বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রাজশাহীতে কথিত এনজিও ‘প্রত্যাশা’র লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীতে ভুয়া এনজিও ‘প্রত্যাশা’র বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই কথিত এনজিওটি প্রতারণা করে রাজশাহীতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা জানা গেছে।
অসহায় ও দুস্থদের বিভিন্ন ভাতা দেয়ার নামে তাদের কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কথিত ওই এনজিও’র কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস (৩২)। দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রতারণার বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হওয়ায় এবং ভাতার টাকা প্রদানে ব্যর্থ হলে দীপক কুমার দাসকে গণপিটুনি দেন ভুক্তভোগীরা। এরপর একজন কাউন্সিলর জনরোষ থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত সোমবার রাতে নগরীর দাসপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দীপক নগরীর হেতেমখাঁ কারিগরপাড়া এলাকার অধীর কুমার দাসের ছেলে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার দাসপুকুর এলাকার শামীম হোসেনের স্ত্রী স্মৃতি খাতুন বাদী হয়ে দীপক কুমার দাসকে আসামী করে নগরীর রাজপাড়া থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। ওইদিন বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, রাজশাহীতে প্রত্যাশা নামে কোনো এনজিও’র অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সে এনজিও’র কিছুই নয়। ভুয়া এনজিও’র নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামী দীপককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে দীপক কুমার ১১ লাখ আত্মসাৎ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীপক কুমার দাস নিজেকে ‘প্রত্যাশা’ নামে একটি এনজিও’র কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্মৃতি ও শ্যামলীকে কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। তাদের দু’জনের কাজ ছিল এলাকার বিভিন্ন ভাতা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। সমাজসেবা অধিদফতরের বিভিন্ন ভাতা পেতে এ টাকা ‘অফিস খরচ’ হিসেবে নেয়া হচ্ছে বলেও তাদের জানানো হয়। ওই দুই নারী দীপককে গত দেড় বছরে ভাতা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ১১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা তুলে দেন।
স্মৃতি খাতুন সাংবাদিকদের জানান, প্রত্যাশার নামে দীপক তাদের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ এলাকায় এ নামে কোনো এনজিও’র অফিস নেই। শুধু মুখের কথায় তারা দু’জন তাকে টাকা তুলে দিতেন। দীপকই তাদের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে যেতেন। সর্বশেষ গত ২০ নবেম্বর তিনি ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। টাকা আদায়ের জন্য তাদের প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা  করে বেতন দেয়ার কথা থাকলেও তাও তিনি দেননি। তিনি আরো জানান, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এবং ভাতার টাকা প্রদানে ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীরাসহ এলাকার লোকজন দীপক কুমার দাসের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। গত সোমবার রাতে তিনি এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটকিয়ে বেধড়ক গণপিটুনি দেন। এসময় স্থানীয় একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জনরোষ থেকে তাকে উদ্ধার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এর আগে থানায় আটক অবস্থায় দীপক কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান, তিনি টাকা নিয়েছেন। তবে মামলার এজাহারে যে পরিমাণ টাকার কথা বলা হচ্ছেÑ সে পরিমাণ টাকা তিনি নেননি। সম্প্রতি কয়েক দিন আগে তিনি কিছু টাকা ফেরতও দিয়েছেন বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ