সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আমাদের সঙ্গে ভারতের আচরণ ছিল অদ্ভুত -সারতাজ আজিজ

৫ ডিসেম্বর, ডন/দৈনিক পাকিস্তান : ভারতের অমৃতস্বরে ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে ইসলামাবাদে নবেম্বরের সার্ক সম্মেলন বাতিল ও পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দোষারোপ করার সমালোচনা করলেন পাকিস্তানের বৈদেশিক বিষয়ক পরামর্শদাতা সারতাজ আজিজ।
এর আগে গত রোববার ‘হার্ট অব এশিয়া’ তে পাকিস্তানকে জঙ্গী গোষ্ঠির আস্তানা ও সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করা হয়। সারতাজ আজিজ এর প্রতিত্তুরে বলেন, আমরা তালেবান, আইএস, হক্কানি গোষ্ঠি, আল কায়দা, লস্কর-ই-তৈয়বা, জয়েশ-ই-মুহম্মদসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী-জঙ্গী গোষ্ঠি আফগানিস্তান ও এই অঞ্চলে যে সহিংসতা সৃষ্টি করছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন ও সন্ত্রাসবাদ দূরীকরণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
তিনি আরো বলেন, আমরা আফগানিস্তানে চলমান প্রতিকূল পরিবেশে শান্তি স্থাপন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে এই অস্থিতিশীল পরিবেশেও আফগানবাহিনী সন্ত্রাসবাদ রোধে কাজ করে যাচ্ছে। একটি দেশকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দোষারোপ করা খুব সহজ কিন্তু সামগ্রিক দিক চিন্তা করা উচিত। এই সময় আজিজ আফগান-পাকিস্তান বাণিজ্য চুক্তি উন্নতকরণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এই সময় আজিজ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার নবেম্বরে ইসলামাবাদের সার্ক সম্মেলন বর্জন করা অসন্তোষ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সার্ক এটি আঞ্চলিক সহযোগিতার একমাত্র মাধ্যম।
পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজীজ আরো অভিযোগ করে বলেন, ভারতে তার সঙ্গে বড়ই ‘আজব মোয়ামেলা’ করা হয়েছে।
সারতাজ আজীজ বলেন, ভারতীয় মিডিয়া আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য সন্ত্রাসবাদের আলোচনা উস্কে দেয়। হার্ট অব এশিয়ার যৌথ ঘোষণা খুবই ভারসাম্যহীন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যও সমালোচনাপূর্ণ। ভারতে নিরাপত্তাকর্মীদের বড়ই আজব মোয়ামেলা ছিল। হোটেলে আমাদের সঙ্গে কাউকে সাক্ষাত ও যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভারতকে খুশি করার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা খুবই আশঙ্কাজনক। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই সেখান সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের দিকে যাবে।
আজিজ বলেন, তিনি যখন ভারতে পৌঁছেছিলেন তখনও অমৃতসর বিমানবন্দরে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাকে স্বর্ণ মন্দিরেও যেতে দেয়া হয়নি।
সারতাজ আজিজ বলেন, আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় এক দিন আগেই তিনি ভারতে পৌঁছেছিলেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উপস্থিত মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু কোনো বিষয়ভিত্তিক কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, ভারতে যতদিন বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন শেষ না হবে ততদিন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এভাবেই চলবে।
পাক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভারতে নিযুক্ত পাক হাই কমিশনার আব্দুল বাসিতকেও পাকিস্তানী মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেয়া হয়েছে। এ সময় বাসিত আলাদাভাবে বলেন, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি আসতে পারে না। কাশ্মীরিদের ইচ্ছানুসারে কাশ্মীর ইস্যু নিষ্পত্তি করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলন চলাকালীন কিছু পাক সাংবাদিক হাই কমিশনার আব্দুল বাসিতের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তার প্রটোকল অনুসারে নিরাপত্তা কর্মীরা তাতে আপত্তি জানান। পাক সাংবাদিকরা বলেন, তারা বাসিতের সঙ্গে দেখা করে স্রেফ দোয়া-সালাম জানাবেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। ওই ঘটনার পরেই ক্ষুব্ধ হন আব্দুল বাসিত।
তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে পাকিস্তানী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দিতে পারে না, এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এরা আমাদের লোক, আমি যেকোনো সময়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি।’ বাসিতের অসন্তুষ্টি দেখে অবশেষে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অনুমতি দেন।
অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে সারতাজ আজিজের স্বর্ণ মন্দিরে যেতে সমস্যা প্রসঙ্গে সাফাই দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তানী প্রতিনিধিদের স্বর্ণ মন্দিরে যাওয়ার অনুরোধ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু কম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে প্রকাশ, ‘হার্ট অব এশিয়া’য় অংশ নেয়া বিশিষ্টদের জন্য রোববার স্বর্ণ মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু এ দিন গুরু তেগ বাহাদুরের শহীদ দিবসও ছিল। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সমস্যা ছাড়াও এদের যাওয়ার ফলে পুণ্যার্থীরাও অসুবিধায় পড়তেন। সেজন্য দুই দফায় বিশিষ্ট অতিথিদের শনিবারই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ