শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ক্ষমতাসীনরা বুদ্ধিজীবী হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের হাতিয়ার বানিয়েছে - মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

স্টাফ রিপোর্টার : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, বুদ্ধিজীবীরা দেশের শ্রেষ্ট সম্পদ। তাদের মেধা, মনন, প্রজ্ঞা ও মনীষা দেশ ও জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মহান বিজয়ের মাত্র ২ দিন আগে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যথাযথ মর্যাদায় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং শহীদদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
রাজধানীর একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ড. আহসান হাবীব, রমনা থানা সেক্রেটারি আবু জিসান, জামায়াত নেতা আতাউর রহমান সরকার ও আখতার হোসাইন প্রমুখ। 
তিনি বলেন, দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় অর্জনের পর যারা জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দিতে চায়নি, তারাই এই নির্মম ও নিষ্ঠুর হত্যাকা-ের নেপথ্যের শক্তি। স্বাধীন বাংলাদেশে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারের ভাই জহির রায়হানের অন্তর্ধান এখনও রহস্যাবৃত। তার কী পরিণতি হয়েছে এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মূলত জহির রায়হান বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলেই রহস্য প্রকাশ হওয়ার আগেই তাকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪ দশক পরেও দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা নানাভাবে জুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন। বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- ও অপহরণের ঘটনার সাথে কারা জড়িত জাতি তা জানতে চায়। ধারণা  করা হয় যে, শহীদ জহির রায়হানের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ, ডকুমেন্টারি-প্রামাণ্য চিত্র সংরক্ষিত থাকার কারণেই তাকে অপহরণ ও পরবর্তীতে হত্যা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত জাতির কাছে প্রকাশ পেলে যাদের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার আশঙ্কা ছিল, মূলত তারাই এসব হত্যাকা- ও অপকর্মের সাথে জড়িত। তিনি এই অপশক্তি সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীনরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা না করে এই ইস্যুকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের হাতিয়ার বানিয়েছে। সরকারের অপরাজনীতির অংশ হিসাবেই মিথ্যা অভিযোগে প্রহসনের মাধ্যমে বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, সাবেক সফল মন্ত্রী ও সাবেক আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে  নির্মম  ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। মূলত চক্রান্তকারীরা জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে দেশকে পরাশ্রয়ী করদরাজ্য বানাতে চায়। তিনি শহীদদের ত্যাগ ও কুরবানিকে কবুল করতে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করেন এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা অফিস : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গত মঙ্গলবার সকালে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাস্টার শফিকুল আলম ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুস্টুর রহমান।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে আমরা দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, ডাক্তার, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিসহ আমাদের গর্বিত সন্তানদের হারিয়েছি। ষড়যন্ত্রকারীরা জাতিকে মেধাশূন্য, নেতৃত্বহীন এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতিশূন্য করতেই পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে আমাদের জাতিসত্তার নির্মূলে চরম আঘাত করেছিল। বিজয়োত্তর স্বাধীন বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্যই জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু এই নির্মম হত্যাকা-ের ৪ দশক অতিক্রান্ত হলেও আজও এই হত্যাকা-ের বিষয়টি রহস্যাবৃত্তই রয়ে গেছে। কিন্তু দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই রহস্য উন্মোচিত হওয়া উচিত। বক্তারা বুদ্ধিজীবী হত্যা রহস্য উন্মোচন ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বুদ্ধিজীবী হত্যা নিয়ে অপরাজনীতি করছে। তিনি বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে সমান তালে। তাই দেশ ও জাতিকে অপশাসন ও দুঃশাসন থেকে মুক্ত করতে হলে আওয়ামী অপশক্তি, ফ্যাসিবাদী, বাকশালী ও স্বৈরাচারী সরকারের পতনের কোন বিকল্প নেই।
চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিসটেন্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেছেন, আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালে বিজয়ের ২দিন পূর্বে যে সকল বুদ্ধিজীবী দেশ ও জাতির জন্য জীবন দিয়েছেন জাতি তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে ও তাঁরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা আজকের দিনে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জাতিকে মেধাশূন্য করে ধ্বংস করার জন্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ত্যাগ ও কুরবানির মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ। মহানগর জামায়াতের মজলিশে শূরার সদস্য ফারুকে আজম, মুহাম্মদ শামসুল হক, আব্দুল কাদের ও মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ