেই। রাজশাহী মিশন স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ‘ইসলাম জ্যোতি’ নামে একটি খাতায় কবিতার পান্ডুলিপি রচনা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এ সময়ে তাঁর গৃহশিক্ষক ছিলেন ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের লেখক সাহিত্যরত্ম উপাধি খ্যাত নজিবর রহমান। তিনি ছাত্রীর সুপ্ত কবি সত্তার যথার্থ বিকাশে সৃজন প্রেরণায় তাঁকে উজ্জীবিত করে তোলেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখা তাঁর ‘বসন্ত’ নামক কবিতার নমুনা:
আজি কত দিন পরে
বসন্ত আইল ঘরে
চারিদিক সাজাইয়া
ঢোলবাদ্য বাজাইয়া
ফুলের সাজে আইলরে
বসন্ত আবার ঘরে
জুই বেলি চারিদিকে
বসন্ত মাঝারে থাকে
কচি কচি পাতা ফোটে
বসন্ত বাহার উঠে।

প্রথম কাব্য ‘পশারিণীতে (১৯৩১)’ কবি হৃদয়ে ভাবোচ্ছ্বাস ও ব্যথিত চিত্তের শূন্যতা ও রিক্তার প্রতিভাস পরিলক্ষিত হয়। আবেগের প্রবল প্রাধান্য গীতিরসের সংশ্লিষ্টতায় পাঠক চিত্তকে রোমাঞ্চিত করে তোলে। ‘পশারিণী’ কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আবহ সংগীত’। এ কবিতায় কবির গীতিরসময়তার পরিচয় ফুটে উঠেছে :
    এস জ্যোৎ¯œা আলোক-নিশীথে
    এস নব-নব তরুবীথিতে
    এস উজ্জ্বল গীত-ধারা
    এস আকুল স্বপন-পারা
    এস হৃদয়ে এস বাহিরে
    এস তুষিতে, এস তৃষিতে!
                     [“আহ্বান সঙ্গীত” ‘পশারিণী’]

কৈশোরে মাতৃবিয়োগ কবি চিত্তকে ব্যথিত ও বিমর্ষ করেছিল। মাতৃ¯েœহ বঞ্চিত কবির আত্মমগ্ন চৈতন্যে জুড়ে ছিল মায়ের সুস্থিত উপস্থিতি। মাকে হারানোর বেদনা কবি কখনো বিস্মৃত হন নি। ‘অল্প বয়সে মাকে হারিয়ে ছিলেন বলে কবির চিত্ত বাইরের জগৎকে স্বভাবতঃ আঁকড়ে ধরেছিল। মাতৃহারা হৃদয়ের ক্ষুদ্র বেদনা নিয়ে বাল্য বয়সে কবিতাও রচনা করেছিলেন।’ মায়ের  অভাবে তাঁর শূন্য হৃদয়ের আকুতি:
    ওরা যে কত আনন্দ করে
    কত আর উৎসব ধরে
    আমার হৃদে কিসের উৎসব
    ওদের মত আমার মা থাকিলে
    আমি করিতাম উৎসব
    হায় ওকে ডাকিবে না কেহ
    ওকে চোখের জল মুছাবে না কেহ
    ওকি শুধু এমনি রবে।
সাহিত্য শিল্প সমঝদার ব্যক্তিসত্তার একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির নাম রোমান্টিকতা। মানব মনের কল্পিত জীবন ও জগতের বাস্তবতারোহিত এক প্রকার রহস্যময় চিত্রকল্প বিনির্মাণে রোমান্টিক কবিদের স্বতন্ত্র প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার কাব্যে রোমান্টিক ভাবোচ্ছ্বাসের সঙ্গে অন্বিত সৌন্দর্যবোধ তাঁর কাব্য ভাবনায় বিশিষ্টতা দান করেছে। ‘প্রকৃতি-মাটি-মানুষ সমবায়ে সবল সৌন্দর্য-সম্ভার নব্যরীতি ও বিন্যাসে কবিতায় নিজেকে কিছু অংশে যুগোপযোগী রূপদানে সচেষ্ট হয়েছে: উক্ত প্রকৃতি চিন্তার রোমান্টিক-মিস্টিক ভাবোচ্ছ্বাসপূর্ণ দিক নিয়ে যাঁরা কাব্য চর্চায় অগ্নিতে আত্মরূপ গঠন করতে চাইলেন, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার অন্তর্ভূক্তি তাদেরই গোত্রে।’ তাঁর কবিতায় রোমান্টিকতা লক্ষণীয় :
    কজ্জ্বল চোখের করুণ মায়ায়,
    নির্বাক ধরাতল, গভীর, ব্যথায়,
    তব লাগি কাঁদিতেছে বিরহী মনে
    নিখিল জনে।
    ওই বনপথে পথে বাজায়ে বাঁশি
চলে উদাসী।
                        [“বরষা” ‘পশারিণী’]
মানব জীবনে প্রকৃতির প্রভাব দুর্লঙ্ঘনীয়। মানুষ প্রকৃতিরই সন্তান। তবে প্রকৃতিকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি শিল্প সাহিত্য বোদ্ধাদের অন্যদের চাইতে ব্যতিক্রম। প্রকৃতির সৌন্দর্যে বিশুদ্ধ কবি চিত্ত তাঁর রোমান্টিক তুলির আঁচড়ে প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত ও জীবন্ত করে উপস্থাপনে সচেষ্ট থাকেন। রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে মানুষ ও প্রকৃতি একাকার; প্রেম ও প্রকৃতি একই বৃন্তের দু’টি ফুল। কিন্তু মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার কাব্যে প্রকৃতি কেবলই নিটোল সৌন্দর্যের আধার- যা মনকে আকৃষ্ট করে প্রগাঢ় অনুভূতির জগতে রিক্ততার পূর্বাভাস দেয়:
    হিম কুহেলির অন্তরতলে আজিকে পুলক জাগে
    রাঙিয়া উঠেছে পলাশ কলিকা মধুর রঙিন রাগে
    আসিবে এবার ঋতুরাজ বুঝি
    তারি বাঁশি ওঠে মলয়েতে বাজি
    তাহারি আভাস কাঁপিয়া কাঁপিয়া ওঠে বনতল ঘেরি।
    আ¤্রবাগানে শাখায় শাখায় জাগে নব মঞ্জরি।
                                    [“বসন্ত” ‘পশারিণী’]

মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার কাব্যকীর্তির অনন্য সংযোজন সনেট রচনা। মুসলিম কবিদের ক্ষেত্রে এ কৃতিত্বে তিনি অগ্রগণ্য। ‘মন ও মৃত্তিকা’ কাব্যের কিছু কিছু কবিতায় এ প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। ‘প্রেম প্রকৃতি ও বিরহের বেদনা বিধুর উপলব্ধি তাঁর সনেট কবিতার উপজীব্য হিসেবে মূর্ত হয়ে উঠেছে। প্রকৃত সনেট বিবেচনায় তাঁর সনেট রচনাগুলোর শৈল্পিক শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় এবং চৌদ্দমাত্রার চৌদ্দ চরণের আঙ্গিকে কেবল গদ্য কবিতার ঢঙে সনেট রচনায় প্রয়াসও পরিলক্ষিত হয়েছে :
    গ্রীষ্মের দহন জ্বালা আষাঢ়ের ছায়ায়
    ঘুমের আমেজ আনে শাল তাল পিয়ালের বনে
    সিকৃত শ্যামল দুর্ব্বা বায়ু বহে গভীর স্বপনে
    ঝরঝর বারিধারা অবিরাম দু’কূল ভাসায়।
                           [“তৃষ্ণা” ‘মন ও মৃত্তিকা’]
কবি হৃদয়ের নিঃসীমতা ও অন্তলীন বেদনাবোধ তাঁকে বিচলিত করেছে নিরন্তর। গ্রীষ্মের নিদাঘ প্রকৃতির রুক্ষতা শেষে শ্রাবণের বারিধারা যেমন রৌদ্রদাহ বিবর্ণ প্রকৃতিকে আবার সজীব ও শ্যামল করে তোলে তেমনি কবি দীর্ঘ দহন যন্ত্রণার অবসানে একদিন শান্তির বারি বর্ষণের আশায় স্বপ্ন দেখেন। কবির সে অনুভূতি ব্যক্ত হয়েছে :
আমার হৃদয় আজি ভাবানত বেদনার রাশে
আশার স্বপন বুনি নিরালায় নিশার আঁধারে।
জীবন নদীর কূলে দাঁড়াইয়া আছি আজি একা-
ঢেউ ভেঙ্গে ভেঙ্গে চলে, তটভূমি যায় নাকো দেখা।
ভাবনার দোলায় শুধু ওড়ে মেঘ নভের কিনারে,
মধুর মরণে স্মরি জীবনের তৃষ্ণার আশ্বাসে।
                      [“গ্রীষ্মের শেষে” ‘পশারিণী’]

জন্মস্থান ও জন্মভূমির প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসা প্রত্যেক মানুষেরই চিন্তরন। মা-মাটি-দেশ ও ভাষা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। তাই দেশ ও দেশের মানুষের সার্বক্ষণিক কল্যাণ কামনা সত্যিকার দেশ প্রেমিকের জীবনের চাইতে মুখ্য নিঃসন্দেহে। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার কবি চৈতন্যে পরিব্যাপ্ত দেশ, দেশের মানুষ ও সবুজাভ প্রকৃতির মুগ্ধতার উত্তুঙ্গ প্রকাশ। তাঁর অসংখ্য কবিতায় দেশের ¯িœগ্ধ প্রকৃতির সৌন্দর্য ও ভালোবাসার পরিচয় প্রকটিত হয়েছে :
    নদীর রূপালী জলে দিন শেষে
    সোনা রঙ ঝিক ঝিক করে
    গড়ে তোলে যেন রূপকথার রাজ্য
    সন্ধ্যা নেমে আসে
    রাখালের ক্লান্ত বাঁশি থামে
    ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে
    সন্ধ্যার প্রদীপ।
    এই যে সুন্দর মায়াপুরী
    এ আমার দেশ।
                     [“আমার এ দেশ” ‘মন ও মৃত্তিকা’]
পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থায় বিত্ত- বৈভব ও ক্ষমতার দৌরাত্মে চলে নিঃস্ব বঞ্চিত মানুষের উপর নিগ্রহ ও নির্যাতন। পদে পদে তারা লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হতে বাধ্য হয়। অধিকার বঞ্চিত এ মানুষের আত্মচিৎকার ও হাহাকার ধ্বনি শোনার মতো কেউই থাকে না। বিদ্রোহের মধ্যদিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে কবি শোষিত বঞ্চিত মানুষের প্রতি অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছেন:
    ‘জেনে শুনে ভুল করা সেত মহাপাপ
    অস্তিত্বে নিঃশ্বাসে শুধু ধ্বনিত হয়
    মানব হৃদয় তৃষ্ণার্ত শুধু শান্তি দুখের আশায়
    তাঁর বেঁচে থাকার অর্থ
    নিজের কল্যাণ এবং অপরের কল্যাণ করা
    এর জন্যই পৃথিবীর বিদ্রোহ ঘোষণা।
                                [“শান্তিকপোত”]
কৈশোরেই কবি প্রত্যক্ষ করেছেন প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং বিশ্বব্যাপী রক্তপাতের হিং¯্রতায় মানবতার মর্মস্পশী বিপর্যয়। নেতৃত্বের প্রতিভূ বিশ্বমোড়লরা স্বীয় স্বার্থের মওকায় নির্বিকার ও নীরব দর্শকের ভূমিকায় ক্রূর হাসি হাসে। এ অবস্থায় মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা বিশ্বহিতের উদ্দেশ্যে গঠিত জনসংঘের ভূমিকা কামনা করেন। জনসংঘই পারে পৃথিবীতে সকল অশান্তি ও অন্যায় দূর করে একটি শান্তিময় পৃথিবী রচনা করতে।
    জনসংঘ তোমারে সালাম করি
    তুমিই যে বাঁশি তুমিই যে অরি
    জাগাইতে পার সুপ্তির ঘুমবন
    জাগাইতে পার মর্ম্মর ক্রন্দন
    রক্ত সমুদ্র তুমিই জাগাতে পার
    সৃজিতে পার শান্তির পারাবার
    শক্তিতে তোমার দুর্জ্জয় দুর্দ্দম
    জনসংঘ তাই তোমারে সালাম।
               [“জনসংঘ” ‘অগ্রন্থিত কবিতা’]
অন্তর্মুখী স্বভাব বৈশিষ্ট্যে আত্মলীন কবির অন্তরাত্মায় কেবলই উত্থিত হতো শান্তি ও চিরকল্যাণের সুধাবাণী। পরস্পর সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, ধনী, নির্ধন, জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্যরোহিত শান্তি স্বস্তির স্বর্গময় এক পৃথিবীর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি। হাসপাতালে মৃত্যু শয্যাশায়ী কবি সে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের কাছে অর্পণ করে শান্তির ধারাবর্ষণ অনন্ত রাখার দৃঢ় বাসনা ব্যক্ত করেছেন। জীবন সায়াহ্নে কবির সর্বশেষ কবিতার করুণ আকুতি :
    রক্ত সাগর পেরিয়ে যে শান্তি যে বাসনা এনেছিলেম,
    যে জীবন জাগাতে চেয়েছি
    তোমরা রাখো তাকে দু’হাতে জড়িয়ে
    যেন মানুষ শুধুই শান্তি চায়।
               [“একান্ত চাওয়া” ‘অগ্রন্থিত কবিতা’]
মুক্তির নির্দ্বন্দ্ব বাসনা নিয়ে মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার আবির্ভাব। রোকেয়ার উত্তরসুরি হিসেবে তিনি মুসলিম নারীদের আলোকিত হবার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তিনি পুরোপুরি সমাজ সংস্কারকের তকমা না পেলেও তাঁর কাব্যকীর্তির সৃজন প্রভায় নারী জাগরণ তথা বিভাগপূর্ব বাংলা সাহিত্যে একজন  প্রথম মুসলিম মহিলা কবির স্বীকৃতি তাঁরই প্রাপ্য নিঃসন্দেহে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ