বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চবি ছাত্রলীগের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ স্থগিত

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের একপক্ষের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীকে হত্যার সুষ্ঠু তদন্তসহ পাঁচ দফা দাবিতে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাক দিয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। সোমবার সকালে দিয়াজ ইরফানের অস্বাভাবিক মৃত্যুবরণের ঘটনায় তার পরিবারের করা হত্যা মামলার অন্যতম আসামী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় ছাত্রলীগ।
অবরোধের পক্ষের নেতা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি শোভন শুভ বলেন, দিয়াজ ভাইকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রক্টরিয়াল বডি থেকে সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনকে অপসারণ করার দাবি ছিল আমাদের অন্যতম দাবি। আমাদের সেই দাবি পূরণ হওয়ায় আপাতত অবরোধ স্থগিত করেছি। আশা করবো আমাদের অন্যান্য দাবিগুলোও মেনে নিয়ে এই হত্যার বিচার করা হবে।
 রোববার সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি দেয় ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। অনির্দিষ্টকালের অবরোধের প্রথমদিন শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দিয়ে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় অবরোধকারীরা। এর ফলে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো শাটল ট্রেনই নগর থেকে ছেড়ে যেতে পারেনি। পাশাপাশি অবরোধের সমর্থনে ক্যাম্পাসে একটি সিএনজি অটোরিকশা ও দুইটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। তবে অবরোধের মধ্যেও বিশ্বিবিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবরোধের দ্বিতীয় দিন সকালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে কোনো শাটল ট্রেন ছেড়ে যায়নি। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে চলেনি কোনো শিক্ষক বাসও। অবরোধকারীদের পাঁচ দফা দাবি ছিল, দিয়াজ ইরফান চৌধূরী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আদালতের নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্তের স্বার্থে প্রক্টরিয়াল বডি থেকে সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনকে অপসারণ, সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার, পূর্বের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নতুন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেশ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
 উল্লেখ্য, গত ২০ নবেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর ফটক এলাকার নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৩ নবেম্বর তৈরি করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় আত্মহত্যার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে দিয়াজের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরিবার এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে আসছিল দিয়াজকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৪ নবেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদি হয়ে চট্টগ্রামের আদালতে ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুর নামও রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ