শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

শিক্ষাঙ্গন এবং শিক্ষার পরিবেশ

সাদিকুল ইসলাম : শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের সোপান। জাতিকে শিক্ষিত না করে উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় না। আর জাতিকে শিক্ষিত করতে হলে উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষিা ব্যবস্থার ভূমিকা অনস্বীর্কায। শিক্ষা যেমন জাতির বা দেশের উন্নয়নের সোপান তেমনি মানসম্পন্ন শিক্ষা ছাড়া সেই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা জাতি বা দেশের উন্নয়নের সোপান।
তবে শিক্ষাব্যবস্থাকে কেবল মানস্পন্ন হলে হবে না। ওই শিক্ষাব্যবস্থা র্কাযকর করতে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ অনুকূল হতে হবে। পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলো তাদের শিক্ষাঙ্গনে শৃংখলা ও সুশাসন প্রতিঘষ্ঠা করতে পেরেছে। এজন্য ওই দেশগুলোর শিক্ষার মান উন্নত। আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর শিক্ষা কেন এত মানসম্পন্ন এবং উন্নত তার কারণ অনুসন্ধান করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাঙ্গনে যথাযথ প্রয়োগ করতে পারি তাহলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মানসম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
আমরা যদি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গত ৫ বছরের একটা সমীকরণ বের করি তাহলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কতটা উন্নতি বা অবনতি হয়েছে তা সহজেই বুঝতে পারব। বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার যে উন্নতি করেছে তা কি সত্যিই প্রশংসা যোগ্য? আর যে অর্জন হয়েছে আমরা কি তার চেয়ে বেশি অর্জন করতে পারতাম না? কেন পারিনি? কোথায় আমাদের সমস্যা? সেই সমস্যা চিহ্নিত করে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে আমাদের উন্নতির আরো দ্রুতগতি হবে। শিক্ষাকে একটা দেশের উন্নতির মূল চালিকা শক্তি বলা যায় বর্তমান বিশ্বে প্রেক্ষাপটে। তাহলে আমাদের এই উন্নতির পথ কতটা প্রশস্ত?
আমরা যদি প্রথমে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশগত সমস্যাগুলো বের করে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করি তাহলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষা মানসম্পন্নতা নিশ্চিত করতে পারব। আমাদের শিক্ষাঙ্গনের সমস্যাগুলোর মধ্যে এমন কিছু সমস্যা আছে যে সমস্যাগুলোর কথা আমাদের সবার জানা। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে প্রায় সবার জানা। এ সমস্যাগুলো সমাধানের চরম অনিহার কথাও সবার জানা। সব চেয়ে বড় সমস্যা হলো আমাদের দেশের সকল ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম আর দুর্নীতির। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড আছে আমাদের। আর এই কালো ছায়া থেকে রক্ষা পায়নি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থা। যার ফলে সমস্যা সমাধানের ইচ্ছা থাকলেও আমরা তা পারছি না।
কী কারণে বাংলাদেশের সকল স্তরের শিক্ষাঙ্গনে সুশাসন ও শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না সে আলোচনা স্বল্প পরিসরে করা সম্ভব না। তবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, শিক্ষাব্যবস্থায় দূর্নীতি, দুলীয় প্রভাব, অযোগ্যতা এবং দলী রাজনীতি উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রস-সহিংসতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধ্যাদেশ মেনে না চলা, নিয়মিত ছাত্র সংসদের নির্বাচন না হওয়া এবং নিয়ম লঙ্ঘন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক পরিচিতি উজ্জ্বল করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকেই গবেষণার পরির্বতে স্বার্থপরতার দলীয় রাজনীতিতে মনোযোগী হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক প্রতিযোগিতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষাঙ্গনগুলো হয়ে পড়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষকরা তাদের নিজের ব্যক্তি সত্তা বিসর্জন দিয়ে জ্ঞান বিতরনে বদলে সম্পদ আহরনে নেমেছে। শিক্ষার বেজেছে বারোটা। প্রথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার নির্ভর হয়ে পড়েছে। আর উচ্চ শিক্ষাঙ্গন নানবিধি সমস্যার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
প্রথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নেমেছে জিপিএ-৫ এর অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। ভাল রেজাল্ট করার আশায় তার সাজেশন ভিত্তিক পড়া-লোখা ও সিট, গাইডের দিকে ঝুঁকছে। অপর দিকে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ঘোষ প্রতিযোগিতা তো আছেই। অপর দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও নিরাপত্তার রয়েছে ঘাটতি। বহিরাগত ও বখাটেদের উৎপাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষার্থীরা ভোগে নিরাপত্তা হীনতায়। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা যায় স্কুলগামী ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশকে অনিরাপদ মনে করে। ২০১০ সালে দেশে প্রথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ছিল পৌনে তিন কোটির বেশি। ২০১৫ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হয়েছে ৪ কোটির সাড়ে ৪৪ লাখ। অর্থাৎ ৫ বছরে শিক্ষার্থী বেড়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ। বর্তমানে প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি স্কুলগামী শিক্ষার্থী রয়েছে। (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ৩০,১১,১৬ পৃ: ৮) এই বিপুল স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নিজেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশে নিরাপত্তা হীনতায় ভোগছে। যা আমাদের জন্য সুসংবাদ নয়। এ ছাড়াও রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত নানা সমস্যা। দক্ষ শিক্ষকের যথেষ্ঠ অভাব। কম্পিউটার, রাইব্রেরিয়ান এবং বিএড এই তিন বিষয়ে শিক্ষাগত সনদ জাল করে নিয়োগ পেয়ে চাকরি করছে ৫৫৬ জন। (সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব ৩০,১১,১৬ পৃ:১)। অনেক প্রথমিক বিদ্যালয় আবার চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। মৌলভীবাজার উপজেলার রাজনগরে ৩৭ টি বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। (সূত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত ১৩,১১,১৬ পৃ: ১১)। মাধ্যমিক পর‌্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে রয়েছে বির্তক। অনেক শিক্ষক বুঝেন না সৃজনশীল পদ্ধতি। চলমান জেএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের বাংলা বিষয়ের সব সৃজনশীল প্রশ্ন হুবহু গাইড থেকে তুলে দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাধ্যমিক স্কুলের ৫৪ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতি এখনো আয়ত্ত করতে পারেনি। এদের মধ্যে ২২ শতাংশের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারে না। ২০১৪ সালের নভেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী এ হার ছিল ৫৭ শতাংশ। সর্বোচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিক্ষক এ পদ্ধতি বুঝেন। (সূত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত ১৩,১১,১৫ পৃ: ১ এবং ১৩)। এতো গেল প্রথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের অগ্রগতি। এবার উচ্চ শিক্ষাঙ্গন কেমন তা দেখার পালা।
দেশে বর্তমানে ৩৮ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ৯৮ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৭ টিতে শিক্ষা কার‌্যক্রম চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জনে দিচ্ছে চরম ব্যর্থতার পরিচয়। নোংরা রাজনীতির শিকার, দলীয় সন্ত্রাস, ছাত্র-রাজনীতিতে দলীয় ক্যাডারদের প্রধান্য, দলীয় ছত্র-ছায়ায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান, শিক্ষকদের একাডেমিক কার‌্যক্রমে ফাঁকি, সেশন জট সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার হতে ছিটকে পড়েছে। একাডেমিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। হাতে গুনা কয়েকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা সেশন জটের কবলে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানাবিধি সমস্যায় কবলিত। যে সমস্যাগুলো বাদ বাকি সমস্যাগুলো জন্ম দিচ্ছে। দলীয় রাজনীতির করালগ্রাস: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান সমস্যা বলা চলে। ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলে দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। এবং প্রত্যকেই পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে এর প্রভাব খাটায়। যার ফলে নিজেদের মধ্যে মতভেদ-মতানৈক্য সৃষ্টির ফলে ব্যাহত হয় একাডেমিক কাজ। নিয়ম মেনে হয় না ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফলে দলীয় ক্যাডারদের প্রভাবে প্রায়ই হয় মারামারি। যে মেধাবী ছাত্র হওয়ার কথা দেশ জাতির সম্পদ সে হয় কুখ্যাত সন্ত্রাসী। যাদের দাপটে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকগণও থাকে চাপে। এ সব ক্যাডাররা রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র-ছায়ায় নির্দ্বিধায় চালায় তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। পার পেয়ে যায় হামেশায়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু নিয়ে ধর্মঘটে অচল হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা: এতদিন সরকার বা প্রশাসন থেকে জঙ্গিবাদের জন্য অন্ধের মত মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদের দায়ী করা হয়েছে। সম্প্রতি গুলশান হামলা ও শোলাকিয়া হামলাসহ দেশ জুড়ে জঙ্গি হালার সাথে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাজে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এ সব যুবক কেন জড়াচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে? সবার মনে একই প্রশ্ন। সরকার সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের জন্য কওমী মাদ্রাসাগুলোকে প্রমাণহীনভাবে দোষারোপ করে যে পাপ করেছিল তার খেসারত দিচ্ছে আজ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ইংরেজি মাধ্যম পড়ুয়া ব্র্যাক ও নর্থ সাউথ’র মত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়িত থাকার ঘটনা জাতিকে বিস্মিত করেছে। এর ফলে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের জন্য মাদ্রাসা পড়ুয়াদের দায়ী করা যাচ্ছে না। কেন জড়িত হচ্ছে এই প্রশ্নে উত্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থাকেও দায়ী করা হচ্ছে। তাদের শিক্ষা মানবিকতা পূর্ণ হচ্ছে না। ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠার কথ তা হচ্ছে না। নিয়মিত ক্লাস না হওয়াই পড়া-লেখা থেকে দূরে চলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আর এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলো।
গবেষণা খাতে নেই যথেষ্ট বরাদ্দ: বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান কাজ দুটি। প্রথমত, শিক্ষাদান, দ্বিতীয়ত, শিক্ষাদানের জন্য নতুন নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটি চলে না। এজন্য শিক্ষকদের নিয়মিত গবেষণা করতে হবে। তারা প্রতিনিয়ত সেসব প্রকাশ করবেন, প্রবন্ধ লিখবেন, সেমিনার করবেন।
ইউজিসি’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে ৮৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্য্যক্রম পচিালিত হয়েছে। এরমধ্যে ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে কোন অর্থই ব্যয় করেনি। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৭। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য অর্থ ব্যয় করেনি ১০টি। ২০১৪ সালে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ ব্যয় করেনি। ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়গুলোর মধ্যে কোন ধরণের গবেষণা প্রকাশিত হয়নি ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৩টিতে নেই কোনও প্রকাশনা। ২০১৪ সালে বেসরকারি ৩৯টি আর ১৪টি সরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ে কোনও প্রকাশনা প্রকাশিত হয়নি। ২০১৩ সালে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে কোনও বরাদ্দ ছিল না, ৪২টির কোনও গবেষণা ছিল না। আর ৩৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টিতে ছিল না গবেষণা খাতে কোনও বরাদ্দ। ২০১২ সালে ৬০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৩টিতে কোনও গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হয়নি। ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার খাতে কোনো ধরনের টাকা ব্যয় করেনি। ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয় কোনও গবেষণা বৃত্তি দেয়নি। ইউজিসি’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সার্বিকভাবে ২০১৪ সারের তুলনায় ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে বেসরকারি ৮৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্য্যক্রম চলে। এরমধ্যে ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে কোন অর্থ ব্যয় করেনি। যা প্রায় ৩৩ ভাগ। অন্যদিকে ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ধরনের প্রকাশনা, প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশিত হয়নি। বাকিরা নামে মাত্র গবেষণাখাতে বরাদ্দ রেখে দায় সেরেছে।
২০১৫ সালে ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যলয়েরে মধ্যে ১৩টিতে কোন গবেষণা প্রকাশিত হয়নি। গবেষণা খাতে কোনও ধরনের ব্যয়ই করেনি ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৪ সালে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১১টি বিশ্বদ্যিালয়ে ছিল না কোনও গবেষণা বরাদ্দ। যা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ শতাংশের বেশি। (সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব ১৮,১১,১৬ পৃষ্ঠা ১৬)।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন তাদের প্রয়োজনীয় অর্থই বরাদ্দ পায় না তখন গবেষণা খাতের বরাদ্দ বহু দূরের কথা।
২০১৪ সালের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয় সরকারি বাজেটের ১ ভাগেরও অনেক কম মাত্র শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়লোর জন্য বরাদ্দ করা হয়। যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে সমক্ষ হচ্ছে না। (সূত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত ৩০,১১,১৬ শেষ পৃষ্ঠা)
আবাসন সংকট: আবাসন সংকট আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম সমস্যা। ইনক্যাম্পাস উচ্চশিক্ষা প্রদান করা পাবলিক বিশ্বদ্যিালয়ে মাত্র ৩২ ভাগ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাহিরে মেছে বা বাসা বাড়া করে। ফলে তাদের উচ্চশিক্ষার গবেষণা তরান্নিত হচ্ছে না। রাজধানীরতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ হাজার শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে আবাসন সুবিধা থেকে বিঞ্চিত। মেছে বা বাড়া বাসা নিয়ে থাকতে হচ্ছে একদিকে আর্থিক সমস্যা আবার সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ভয়। কখন যেন পুলিশ আসে? পুলিশ নজরদারি করে মেসে থাকা ছাত্রদের উপর। কখন যেন কি হয় আতংকে থাকে সাধারণ ছাত্ররা। বিঘ্নিত হয় তাদের লেখা-পড়া।
সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান: স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় হলো একাডেমিক প্রতিষ্ঠান। এগুলো সামাজিক বা রাজলৈনতিক প্রতিষ্ঠান নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের রূপ নিচ্ছে। রাজনৈতি নেতারা তাদের রাজনৈকি প্রচার চালাচ্ছে। আর প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা বানিয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক মঞ্চ।  গত ২২ জুলাই রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের মিলনায়তনে হয়েছে কলেজের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুমা আক্তার পলির গায়ে হলুদ। যেখানে শিক্ষামূলক সেমিনার, আলোচনা সভা হওয়ার কথা সেখানে হয় জমকালো আয়োজনে গায়ে হলুদ।
শত সমস্যায় জর্জরিত। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দলীয় লবিং’র মাধ্যমে। ত্রাস সৃষ্টি করে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।  আবাসিক ছাত্রদের হলগুলোতে নেই মানসম্মত খাবার য়ার ফলে ছাত্রদের মেধা বিকাশে হচ্ছে। পরিবহন সমস্যা, সেশন জট, চাঁদাবাজি. দলীয় টেন্ডার নিয়ে মারামারি। মোট কথা শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ রূপে আজ বিঘ্নিত। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও সেমিনার গ্রন্থাগারগেুলোতে নেই প্রয়োজনীয় গবেষণার বই। 
শিক্ষাব্যবস্থার এমন দুরবস্থা রোধে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার আন্তরিক না হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন পতন তলানিতে চলে যাবে। দেশ-জাতি নিমজ্জিত হবে অজ্ঞতার অন্ধকারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ