শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই জনপ্রতিনিধিদের সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান বাতিল করা দরকার 

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৪৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৩ জন প্রার্থী পেশায় ব্যবসায়ী।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া ১৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে তিন জনের তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় ১৪৬ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করেছে সুজন।

প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে সুজন জানায়, ১৪৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৩ জন প্রার্থীই পেশায় ব্যবসায়ী। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ জন প্রার্থী পেশায় আইনজীবী।

প্রার্থীদের অধিকাংশই অর্থাৎ ৭৬ জন বছরে ৫ লাখ টাকার নীচে আয় করেন। অন্যদিকে কোটি টাকার ওপরে আয় করেন ছয় জন প্রার্থী। আবার ৯ জন প্রার্থী তাদের আয়ের হিসাবই দেননি।

প্রার্থীদের আয়করের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ৫০ জন প্রার্থীর আয়করের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্য ২১ জন ১০ হাজার টাকার কম এবং ১১ জন এক লাখের বেশি টাকা কর প্রদান করেন।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সকল প্রার্থীর মধ্যে ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা বা তার কম টাকা কর প্রদানকারী প্রার্থী রয়েছেন ১৯ জন। ১০ লাখ টাকার বেশি কর প্রদানকারী রয়েছেন তিন জন। সুজন আরও জানায়, মাত্র ১৪ জন ঋণ গ্রহীতার মধ্যে পাঁচজন কোটি টাকার ওপরে ঋণ নিয়েছেন।

দিলীপ কুমার সরকার বলেন, এই জেলা পরিষদ নির্বাচন আইন গত কয়েক বছরে কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে। সেই সংশোধিত আইনানুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইনে বর্ণিত নির্বাচন পদ্ধতির সঙ্গে সুজন একমত না, তাও পরিষ্কার করেন তিনি।

সুজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান বাতিল করতে হবে। কেননা আমরা লক্ষ্য করছি, বিরোধী দলের থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে যখনই চার্জশিট হয়েছে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও দেখি, দেখা যায় যে তাদের বিরুদ্ধে যখন মামলা হয় তখন তাদের ক্ষেত্রে আইনটা হলো যতক্ষণ না পর্যন্ত আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়, দোষী সাব্যস্ত হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়া হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ