বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নাটোরের তিন যুবলীগ নেতার গুলীবিদ্ধ লাশ দিনাজপুরে উদ্ধার

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় গুলীবিদ্ধ ৩ যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি মোবাইল ও ২ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা নাটোর জেলার যুবলীগের নেতা-কর্মী এবং তাদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। মৃত ৩ জনের মধ্যে ১ জনের মাথায় ১টি ও ২ জনের ২টি করে গুলীবিদ্ধের চিহ্ন দেখা গেছে। নিহতরা হলেন- নাটোর পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেদোয়ান সাব্বির (৩০) পিতা সোনা মিয়া মাস্টার, নাটোর পৌর যুবলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ (৩০) পিতা লুৎফর রহমান ও যুবলীগ কর্মী সোহেল ওরফে সাগর (২৮) পিতা মানিক মিয়া। তাদের সকলের বাড়ি নাটোরের সদর উপজেলার কানাইখালি গ্রামে। নাটোর জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন নিহতদের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার ভোরে দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলার ভাদুরিয়া-রাণীগঞ্জ মহাসড়কে ৫০ গজ উত্তরে কলাবাড়ী রাস্তার পাশে নিহত ৩ যুবকের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা সকাল ৯টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৩ যুবকের লাশ উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট থানায় নিয়ে আসে। ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোখসানা বেগমের উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ঘোড়াঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। থানার সাধারণ ডায়েরী নং ১৬৫ তাং ৫/১২/২০১৬। দুপুর ১টায় নিহত ৩ জনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় নিহত আব্দুল্লাহর পিতা লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন আত্মীয় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে নিহত ৩ জনের লাশ শনাক্ত করেছেন। ঘোড়াঘাট থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান জানান, নিহতদের মধ্যে সাব্বিরের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় ৯টি মামলা রয়েছে এবং আব্দুল্লাহ ও সোহেলের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় নাটোরের তকেয়া বাজার এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা একটি কালো মাইক্রোবাসে করে তিন তরুণকে উঠিয়ে নেয়। নাটোর সদর থানায় রোববার নিখোঁজদের সন্ধান চেয়ে জিডি করা হয়। লাশ উদ্ধার করার সময় তাদের সঙ্গে চারটি মোবাইল ছিল। এর মধ্যে তিনটি ছিল পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করা। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল নাটোরেই এই ঘটনায় মামলা দায়ের হবে। এ ব্যাপারে নাটোর জেলা পুলিশের সাথে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নিহত আব্দুল্লাহর পিতা লুৎফর রহমানসহ তার কয়েকজন আত্মীয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর নিহত ৩ জন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এ ব্যাপারে পরদিন ৪ ডিসেম্বর নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সোমবার মোবাইল ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ