সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ট্রাম্প-রমনি বৈঠক ‘ডিল উইথ দ্য ডেভিল’ বলে আখ্যায়িত

৩০ নবেম্বর, দ্য গার্ডিয়ান/ বিবিসি/রয়টার্স/সিএনএন : ম্যানহাটনে একটি ফ্রেঞ্চ রেস্তোরাঁয় ডিনারে মিলিত হলেন নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ২০১২ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এবং ট্রাম্পের অন্যতম সমালোচক মিট রমনি। ট্রাম্পের নির্বাচনে জয় লাভের পর এটি তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। আর বৈঠকের পর পরই রমনির মুখে সমালোচনার বদলে শোনা গেল প্রশংসার ফুলঝুরি।
ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিম রমনিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তালিকায় মনোনীত করেছে। দ্বিতীয়বার রমনির সাখে দেখা করার মধ্য দিয়ে রমনির মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আরো একধাপ এগিয়ে গেল।
ডিনার টেবিলে ট্রাম্প-রমনির সাথে ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান রেইন্স প্রিবাস। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ হয়ে জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করছেন তিনি। ডিনার টেবিলের ছবিতে দেখা যায়, মৃদু আলোতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসছেন তারা। যদিও টুইটার ব্যবহারকারীরা রমনির সাথে ট্রাম্পের এই বৈঠককে  ‘ডিল উইথ দ্য ডেভিল’ বলে মন্তব্য করেন। ডিনার টেবিলের ছবিগুলোর ক্যাপশন নিয়েও প্রতিযোগিতায় মেতেছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তিন জনের প্রাথমিক খাবারের তালিকায় ছিল আঙুর, ফুলকপি, রসুনের স্যুপ, ব্যাঙ ফ্রাই। ট্রাম্প ও প্রিবাসের প্রধান খাবারে ছিল গরুর গোশত ও গাজর। রমনি নিয়েছেন মাশরুম সস ও ভেড়ার মাংস। খাবারের শেষে তিনজনই নিয়েছেন চকলেট কেক।
সিএনএন সাংবাদিক জিম অ্যাকস্টা বলেন, আলোচনার সময় তারা অনেক আন্তরিক ছিলেন ও পুরোটা সময় তাদেরকে আনেক প্রাণবন্ত লাগছিল।
ডিনারের পর রমনি তার মন্তব্যে জানান, ট্রাম্পের সাথে খুবই ভাল দিন কেটেছে তার। রমনি বলেন, ‘আমরা বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও পারস্পরিক ইচ্ছা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য ট্রাম্পের ওপর আমার আস্থা আরো বেড়েছে।’ রমনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় লাভ করা খুব সহজ নয়। ট্রাম্প আমেরিকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন।’ যদিও নির্বাচনের আগ মুহূর্তে রমনি ট্রাম্পকে প্রতারক ও ভূয়া বলে মন্তব্য করেছেন। নির্বাচনের পর রমনির এই আচমকা মতবদল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস-এর সাবেক ব্যাংকার স্টিভেন মুচিনকে ট্রাম্প প্রশাসনে অর্থমন্ত্রীর ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনও সরকারি পদে থাকার অভিজ্ঞতা না থাকা ট্রাম্প শিবিরে অর্থ বিষয়ক চেয়ারম্যান মুচিনের নাম বুধবারই পরবর্তী অর্থমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।
ওই পদে ওয়ালস্ট্রিটের সাবেক সদস্য মুচিনের সঙ্গে জেপি মরগ্যান চেজ-এর চেয়ারম্যান জেমি ডিমন ও হাউস ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান প্রতিনিধি জেব হেনসার্লিংয়ের নামও উচ্চারিত হচ্ছিল।
মঙ্গলবার ট্রাম্প স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে টম প্রাইস এবং পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে অ্যালেইন চাও-এর নাম ঘোষণা করেছেন। একই সময়ে মুচিনের নামও পরবর্তী অর্থমন্ত্রী হিসেবে আলোচনা এসেছে বলে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
সরকারি পদে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ওয়ালস্ট্রিটের ব্যবসায় অগাধ অভিজ্ঞতা রয়েছে মুচিনের। এর আগে গোল্ডম্যান স্যাকস-এর আরেক সাবেক ব্যাংকার হেনরি পলসন বুশ প্রশাসনের অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।
বিবিসি জানায়, গোল্ডম্যান স্যাকস-এ মুচিন ১৭ বছর কাজ করেন। পরে ২০০২ সালে তিনি ডিউন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি কয়েকটি ছবিতেও বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রুপার্ট মার্ডকের টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্স ও টাইম ওয়ার্নারের ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এক্স ম্যান সিরিজ, আমেরিকান স্নাইপার, অ্যাভাটার-এর মতো ব্যবসা সফল ছবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ