মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

জাতিসংঘের আহ্বানে সু চি সাড়া দেবেন কী?

রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনে যেতে অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনীর নতুন করে নির্মম দমন-পীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই আহ্বান জানিয়েছেন। শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চি সরকারি এ নির্যাতন বন্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। নিউইয়র্কে গত ৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ পরামর্শক বিজয় নামবিয়ার সু চির প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযান শুরু করায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সু চিকে বলছি, মংডু এবং বুথিডংয়ে গিয়ে সেখানকার বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।’ উল্লেখ্য যে, রাখাইনের ওই দুটি এলাকা বর্তমানে অবরোধ করে রেখেছে সেনাবাহিনী।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চিকে রাখাইনে গিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সুরক্ষা দেয়ার আহ্বান জানালো জাতিসংঘ। প্রশ্ন জাগে, শান্তিতে নোবেল জয়ী একজন মানুষকে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানের আহ্বান জানাতে হবে কেন? যারা সরকার পরিচালনা করেন তাদের স্বাভাবিক দায়িত্বের মধ্যে তো জনগণের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর যিনি শান্তিতে নোবেল পান এ ক্ষেত্রে তো তাঁর দায়িত্ব আরও বেশি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, মিয়ানমারের নেত্রী হিসেবে কিংবা নোবেল বিজয়ী হিসেবে নিজের সম্মান রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন অং সান সু চি। ফলে প্রশ্ন জাগে, ব্যর্থতার এই বিষয়টি কি তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন না? নাকি রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে তার মনে কোন জাতিগত বিদ্বেষ রয়েছে? আর যদি এমনটি না হয়ে থাকে তাহলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে তিনি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন কেন? বিশ্ববাসীর মনে আজ যে প্রশ্ন জেগেছে তার জবাব এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
মিয়ানমার সরকার বলছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারের নাগরিক নন। একটি স্বাধীন দেশের সরকার এমন ডাহা মিথ্যে কি করে বলেন তা ভাবতে গেলে অবাক হতে হয়! মিয়ানমারের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বৃটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর বার্মার প্রথম প্রেসিডেন্ট উনু রোহিঙ্গাদের আরাকানের অধিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের বার্মার প্রথম সংবিধান সভার নির্বাচনে রোহিঙ্গারা ভোট দিয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে তারা আরাকানের অধিবাসী হিসেবে পরিচয়পত্র পান। ১৯৫৯ সালে প্রধানমন্ত্রী উবা রোহিঙ্গাদের আরাকানের জাতিগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া স্বাধীন মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম শাও সোয়ে থাইক ১৯৪৭ সালে বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গারা যদি স্থানীয় আদিবাসী না হয় তাহলে আমিও তা নেই।’
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ১৯৬২ সালে দেশটিতে সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই শুরু হয় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিতাড়ন অভিযান। এর নাম দেয়া হয়েছিল অপারেশন ড্রাগন কিং। সেই উচ্ছেদ অভিযানই এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একটি দেশের নাগরিকদের বল প্রয়োগের মাধ্যমে এভাবে উচ্ছেদ করা যায় না। এ কারণেই হয়তো আরাকান তথা রাখাইনে গিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এখন দেখার বিষয় হলো, এই আহ্বানে সু চি কতটা সাড়া দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ