বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ওদের হৃদয়ে আলোর প্রত্যাশা করি

ইসলাম একটি কালজয়ী জীবনাদর্শ। একটি পরিপূর্ণ জীবনবোধ ও আদর্শবাদের নাম। পবিত্র কুরআন নাযিলের পর ওহি নাযিলের পথ যেমন বন্ধ হয়ে যায়, তেমনই নবুয়তের দরোজাও চিররুদ্ধ হয়ে যায়। কুরআনের পর আসমানি কিতাব যেমন আর নেই, তেমনই নবী-রাসূলেরও আবির্ভাব আর ঘটবেনা। অর্থাৎ কুরআন নাযিলের আগে আরও আসমানি কিতাব থাকলেও সেগুলো যেমন বাতিল হয়ে গেছে, তেমনই আখেরী নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর পূর্বে যেসব নবী-রাসূলের আগমন ঘটেছিল তাঁদের জীবন-দর্শনও রহিত হয়ে গেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত একশ্রেণির মানুষ কুরআনের বিধান অমান্য করে এবং শেষ নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ)কে অস্বীকার করবার ধৃষ্টতা দেখিয়ে রহিত হয়ে যাওয়া জীবনদর্শনের অনুসারী হবার অভিনয় করে চলেছেন। এতে তাঁরা নিজেরা যেমন সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনাদর্শ ইসলামের অবদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনই সাধারণ মানুষ তাদের অলীক বিশ্বাস-বোধের কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এর অনিবার্য ফলস্বরূপ মানুষে মানুষে বিভেদ আর দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। অথচ আল কুরআনের ঘোষণা অনুসারে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সমাজের অনেক বিবাদ-বৈষম্যের যেমন অবসান হতো, তেমনই মানুষে মানুষে আজ যে বৈষম্যের দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে তাও হয়তো থাকতো না। মানুষ যে শ্রেষ্ঠ জীব এ নিয়ে কোনও মানুষের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই বললেই চলে। এই মানুষ যদি সৃষ্টিজগতে শ্রেষ্ঠ জীব বা প্রাণি হতে পারে, তাহলে এর জীবনবোধ ও বিশ্বাসও নিশ্চয়ই সবার সেরাই হবে। মানুষের বিশ্বাস ও বোধে ঐক্য থাকলে চেতনায়ও ঐক্য থাকতে পারে। মানুষ জীব হিসেবে যদি সেরা হয়, তাহলে এর বিশ্বাস-বোধেও শ্রেষ্ঠত্বের আলামত নিশ্চয়ই থাকতে হবে। কর্ম, বৈশিষ্ট্য, চেতনা এবং সামাজিকতায় শ্রেষ্ঠত্বের উদাহরণ সৃষ্টি করতে না পারলে মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব কেন মনে করতে হবে?
বলতে দ্বিধা নেই, ধর্ম বলুন, সামাজিকতা বলুন, সবদিক থেকে ইসলামী জীবনদর্শনই শ্রেষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য বলে আধুনিক মানুষের কাছে বিবেচিত হচ্ছে আজকাল। তাই সারা পৃথিবীতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ, সামাজবিদ, ধর্মগুরু, পুরোহিত, পাদরি, রাজনীতিবিদ, এমনকি মন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত ইসলামের মহান আদর্শে আকৃষ্ট হয়ে পবিত্র কালেমার পতাকাতলে সমবেত হচ্ছেন। তাই পূর্ব-পুরুষের বাতিল হয়ে যাওয়া বিশ্বাসবোধ আঁকড়ে থাকা বিশ্ব নেতৃত্ব অনেকটাই ঘাবড়ে গেছেন। চিন্তিত হয়ে পড়েছেন পুরোহিত, পাদরি বা ধর্মগুরুরাও। টান পড়ছে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাসবোধ ও চৈতন্যের সুতোয়ও। আগামী ৫০ ও ১০০ বছরে তাদের ধর্মবোধের পারদ কতটা নিচে নেমে আসবে তাও তাঁরা নানা গবেষণাকর্ম ও পরিসংখ্যানে জেনে গেছেন। তাই তাঁদের বড় ভয়ের কারণ এখন ইসলামী আদর্শের প্রসার। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, পাউন্ড আর ইউরো ব্যয় করে হাজার হাজার এনজিও আর মিশনারি কর্মকা- পরিচালনা করেও সত্য ও ন্যায়ের অগ্রযাত্রা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন আমেরিকা আর ইউরোপের হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত আধুনিক মানুষ পিতৃ-পুরুষের বিশ্বাসবোধ বিসর্জন দিয়ে কালেমার মহামন্ত্রে দীক্ষাগ্রহণ করছেন। নতুন আলোয় তাদের জীবনকে করছেন উদ্ভাসিত। আর এতেই তাদের অন্ধকারপ্রিয় মন-মস্তিষ্ক যাচ্ছে বিগড়ে। আলোকপ্রত্যাশী অনুসন্ধিৎসু মানুষকে ধরে রাখতে না পেরে চড়াও হচ্ছেন তাদের প্রতি। প্রকাশ্যে না পারলে রাতের অন্ধকারে গুম করা হচ্ছে সত্য সন্ধানীদের।
ভারতের কেরালা রাজ্যের অনিল কুমার সৌদি আরবে চাকরিরত অবস্থায় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হলে সেখানেই তিনি কালেমা পড়েন। এরপর তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ইসলামের দাওয়াত দেন। অনিলের মা মিনাক্ষী দেবীও ইসলামগ্রহণ করেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানও তাঁকে অনুসরণ করেন। এতেই ক্ষেপে যায় কেরালার কট্টরপন্থী সংগঠন আরএসএস। উল্লেখ্য, অনিলের মুসলিম নামকরণ হয় ফায়েজ। মা মিনাক্ষী দেবীর নাম রাখা হয় জামিলা। সম্প্রতি অনিল কুমার দেশে এলে পরের দিনই তাকে গুম করে আরএসএস সদস্যরা। পরে তাঁর লাশ পাওয়া যায় ড্রেনে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কেরালা পুলিশ এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু এ হত্যার ন্যায়বিচার হবে বলে কেউই মনে করছেন না। অন্য এক খবরে প্রকাশ, ফায়েজের মা, স্ত্রী ও সন্তানদেরও হত্যা করেছে আরএসএস’র কট্টরপন্থী সদস্যরা। তাদের সবার একই অপরাধ। আর সেটা হচ্ছে কালেমার দাওয়াত গ্রহণ। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শান্তির জীবনদর্শন হলো ইসলাম। এর মহান আলো অনেকেরই অসহ্য। প্যাঁচা যেমন সূর্যের আলো ভীষণ অপছন্দ করে, একশ্রেণির মানুষও ইসলামের আলো সহ্য করতে পারছেন না। কেরালার আরএসএস সদস্যদেরও কি কোনও অন্ধকারের প্রাণী ভাবতে হবে আমাদের? তাদের হৃদয়ে আলোর পরশ প্রত্যাশা করছে আধুনিক সভ্যতা। আমরাও সে প্রত্যাশাতেই রইলাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ