বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মোদির রাজনৈতিক অস্তিত্ব নির্মূল করার হুঁশিয়ারি মমতার

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে ৫০০ এবং ১০০০ রুপীর নোট নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধী দলগুলো। বামফ্রন্টের ডাকা এদিনের হরতাল চলাকালে ত্রিপুরায় সরকারবিরোধী মিছিলে রাজপথ ছিল উত্তপ্ত। পশ্চিমবঙ্গে (বর্তমানে বেঙ্গল) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও তার দল তৃণমূল রাজপথ তাতিয়ে রাখে এবং  মোদিকে তুলোধুনো করে। খবর বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।
বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যেভাবে নোট নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি সরকার যেভাবে পরিচালনা করেছে তাতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা হয়েছে।
গত সপ্তাহে বিরোধী দলগুলো সে দেশের সংসদে বলেছিল, এ অব্যবস্থাপনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া উচিত।
কিন্তু বিরোধী দলগুলোর এ ধর্মঘট কর্মসূচি কতটা সমর্থন পাবে সেটি অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। বিবিসি’র সংবাদদাতারা জানান, অসুবিধা স্বত্ত্বেও অনেক ভারতীয় সরকারের এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে।
বামফ্রন্টের ডাকে ত্রিপুরা রাজ্যে সর্বাত্মক হরতাল চলে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। হরতালের কারণে রাজধানী আগরতলাসহ রাজ্যের অন্যান্য শহরের দোকানপাট, স্কুল, কলেজসহ অফিস আদালত বন্ধ থাকে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, যানবাহন ছিল না বললেই চলে। দূরপাল্লাসহ আগরতলার সিটি বাসগুলো বিভিন্ন মোটর স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে আগরতলা বিমানবন্দর থেকে প্লেনের পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল এবং সকাল থেকে রুটিন মেনে প্লেন ওঠা-নামা করে।
হরতালে প্লেন যাত্রীদের যাতে যাতায়াতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সে জন্যে ত্রিপুরা পুলিশ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীর পশ্চিম আগরতলা থানা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস পরিষেবা দেয় রাজ্য পুলিশ। এ বাসে করে প্লেনের যাত্রীদের পশ্চিম আগরতলা থানা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয় এবং বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের নিয়ে আসা হয়।
এদিকে হরতালের বিরোধিতা করে আগে থেকেই রাজ্য জুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। গতকালও হরতালের প্রতিবাদে আগরতলা শহরে মিছিল করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি কৃষ্ণনগরের দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে কর্নেল চৌমুহনী এলাকায় এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিত-া হয়। এক পর্যায়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় বসে যান। অনেককে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
হরতালে বাংলাজুড়ে জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক ছিল। গাড়িঘোড়া চললেও যাত্রী সংখ্যা ছিল কিছুটা কম। অন্য দিকে, নরেন্দ্র  মোদির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলে বিপুল সাড়া দেখা গেল। পথে নামলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। ফলে নোট বিতর্কে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের লড়াইয়ে তৃণমূল বামদের পিছনে ফেলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। মমতা পথে নেমে  মোদিকে কার্যত তুলোধুনা করেছেন। ‘স্বৈরাচারী’ থেকে ‘ফেসলেস মোদি’- প্রধানমন্ত্রীকে বিদ্ধ করেছেন বিভিন্ন ‘উপমা’য়। গোটা দেশকে রসাতলে পাঠিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মজায় ঘুমাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন মমতা। ডোরিনা ক্রসিং-এ দাঁড়িয়ে এ দিন মমতা বলেন, মোদির হঠাৎ করে ভগবান হওয়ার ইচ্ছে হয়েছে। উনি ক্যাশলেস সমাজ নিয়ে আসবেন নাকি! অথচ গ্রামে ব্যাঙ্ক নেই। নোটও নেই। সিপিএমকে হরতালের পথে না হেঁটে রাস্তায় নেমে স্লোগান দেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের মিছিলের প্রথম দিকে দেখা যায় টলিউডের একঝাঁক তারকাসহ লেখক ও বিদ্বজ্জনদের। ছিলেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, দেব, মানালি, অনীক ধর, মনোময় ভট্টাচার্য, অন্তরা চৌধুরী, রুদ্রনীল ঘোষসহ অনেকেই। অনেকটা পিছনে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে মমতাকে মিছিল নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। ‘তানাশাহি নেহি চলেগা’, ‘মোদী সরকার হায় হায়’ স্লোগান দিতে দিতে মিছিল এগিয়ে যায় কলেজ স্কোয়্যার থেকে নির্মলচন্দ্র স্ট্রিট, হিন্দ সিনেমার সামনে দিয়ে গনেশচন্দ্র এভিনিউ হয়ে ডোরিনা ক্রসিংয়ের দিকে। মোদির রাজনৈতিক অস্তিত্ব নির্মূল করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়ার পাশাপাশি মমতা এ দিন আভাস দিয়েছেন, মোদির বাসভবনের সামনে তিনি ধর্নায় বসবেন।
বামেরাও এ দিন মৌলালি থেকে মিছিল করে মল্লিকবাজার পর্যন্ত যায়। সেই মিছিলে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, সিপিআইয়ের মনোজ ভট্টাচার্যসহ অন্য নেতারা ছিলেন। মল্লিকবাজারে পুলিশের একটি কিয়স্কের উপর দাঁড়িয়ে সূর্যবাবু বলেন, আমরা কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলিনি। নতুন টাকা দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। প্রশ্ন তুলেছি, টাকা ট্রান্সফার হয়ে কী ভাবে বিদেশে এত টাকা চলে যাচ্ছে? আসলে  মোদি সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনও কাজ করছেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ