শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাকে খুশি তাকেই ভোট দিক -ওবায়দুল কাদের 

ষ্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (নাসিক) নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমাদের পার্টি এখন ঐক্যবদ্ধ, ঐক্যবদ্ধভাবেই এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

নাসিক নির্বাচন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সবাইকেই সুযোগ করে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে, নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ বিষয়ে আমিও একমত। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করুক। নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাকে খুশি তাকেই ভোট দিক।

শামীম ওসমান আইভীকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন কিনা, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমান প্রেস কনফারেন্স করে এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি আইভীকে শাড়ি উপহার দিয়েছেন এবং আইভী সেই শাড়ি পরেই জনসংযোগ করেছেন। বড় দলে ছোটখাটো দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। হাতের পাঁচ আঙ্গুল তো সব সমান নয়।

শামীম ওসমানের দেওয়া শাড়ি পরে আইভী গণসংযোগ করেননি। আর সোমবার আইভী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এক সাংবাদিকের এমন কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি কি সেখানে ছিলেন নাকি? এ ধরনের কথার বাস্তবতা কোথায়?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য তিনটি। আমাদের প্রার্থী জনপ্রিয়, আমাদের সরকার উন্নয়নের সরকার, এর ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। আর নারায়ণগঞ্জে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে নৌকাই জিতবে। 

নারায়ণগঞ্জে খালেদা জিয়ার নীরব বিপ্লব ঘটবে-এমন মন্তব্য বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিপ্লব নীরব হবে ঠিকই। তবে সেটি ধানের শীষে না হয়ে তো নৌকায়ও হতে পারে। 

বিচার মানেন তাল গাছটা আপনার-সেতুমন্ত্রী নিজের করা এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি যে টোনে বলেছি, সেটি তারা বুঝতে পারেননি। আমি আমার অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছি যে, সবকিছুতেই তারা (বিএনপি) সালিশ মানে, তবে তাল গাছটা তাদের দিতে হবে। এই মন মানসিকতা থেকে তারা কথা বলে, সেটাই বলেছি। আমি এই টোনে তাদের ওই প্রসঙ্গটাতে কথা বলেছি।’ বিএনপির এই মানসিকতা পরিবর্তন করে বাস্তবতাবাদী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইসি পুনর্গঠন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থেই সার্চ কমিটি করতে সবার পরামর্শ নিলে সবাই উপকৃত হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ তা মেনে নেবে। বিএনপির তো এখন খুশি খুশি ভাব। তারা যদি রিয়েলস্টিক আচরণ প্রদর্শন করে, তাহলে দেশের মানুষ খুশি হবে এবং উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের কত ইস্যুই তো চলে গেল। সব ব্যর্থ হয়ে গেছে। বিএনপি এখন ব্যর্থতা আর হতাশায় বেপরোয়া হয়ে গেছে। তাদের কথাবার্তা ও আচরণে বেপরোয়া মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।

খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জ যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি। উনি এত বড় একটা দলের নেত্রী উনি কি ইসির আচরণ বিধি বোঝেন না, বা জানেন না? ইসি যখন নারায়ণগঞ্জে বাইরের মানুষের জনসভা নিষিদ্ধ করেছে উনি তখন জনসংযোগের কর্মসূচি কেন দেন? আমরা তো নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধি মেনে চলছি। আমাদের কোনও মন্ত্রী বা এমপি কেউ তো নারায়ণগঞ্জে যাননি। তার মানে বিএনপি ছুতো ধরে অভিযোগ করছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। তারা যদি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতো তাহলে কি ১৬৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততো? বিএনপির বুদ্ধিজীবীরাই এখন বলছে, বিএনপি ‘হাঁটু ভাঙা’ দল। আমরা তো বিএনপিকে কোমর ভাঙা, হাঁটু ভাঙা দল বলিনি। আমরা মনে করি, বিএনপি একটি বড় দল। দেশের অনেক মানুষ এ দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ