মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রিজার্ভ চুরিতে দেশী-বিদেশী ২৩ ব্যক্তি শনাক্ত ---সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার: রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জড়িত কর্মকর্তাদের শনাক্ত করেছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ এ ঘটনায় দেশী-বিদেশী ২৩ ব্যক্তি জড়িত। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও হ্যাকারদের সহায়তা করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর  সিআইডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন, তদন্ত টিমের প্রধান ও সিআইডির অতিরিক্ত উপ-পরিদর্শক শাহ আলম।
শাহ আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা রিজার্ভ চুরিতে সহায়তা করেছেন, যাদের আমরা সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করেছি। দেশী-বিদেশী কিছু লোকের সহায়তায় তারা ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমকে শুরু থেকেই অরক্ষিত করে রেখেছিল, যা হ্যাকারদের হ্যাকিং করতে সুযোগ করে দিয়েছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রথম থেকেই আমাদের সন্দেহ ছিল এদেশের ব্যাংক থেকেও হ্যাকারদের সহায়তা করা হয়েছে। এই অসাধু চক্রটি প্রথমে গোপন তথ্য দিয়ে হ্যাকারদের সহায়তা করে।  হ্যাকাররা ব্যাংকের নিরাপত্তার তথ্য জেনে যায়। পরে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে। এরপরই হ্যাক করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিদেশী মিলে মোট ২৩ জন শনাক্ত করা হয়েছে। রিজার্ভ চুরির আগে তারা পাঁচটি ব্যাংক একাউন্ট করেছিলেন।
 ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর থেকেই সিআইডির একটি বিশেষজ্ঞ দল তদন্তে নামে। ব্যাংকের ভেতর অনেক ইলেট্রনিক প্রমাণ খতিয়ে দেখে।
সিআইডির একটি সূত্র বলছে, এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিলিং রুমের সার্ভার ও কম্পিউটার থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল সব তথ্য। দুটি বিভাগের প্রধানসহ আরো কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসব কাজ করে। এদের মধ্যে আইটি বিভাগের লোকজনের সংখ্যাই বেশি। হ্যাকাররা সরাসরি তাদের সহযোগিতা নিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। সুবিধাজনক সময় টাকাগুলো তুলে নেয়। সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে জালিয়াতির আশ্রয় নেয় হ্যাকাররা।
 সিআইডি’র এই অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা সিস্টেম ছিল সুরক্ষিত। সেখানে ছিল না ইন্টারনেট কানেকশন। কিন্তু দিনের পর দিন বিদেশী হ্যাকারদের সঙ্গে একটি অভ্যন্তরীণ চক্র সেই সুরক্ষিত সিস্টেম হ্যাক করার অপতৎপরতা চালিয়েছে। নিরাপত্তা সিস্টেম হ্যাক করতেই ইন্টারনেট কানেকশন দেয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিদেশী চক্রটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ চক্রের সহায়তায় রিজার্ভের টাকা চুরি করতে তিনটি ধাপ নিয়েছিল। বিদেশী চক্রটি প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ চক্রটির সহায়তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হ্যাক কৌশল জেনে নেয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ব্যাংকিং সিস্টেমে ঢুকে স্টেপ বাই স্টেপ নিরাপত্তা সিস্টেমগুলো হ্যাক করা শুরু করে। তার একটা পর্যায়ে তারা ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে হ্যাক করে দেয় পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ চক্রটি। কিন্তু তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাননি।
উল্লেখ্য, হ্যাকারদের একটি গ্রুপ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোড ব্যবহার করেই এই অর্থ চুরি করা হয়। ঘটনার পর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বাংলাদেশে কেউ গ্রেফতার হয়নি। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে স্পষ্ট হয়নি সে বিষয়টিও।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম এবং সুইফট কোড কন্ট্রোলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্টে ৩০টি পেমেন্ট এডভাইজ পাঠায় ফিলিপাইনের স্থানীয় ব্যাংকে টাকা স্থানান্তরের জন্য। এর মধ্যে চারটি এডভাইজ অনার করে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, যার মাধ্যমে ৮১ মিলিয়ন ডলার সফলভাবে পাচার করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা।
২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনকোয়েরারের প্রতিবেদনে রির্জাভ চুরির ঘটনার প্রথম তথ্য প্রকাশ পায়। ওই সময় বলা হয়, ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল হ্যাকাররা। এ প্রচেষ্টায় দুই ধাপে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার লোপাট করলেও ৮৭০ মিলিয়ন ডলার পাচারে ব্যর্থ হয় তারা। এরপরই মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ