বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশ্নবিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের ভূমিকা

৩ ডিসেম্বর, খাবরিন উর্দু : মধ্যপ্রাচ্য থেকে পুরো এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা ওশেনিয়া। বিশ্বের যে প্রান্তেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হোক, সব সময় সরব যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইউরোপের দেশগুলো। প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। কিন্তু মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বেলায় যেন মুখে কুলুপ এটে বসে আছে।
আর জাতিসংঘ তো দায়সারা উদ্বেগ জানিয়েই শেষ। সাবেক রাষ্ট্রদূতরা বলছেন, সমস্যার আঁচ গায়ে লাগছে বাংলাদেশের, অন্যদের নয়। তাই মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশেকেই বাড়াতে হবে কূটনৈতিক তৎপরতা।
চোখের সামনেই খুন হয়েছেন আপনজন, হয়েছেন ধর্ষিত, হারিয়েছেন বসতভিটা। গণহত্যার মুখে কোনোমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জীবনের এমন বর্ণনায় যে কারও ভিজে উঠবে চোখ। অথচ মন গলে না রাষ্ট্রের, তাই তো সীমান্ত খোলা হবে কি, হবে না, তা নিয়ে চলছে বিস্তর বিতর্ক। কিন্তু প্রয়োজন আইন মানে না, প্রবাদটি সত্য করে সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ঢুকছে অসহায় রোহিঙ্গারা।
নিজ দেশেই যখন নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তখন নজিরবিহীন নীরবতা বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে পান থেকে চুন খসলেই যখন সোচ্চার হয়ে ওঠে পশ্চিমারা, দেয় নানা নসিহত। ক্ষেত্র বিশেষে পাঠায় সেনা, এবার তারা কুলুপ এঁটেছে মুখে। তাই সাবেক কূটনীতিকদের পরামর্শ, বিশ্ব দরবারে সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরতে উদ্যোগ নিতে হবে বাংলাদেশকেই। বাধ্য করাতে হবে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের ঘোষণা, এই সমস্যায় পাশে থাকবে বাংলাদেশের; কিন্তু ওটুকুই। নেই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। তাই যতদিন না প্রাণভয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত যাবার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে ততদিন জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তাদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ সাবেক কূটনীতিক এম এ মোমেন ও আবুল মোমেন চৌধুরীর।
তাঁরা বলেন, সবার সাথে বন্ধুত্বের পররাষ্ট্রনীতি মানে এই নয় যে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যাবে না। তাই মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে কূটনীতিক তৎপরতা চালানোর পরামর্শ তাঁদের।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ভারতের কলকাতায় ‘মিয়ানমার কনস্যুলেট’ ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছে কলকাতার বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। আগামী ৭ ডিসেম্বর এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর খাবরিন উর্দুর।
মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘মিয়ানমার পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের যেভাবে গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে তার প্রতিবাদে মিয়ানমার কনসাল জেনারেলের দফতরে ৭ ডিসেম্বর মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে বিক্ষোভ দেখানো হবে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে কনস্যুলেটে স্মারকলিপিও দেয়া হবে।’
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও উগ্র বৌদ্ধদের ওই তৎপরতাকে মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।
কলকাতার ওই প্রতিবাদ সমাবেশে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশান ছাড়াও ‘অল ইন্ডিয়া সুন্নাতুল জামাত’, ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’, ‘জমিয়তে উলামায়ে বাংলা’, ‘ফুরফুরা শরীফ হেজবুল্লাহ’, ‘জমিয়তে আহলে হাদিস’, ‘জমিয়েতুল আইম্মা অল উলামা’, ‘সারা বাংলা ইমাম-মুয়াজ্জিন কাউন্সিল’, ‘অল ইন্ডিয়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’, ‘স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন’, ‘সংখ্যালঘু ছাত্র কাউন্সিল’সহ সংখ্যালঘু ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন বলেও মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন।
উল্লেখ, গত অক্টোবরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হামলার মুখে ১০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পুরুষ ও শিশুদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে, নারীদেরকে ধর্ষণ করছে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ