বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যে প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন

পৃথিবীটা মগের মুল্লুক নয়। অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন তথা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো মানুষ এই পৃথিবীতে আছে, আছে রাষ্ট্রও। মিয়ানমার সরকার পৃথিবীটাকে মগের মুল্লুক ভাবলে ভুল করবে। এই কথারই যেন জানান দিল মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন। এই গণহত্যা বন্ধে তিনি জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও ইসলামী দেশগুলোর সংগঠন ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি মিযানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী হিসেবে পরিচিত ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চিরও সমালোচনা করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানকারী বিশাল জনতাকে উদ্দেশ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবশ্যই ইসলাম এবং মুসলমানদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারে চলমান নির্যাতনকে মালয়েশিয়া ‘এথনিক ক্লিনাজং’ বা জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে আখ্যায়িত করেছে। তাই এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাইলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। রোববারের সমাবেশে তিনি আরো বলেন, বিশ্ব বসে বসে চলমান এ গণহত্যার দর্শক হতে পারে না। উল্লেখ্য যে, অন্য সদস্য দেশের বিষয়ে আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশ নাক গলাতে পারে না বলে মালয়েশিয়াকে আগেই সতর্ক করেছিল মিয়ানমার। কিন্তু সেই সতর্কতাকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক র‌্যালি করলেন। তিনি উল্টো মিয়ানমারকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, গত বছর আসিয়ান নিজেকে একটি একক সম্প্রদায় হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর সনদে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু  মিয়ানমারে কি মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে?
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র ফ্রেদেরিকা মেযোরিনি বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সেনাশক্তির অপব্যবহার করছে মিয়ানমার সরকার। সেখানকার হাজার হাজার মানুষ নিপীড়নের শিকার। অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষোভ ও তদন্ত দাবির বিষয়টিকে কে কতটা গুরুত্ব দেবে আমরা জানি না। তবে আমরা মনে করি, বর্তমান নীতিহীন বিশ্বব্যবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শোভন প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি জালেমদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনেরও প্রয়োজন রয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বিক্ষোভ সমাবেশে সেদিকেই কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন বিবেচনার বিষয় হলো, পৃথিবীতে  মালয়েশিয়ার বাইরে তো আরো অনেক মুসলিম দেশ আছে, তারা কি জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না? জাতিসং বলি, আন্তর্জাতিক বিশ্ব বলি, তাদের কাছে কি মিয়ানমারের তুলনায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, মিসর, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ অন্য মুসলিম দেশগুলোর চাপ বা আহ্বানের গুরুত্ব অধিক হবে না? তাহলে মিয়ানমারের মুসলমানদের অস্তিত্বের সঙ্কটের সময় ভ্রাতৃচেতনায় মানবিক  দায়িত্ব পালনে মুসলিম দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের  কার্যকর ভূমিকা পালনে অসুবিধা কোথায়? এ প্রশ্নের জবাব আজ খুবই প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ