বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

শীতের শুরুতে খেজুর রস

ছাগলনাইয়া  (ফেনী) : রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ কাটা হচ্ছে

ছাগলনাইয়া (ফেনী) সংবাদদাতা : সুজলা -সুফলা শষ্য -শ্যামলা রুপসী বাংলার ষড় ঋৃতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। এখানে প্রতিটি ঋৃতুর ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট রয়েছে। তেমনি শীত ঋৃতুরও  আলাদা স্বাদ ও বৈশিষ্ট হচ্ছে, খেঁজুর গাছের সুমিষ্ট রস। ছাগলনাইয়া উপজেলার গাছিরা শীতের শুরুতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খেঁজুর গাছের মিষ্টি রস সংগ্রহে। এখানে শীতের তীব্রতা এখনও বেশ দেখা না মিললেও, একটু বেশী লাভের আশায় এরি মধ্যে অনেকেই রস সংগ্রহের তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। এ অঞলে ক্রমান্বয়ে খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ,প্রতি বৎসরের ন্যায় রস প্রেমীদের চাহিদা অনুযায়ী রস সংগ্রহ করা যাবেনা বলে আশংকা করছেন এ এলাকার গাছিরা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমান বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রস ও খেঁজুর গাছ। কয়েক বছর পূর্বেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক বাড়িতে ,জমির আইলের পাশে এবং রাস্তার দুই ধারে অসংখ্য খেঁজুর গাছ দেখা যেতো। তেমন পরিচর্যারও প্রয়োজন পড়তোনা এগাছ বড় হতে। এখন আর তেমনটা চোখে পড়েনা এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের প্রতিক  বৃক্ষটি । আমাদের অসচেতনতার কারণেই আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে এ প্রসিদ্ধ ও পরিবেশ বান্ধব খেঁজুর গাছটি।্ উপজেলার যশপুর গ্রামের গাছি শমশের আলী জানান,আমরা জাতীতে বাঙ্গালী । মৌসুমী খাবারের প্রতি আমরা খুবই দুর্বল। আর এ দুর্বলতা খেঁজুরের সুস্বাদু রসের প্রতি। আমাদের এলাকায় এগাছ ব্যাপকহারে কমে যাওয়ায়, আমি এখন এ খেঁজুর গাছ কেটে রস বিক্রির কাজ ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে অন্য একটি পেশায় যোগ দিয়েছি। এভাবে এ উপজেলার অনেকেই আমার মতো এ কাজটি ছেড়ে দিয়েছে। এ গাছটি রক্ষা করতে হলে, পরিকল্পিতভাবে প্রতি বৎসর অন্যান্য গাছের ন্যায় খেঁজুর গাছ রোপন করতে হবে। তা নাহলে আগামী প্রজন্ম এ গাছটি চিনতে পারবেনা। তিনি আরো জানান, উপজেলার প্রতিটি গ্রামের মানুষকে, তথা সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে এ খেঁজুর গাছ রোপনে উৎসাহিত ও জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসা দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ