শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিভিন্ন স্থানে খুন-খারাবি ৮ লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা: গত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বৃদ্ধসহ দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ দু’টি সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৮নং ব্রীজ ও তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করা হয়।
এদের মধ্যে নাটোর জেলার গুরুদাশপুর উপজেলার খামারনাচ কৈড় ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের মৃত সকিন শেখের ছেলে রফিকুল ইসলামের (৬০) পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
তাড়াশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন জানান, তাড়াশ উপজেলার হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে ৮নং ব্রীজের পুকুরে রফিকুল ইসলামের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন।
দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সেখানে তার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় সনাক্ত করা হয়।
অপর দিকে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া পারভীনের সংবাদের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অজ্ঞাতনামা (৫০) এক ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাত এই ব্যক্তি তাড়াশ নওগা মাজারে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় এক ভ্যানচালক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অজ্ঞাত এই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। মাজার এলাকায় বেশ কয়েকদিন যাবত সে অবস্থান করছিলেন।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর রহমান জানান, লাশ দু’টি উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এঘটনায় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ব্যাপারে তাড়াশ থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ফেনী
ফেনী শহরের পশ্চিম উকিলপাড়ায় দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে মা। সোমবার সন্ধ্যায় তালাবদ্ধ বাসার দরজা ভেঙে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সূত্র জানায়, শহরের পশ্চিম উকিলপাড়ায় পানির ট্যাংক সংলগ্ন কমিশনার মোশাররফ হোসেনের পুরাতন বাড়ির আবদুর রব ভূঞা নিবাসের নিচতলায় সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করে ইতালী প্রবাসী তারেক আহম্মদের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার মুক্তা (২৬)। গতকাল বিকালে স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে মুক্তার কথা হয়।
দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতন্ডা হয়। এ ঘটনার পর প্রবাসী তারেক তার শ্যালক মাসুমকে তাদের ভুলবুঝাবুঝির বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত বাসায় আসতে বলে। এদিকে ফেনী সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়া তাসনিম আহমেদ (৮) ইংরেজি পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরলে সে ও ছেলে ফাহিম আহমেদ (৪) কে বিষপ্রয়োগ ও শ্বাসরোধে হত্যা করে।
শিশু সন্তানদের হত্যার পর মুক্তাও আত্মহত্যা করে বিছানায় পড়ে থাকে। মাছুম মাগরিবের নামাজের পর বাসায় এসে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের জানায়। একপর্যায়ে প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে বোন-ভাগ্নেদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে ফেনী মডেল থানায় খবর দেয়। পরে ফেনী মডেল থানার ওসি মো: রাশেদ খান ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুন্দ্বিপ রায় ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিছুক্ষণ পর পুলিশ সুপার মো: রেজাউল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো: আমিরুল আলম সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো: রাশেদ খান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মো: রেজাউল হক পিপিএম জানান, মা ও দুই সন্তানের মৃত্যুর কারন উদ্ঘাটন করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত; সোনাগাজীর বগাদানা ইউনিয়নের কুটিরহাট এলাকার ইতালী প্রবাসী তারেক আহম্মদের সাথে গত ১২ বছর পূর্বে শহরের পশ্চিম রামপুর এলাকার উজির আলী ভূঞা বাড়ীর মৃত আলী আহম্মদের মেয়ে মুক্তার বিয়ে হয়।
এদিকে ফেনী শহরের বারাহিপুর রেললাইন সংলগ্ন স্থানে আবুল কালাম (৩০) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ সোমবার বিকালে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গতকাল বারাহিপুর রেললাইনের পাশে গাছের ডালে আবুল কালামের লাশ ঝুলতে দেখে স্থানীয়রা ফেনী মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদও হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত কালাম দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের কাজী বাড়ির ছেলে।
উখিয়া (কক্সবাজার)
বসতভিটার একটি কলার ছরা বিক্রির ঘটনা নিয়ে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী ঘোনারপাড়া গ্রামে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে বড় ভাই ছুরুত আলম(২৮) তার প্রয়োজনে ৫শ’ টাকায় বসতভিটার একটি কলারছরা বিক্রি করে দেন। এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছোট ভাই আনোয়ার সাদেক (২৩) তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে একটি মোরগকে চোখের সামনে মেরে ফেলেন। এসময় বড় ভাই ছুরুত আলম ছোট ভাইয়ের মাথায় দা দিয়ে আঘাত করে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান। পরে বড় ভাই ছুরুত আলম আহত ছোট ভাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে ছোটভাই আনোয়ার সাদেকের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করলে বড় ভাই ছুরুত আলম ঘটনাস্থলে মারা যায়। পুলিশ পার্শ্ববর্তী বাগানে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার সাদেককে আটক করেন। এ ঘটনায় ছুরুত আলমের স্ত্রী সুফিয়া আকতার বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ধৃত আসামী ভাই হত্যার ঘটনা স্বীকার করে বলেন সে তখন অন্য মনস্ক ছিল।
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
গত বুধবার সিরাজগঞ্জের তাড়াশের হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৮নং ব্রিজের সামনে থেকে এক লাশ উদ্ধার করছে থানা পুলিশ। তার নাম রফিকুল ইসলাম (৪৮), নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার শাহপাড়া গ্রামের সাকিম উদ্দিনের ছেলে রফিকুল । অপরদিকে তাড়াশের নওগা মাজারের এক পাগল অসুস্থ হলে স্থানীয় লোকেরা তাড়াশ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়, তার পরই সে মারা যায় তার নাম ঠিকানা জানা যায়নি। এর কিছুদিন আগে উল্লাপাড়া হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ  উপজেলা চৌরা শিকর গ্রামের পাশে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে থেকে এক যুবকের ও উল্লাপাড়া থানা পুলিশ  উপজেলার বামনগ্রাম এর পাশে ফসলি মাঠ থেকে এক মহিলার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে। লাশ দুইটির পরিচয এখন ও পাওয়া যায়নি। হাটি কুমরুল থানা উপ-পরিদর্শক রাজিবুল করিম জানান উদ্ধার করা যুবকের বয়স হবে ২৫ থেকে২৬বছর তারপরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট পরনেছিল নেভি ব্লু চেক শার্ট ও সবুজ সুইটার। তার মাথায়গুরুতর আঘাতের চিহ্র রয়েছে। যুবকটি কোন বাসের  ছাদ থেকে পরে মারা গেছে বলে পুলিশের ধারনা। অপরদিকে উল্লাপাড়া  থানার উপ-পরিদর্শক সবুজ হোসেন জানান উদ্ধার করা মহিলার বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছর হবে। তার পরনে ছিল হলুদ রঙের কামিস ও লাল রঙ্গের ছালওয়ার ও কাল বোরকা। অন্য কোন এলাকা থেকে মহিলাটিকে ঘটনাস্থলে এনে গলাকেটে হত্যার পর ঘাতকরা পালিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা লাশ দু’টির ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপাওে তাড়াশ  সলঙ্গা ও উল্লাপাড়া থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।
ছাতক (সুনামগঞ্জ)
ছাতকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবরের লাঠির আঘাতে ভাবি শাহানারা মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বেলা ২টায় উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউপির মনিরজ্ঞাতি-গোরাদেও গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোরাদেও গ্রামের আব্দুল বাহারের স্ত্রী শাহানারা বেগম (৪০) এর সাথে রান্নার জন্যে আমন ধানের খড় কুড়ানো নিয়ে পাশের ঘরের আব্দুল জলিলের পুত্র মনিরজ্ঞাতি হাইস্কুলের দফতরি  জেহেদ মিয়াসহ অন্যান্যদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়।  জেহেদ মিয়া শাহানারার দেবর বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নিলে শাহানারাকে লাঠি- সোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দেবর জেহেদ মিয়াসহ তার সহযোগীরা। এ সময় মাকে বাঁচাতে গিয়ে পুত্র সুহিবুল আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কৈতক হাসপাতালে ও সেখান থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। শাহানারা বেগমের মৃত্যুর সংবাদে জাহেদ আলী স্ব-পরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্র মুহিবুর রহমান বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে মঙ্গলবার ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-২০) দায়ের করে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির, সদস্য সুহেল মিয়া তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এ অমানবিক ঘটনা ঘটানো সঠিক হয়নি দাবি করে তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ছাতক থানার এসআই নূর মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানার অফিসার্স ইনচার্জ অশেক সুজা মানুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জড়িতদের কঠোর আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ