বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

এরশাদের রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলা নিষ্পত্তির রায় বহাল

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে করা রাডার ক্রয় দুর্নীতির মামলা আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একইসঙ্গে আগামী ২ জানুয়ারি শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার জজ বিচারপতি নিজামুল হক এ আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। 

গত ২৪ নবেম্বর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাডার ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় যে সাক্ষীদের বক্তব্য শোনা হয়নি তা গ্রহণের অনুমতি দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে বিচারিক আদালতে এ মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন আদালত। 

হাইকোর্টের আদেশের পর সহকারী এটর্নি জেনারেল মো. শহীদুল ইসলাম খান বলেছিলেন, অভিযোগপত্রে ৩৮ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও ১২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে গিয়েছিল। যাদের সাক্ষ্য নেয়া হয়নি, তা নিতে অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৩১ মার্চের মধ্যে মামলার কার্যক্রম শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এরশাদ ছাড়া এই মামলার অন্য আসামীরা হলেন-বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ, বিমান বাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক এ কে এম মুসা। মামলার শুরু থেকে এ কে এম মুসা পলাতক রয়েছেন।

এর আগে চলতি বছর ৮ নবেম্বর এরশাদের বিরুদ্ধ রাডার ক্রয় দুর্নীতির মামলাটিতে পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণের সরকার পক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা। নিম্ন আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে দুদক। ওই আবেদনের ওপরই আদেশ দেয়া হবে বৃহস্পতিবার।

২০১৪ সালে ঢাকার তৎকালীন বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবদুর রশীদ শুনানিতে বিব্রতবোধ করেন। এরপর মামলাটি কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে শুনানির জন্য আসে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটি এখন যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে।

১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়ের করে। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন বিমান বাহিনী প্রধান সদর উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে বাহিনীর জন্য যুগোপযোগী রাডার ক্রয়ের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানি নির্মিত অত্যাধুনিক একটি হাই পাওয়ার রাডার ও দু’টি লো লেভেল রাডার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান এরশাদসহ অপর আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে থমসন সিএসএফ কোম্পানির রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কেনে। এতে সরকারের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ