বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নর্থ ডাকোটা পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি বাতিল করলো মার্কিন সেনাবাহিনী

৫ ডিসেম্বর, রয়টার্স/বিবিসি : যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় বিতর্কিত পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি বাতিল করেছে মার্কিন সেনা বাহিনী। গত রোববার মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কর্পস এ অনুমতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে নর্থ ডাকোটার আদিবাসীদের আমেরিকানদের আন্দোলনের বিজয় আসলো।
পাইপলাইনের স্থাপনের অনুমতি বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠেন নর্থ ডাকোটার ক্যানন বল এলাকায় আন্দোলনরত আদিবাসী আমেরিকানরা। স্ট্যান্ডিং রক সিউক্স আদিবাসীসহ বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী ১ হাজার ১৭২ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইনবিরোধী আন্দোলন করে আসছেন।
এক বিবৃতিতে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেক ওয়াহে এলাকা দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি দেবে না তারা।
সেনাবাহিনীর সিভিল ওয়ার্কসের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জো-এলেন ডার্সি জানান, পাইপলাইনটি বিকল্প রুটে স্থাপন করা প্রয়োজন। ফলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও তিনি বিকল্প রুটটি কি হবে তা জানাননি।
সম্প্রতি এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন দেশটির কয়েক হাজার সাবেক সেনা সদস্য। এ আন্দোলনের কর্মীরা শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় বিক্ষোভ করছেন। কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবারের মধ্যে আন্দোলনস্থল ছাড়ার নির্দেশ জারি করে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে মারধর করেছে পুলিশ। 
পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই পাইপলাইন স্থাপনের বিরোধিতায় আন্দোলন করে আসছেন। কয়েক বিলিয়ন ডলারের এ পাইপলাইনটির একটি সেকশন ছাড়া প্রায় পুরো স্থাপন কাজ শেষ পর্যায়ে। একটি নদীর তীর ঘেঁষে এ পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের এ আন্দোলনে যোগ দেয়া সাবেক সেনাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা ও বাল্টিমোর পুলিশ কর্মকর্তা মাইকেল উড জুনিয়র। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, যদি পুলিশ রাষ্ট্রীয় পরিচালিত এজেন্টে পরিণত হয়ে সম্মানের সঙ্গে যারা দেশকে সেবা দিয়েছেন সেই সব অহিংস সাবেক সেনাদের ওপর হামলা করে, তারা যদি আমাদের মারধর করে, তাহলে আমাদের দেশ কোথায় যাচ্ছে তার একটি সতর্ক সংকেত।
সাবেক সেনাদের এই দলটি ফেসবুকে একটি পেজ খুলেছে এ আন্দোলনের সমর্থনে। একই সঙ্গে তারা খাবার, যাতায়াত ও নতুন স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহের একটি ক্যাম্পেইনও শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে এ ক্যাম্পেইন থেকে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার সংগৃহীত হয়েছে। তাদের পেজে একটি পোস্টে ঘোষণা দেয়া হয়েছে চলমান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আরও অন্তত ২ হাজার সাবেক সেনা যোগ দেবেন।
শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এই আন্দোলনে তারা কোনও ধরনের বিদ্বেষ, সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নবাদী আচরণ সহ্য করবেন না। দেশের জন্য আমরা এই আন্দোলনকে সমর্থন করছি। তাই আসুন তা ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মানের সঙ্গে করি।
অবশ্য তারা আন্দোলনকারীদের আত্মরক্ষামূলক সরঞ্জাম নিয়ে আসার জন্য বলেছেন। বডি আর্মার, গ্যাস মাস্ক, ইয়ার প্লাগ ও শুটিং মাফলার নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। তারা সাউন্ড কামানের আশঙ্কা করছেন। তবে কোনও ধরনের মাদক ও অস্ত্র না আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা শূন্য ডিগ্রির নিচে প্রতিকূল আবহাওয়াতে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির চেয়ে আরও ৫ ডিগ্রি কমে যেতে পারে।
নর্থ ডাকোটার গভর্নর জ্যাক ডালরিম্পল বুধবার বলেছেন, পাইপলাইনের রুট পরিবর্তন করার সুযোগ সম্ভবত নাই। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে কাজ করার চেষ্টা করবেন। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনস্থল থেকে সব বাধা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ আশা করছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আন্দোলনকারীরা নিজ থেকেই সরে যেতে বাধ্য হবে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে নর্থ ডাকোটা পুলিশ।
এদিকে, নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাইপলাইন স্থাপন কাজ শেষ করার পক্ষে নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। পাইপলাইন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিলিপস সিক্সটি সিক্স প্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ শেয়ারের মালিক টেক্সাসভিত্তিক এনার্জি ট্রান্সফার পার্টনারস। এ কোম্পানিতে ট্রাম্পের মালিকানা রয়েছে।
ট্রাম্পের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এ অবস্থান তার বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটা তার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বলেই সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প।
চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই সিউক্স ও অপর আদিবাসী আমেরিকানরা পাইপলাইনবিরোধী আন্দোলন করে আসছে। তাদের দাবি, এই পাইপলাইন একটি সমাধিক্ষেত্রের ওপর দিয়ে স্থাপন করা হচ্ছে। এ পাইপলাইন স্থাপিত হলে স্ট্যান্ডিং রক এলাকার পানির উৎস দূষিত হয়ে পড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ