রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সংযম ও নম্রতার কথা বললেন স্টিফেন হকিং

মিয়ানমারের ওপর থেকে বাণিজ্যিক অবরোধ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করে বারাক ওবামা বলেন, মিয়ানমার মানবাধিকার বিষয়ে উন্নতি করেছে। মিয়ানমারে গত এক মাস ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণসহ যে নৃশংস অভিযান চালানো হচ্ছে সেই প্রেক্ষাপটে মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে আসলেই কি মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির কোন উন্নয়ন ঘটেছে? উল্লেখ্য যে, বারাক ওবামা মিয়ানমারের ওপর থেকে বাণিজ্যিক অবরোধ তুলে নিলেও ইরান ও উত্তর কোরিয়াসহ আরো বেশকিছু দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে ওই অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মিয়ানমারের ওপর থেকে বাণিজ্যিক অবরোধ তুলে নেয়ার ফলে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যরা সংযুক্ত রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আবারও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে মার্কিন ব্যবসায়ীরা। মিয়ানমার থেকে মূল্যবান পাথর ও মুক্তা সংগ্রহ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক উত্তরণের অন্যতম সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সেখানে সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে গৃহচ্যুৎ হাজারো রোহিঙ্গা মুসলিম চরম পন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে। এছাড়া এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধর্মীয় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পূর্ব-এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড্যানিয়েল রাসেল। মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, এতে দেশটিতে জিহাদী চরমপন্থা মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমন হুঁশিয়ারি ও বিশ্লেষণ দিয়ে মার্কিন নেতৃবৃন্দ মানব জাতির কী উকার করতে চাইছেন? তারা তো বলছেন সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানরা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে। তাহলে এ কথা স্পষ্ট করেই বলা যায় যে, ওই অঞ্চলে নতুন করে চরমপন্থী সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করেছে মিয়ানমার সরকার ও তাদের সেনাবাহিনী। তাদের এমন কাজ তো গণতন্ত্র কিংবা মানবাধিকারসম্মত নয়। অথচ এই মিয়ানমারকেই মানবাধিকার বিষয়ে উন্নতি করার জন্য পুরস্কৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্যিক অবরোধ তুলে নিচ্ছে মার্কিন সরকার। এমন বাস্তবতায় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে আমরা কীভাবে মূল্যায়ন করবো? এমন কোন মানদ- আছে কি যা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করা যায়?
পৃথিবীটা মগের মুল্লুক নয়। অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন তথা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো মানুষ এই পৃথিবীতে আছে, আছে রাষ্ট্রও। মিয়ানমার সরকার পৃথিবীটাকে মগের মুল্লুক ভাবলে ভুল করবে। এই কথারই যেন জানান দিল মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন। এই গণহত্যা বন্ধে তিনি জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও ইসলামী দেশগুলোর সংগঠন ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি মিযানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী হিসেবে পরিচিত ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চিরও সমালোচনা করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানকারী বিশাল জনতাকে উদ্দেশ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবশ্যই ইসলাম এবং মুসলমানদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারে চলমান নির্যাতনকে মালয়েশিয়া ‘এথনিক ক্লিনাজং’ বা জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে আখ্যায়িত করেছে। তাই এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাইলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। রোববারের সমাবেশে তিনি আরো বলেন, বিশ্ব বসে বসে চলমান এ গণহত্যার দর্শক হতে পারে না। উল্লেখ্য যে, অন্য সদস্য দেশের বিষয়ে আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশ নাক গলাতে পারে না বলে মালয়েশিয়াকে আগেই সতর্ক করেছিল মিয়ানমার। কিন্তু সেই সতর্কতাকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক র‌্যালি করলেন। তিনি উল্টো মিয়ানমারকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, গত বছর আসিয়ান নিজেকে একটি একক সম্প্রদায় হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর সনদে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু  মিয়ানমারে কি মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে?
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র ফ্রেদেরিকা মেযোরিনি বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সেনাশক্তির অপব্যবহার করছে মিয়ানমার সরকার। সেখানকার হাজার হাজার মানুষ নিপীড়নের শিকার। অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষোভ ও তদন্ত দাবির বিষয়টিকে কে কতটা গুরুত্ব দেবে আমরা জানি না। তবে আমরা মনে করি, বর্তমান নীতিহীন বিশ্বব্যবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শোভন প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি জালেমদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনেরও প্রয়োজন রয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বিক্ষোভ সমাবেশে সেদিকেই কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন বিবেচনার বিষয় হলো, পৃথিবীতে  মালয়েশিয়ার বাইরে তো আরো অনেক মুসলিম দেশ আছে, তারা কি জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না? জাতিসংঘ বলি, আন্তর্জাতিক বিশ্ব বলি, তাদের কাছে কি মিয়ানমারের তুলনায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, মিসর, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ অন্য মুসলিম দেশগুলোর চাপ বা আহ্বানের গুরুত্ব অধিক হবে না? তাহলে মিয়ানমারের মুসলমানদের অস্তিত্বের সঙ্কটের সময় ভ্রাতৃচেতনায় মানবিক  দায়িত্ব পালনে মুসলিম দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের  কার্যকর ভূমিকা পালনে অসুবিধা কোথায়? এ প্রশ্নের জবাব আজ খুবই প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করার মত বিষয় হলো, সত্য বলার চেয়ে সত্য গিলে ফেলার মত মানুষের সংখ্যাই বেশি। মুসলিম সমাজও এর থেকে ব্যতিক্রম কিছু নয়। একেই বোধ হয় বলা হয় সভ্যতার অভিঘাত।
বর্তমান সময়ে সভ্যতা যেভাবে চলছে, বিশ্ব রাজনীতি যেদিকে ধাবিত হচ্ছে, তাতে বিশ্বনেতাদের প্রশংসা করা যায় না; বরং ব্যর্থতার কারণে তাদের নিন্দাবাদ করতে হয়। বিশ্বনেতাদের ভাবমর্যাদা তথা ইমেজ এতটাই নি¤œগামী যে, তাদের কথায় আস্থা রাখা যায় না, তাদের কথামালা শুনতেও ভাল লাগে না। তাহলে মানুষ কাদের কথা শুনবে, কাদের কথায় আশাবাদী হবে? দুঃখময় এমন এক সময়ে কিছু কথা বলেছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তিনি শুধু বিশ্ব-রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, বণ্টন ব্যবস্থা এবং সামাজিক সংকট নিয়েই কথা বলেন নি, সংকট সমাধানের পথও নির্দেশ করেছেন। ফলে বৃটেনের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত তাঁর বিশ্লেষণটি আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।
স্টিফেন হকিং বলেছেন, বৃটেনে ও যুক্তরাষ্ট্রে অভিজাত সম্প্রদায় প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বৃটিশ জনগণের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ এবং মার্কিন জনগণের ট্রাম্পকে নির্বাচিত করার ঘটনায় পর্যবেক্ষকরা যাই বলুন না কেন, এ দু’টি ঘটনায় মানুষের ক্রোধের প্রতিফলন হয়েছে। তারা মনে করেছেন, নেতারা তাদের ছুঁড়ে ফেলেছেন। এটা আসলে এমন একটা সময় যখন বিস্মৃত মানুষরা উচ্চকণ্ঠে কথা বলছেন। তারা বিশেষজ্ঞ ও অভিজাতদের পরামর্শ উপেক্ষা করেছেন। স্টিফেন হকিং আরো বলেন, ব্রেক্সিটের আগে আমি সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে, এতে বৃটেনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ব্যাহত হবে। এটা হবে পেছনে যাওয়ার সামিল। কিন্তু বেশির ভাগ ভোটারই আমার কথা শোনেননি। ঠিক যেমন তারা রাজনীতিক, শিল্পী, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটিদের কথা শোনেননি। মানুষ তো ভোট দিয়েই ফেলেছেন, কিন্তু অভিজ্ঞরা কি করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমরা কি ভাববো, এটা জনপ্রিয়তার নির্জলা বিস্ফোরণ যেটা আসলে বাস্তবতা আমলে নিতে পারেনি, অথবা আমরা কি তাদের এ পছন্দ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো? আমি বলবো, সেটা হলে আমরা মারাত্মক ভুল করবো। স্টিফেন হকিং আরো বলেন, এই ভোটের পেছনে বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে মানুষের মনে যে উদ্বেগ ছিল, তার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। কারখানাগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যার কারণে মধ্যবিত্তের চাকরি হারানোর আশঙ্কা আরো বাড়বে। আসলে বর্তমান পৃথিবীতে বৈষম্যের মাত্রা বেড়েই চলেছে। ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে স্বল্পসংখ্যক মানুষকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর মুনাফা অর্জন সম্ভব। আর এ মুনাফার সিংহভাগ ভোগ করবে তার চেয়েও কমসংখ্যক মানুষ। এটা এক ধরনের অগ্রগতি বটে, কিন্তু সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক। এমন ব্যবস্থায় অল্প কিছু মানুষ বিপুলভাবে লাভবান হচ্ছেন, আর এই সব লাভবানদের লোভের কারণে পুরো ব্যবস্থা কলুষিত হবে, আর এর জের টানতে হবে সেই আমজনতাকেই। অর্থাৎ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে মানুষের মধ্যে বৈষম্য শুধু বাড়ছেই, যেখানে বিপুল মানুষের শুধু যাপিত জীবনের মানই নয়, জীবিকা অর্জনের সক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা যে নতুন সামাজিক চুক্তির সন্ধান করছেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ট্রাম্প ও ব্রেক্সিট হয়তো তাদের বিবেচনায় সম্ভাবনার একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মানুষের মনে এখন প্রশ্ন, ক্রমবর্ধমান অসমতা থেকে বাঁচার কি কোনো উপায় নেই? বাঁচার লক্ষ্যে গ্রামের গরীব মানুষরা শহরে ভিড় জমাচ্ছে। ঠেসাঠেসি করে বস্তিতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকে উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। কিন্তু বিদেশে স্থানীয়রা অভিবাসীদের প্রতি তেমন সহিষ্ণু নন। ফলে সেখানকার রাজনীতিতে জনপ্রিয় ধারা প্রবল হয়ে উঠছে। অথচ এমন, বাস্তবতায় সবার একত্রে কাজ করার বিষয়টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কাছে এমন প্রযুক্তি আছে যা দিয়ে আমরা পৃথিবী ধ্বংস করতে পারি, কিন্তু সেই ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানোর প্রযুক্তি আমরা নির্মাণ করতে পারিনি। তাই আমাদের একত্রে কাজ করে এই পৃথিবীকে রক্ষা করতে হবে। জাতিতে-জাতিতে যে বৈরিতা ও বিভেদের দেয়াল তৈরি হয়েছে তা ভেঙে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বনেতারা ব্যর্থ হয়েছেন। তারা নানাভাবে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছেন এবং অন্য অনেক মানুষকে ব্যর্থ করেছেন। পৃথিবীর সম্পদ ক্রমাগত অল্প কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে। এই সম্পদ কী করে আরও বেশি ভাগাভাগি করা যায় তা আমাদের শিখতে হবে। প্রসঙ্গত স্টিফেন হকিং আরো বলেন, আমাদের সমাজ ও অর্থনীতি যদি অভিবাসীদের স্রোত সামলাতে না পারে, তাহলে আমাদের সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। সেটা করা গেলে মানুষ তার ঘর ছেড়ে অভিবাসী হবে না, নিজ দেশেই কাজ পেয়ে যাবে। পরিশেষে স্টিফেন হকিং বলেছেন, সব অভিজাতকে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবে সবার ওপরে তাদের সংযম শিখতে হবে, নম্র হতে হবে। কিন্তু হকিংয়ের এমন গুরুত্বপূর্ণ আহ্বানে প্রশ্ন জাগে, অভিজাতরা সংযম ও নম্রতা শিখবেন কোত্থেকে? তাঁদের পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সিলেবাসে কি ওই বিষয়গুলো আছে? বিষয়গুলো যে একান্তভাবে নৈতিক তথা ধর্মীয় শিক্ষার সাথে জড়িত।
অভিজাতদের সিলেবাসে কাক্সিক্ষত বিষয়গুলো না থাকার কারণে আমাদের সভ্যতাও মানবিক সভ্যতায় উন্নীত হতে পারেনি। এর মন্দপ্রভাব নানা দেশে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে মিয়ানমারে এই সংকটটা এখন প্রকট। সংযম ও নম্রতা যেন এখন উধাও হয়ে গেছে অং সান সু চির দেশ থেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ