বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আইভী সুষ্ঠু নির্বাচন চান না তাই সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে -সাখাওয়াত হোসেন খান

সিদ্ধিরগঞ্জ (না:গঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আইভী সুষ্ঠু নির্বাচন চান না। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন চেয়েছিলেন এবার সরকারি দলের প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি সেনাবাহিনী চান না। আইভী ছাড়া বাকী ৮ জন প্রার্থী সেনাবাহিনী চায়। তিনি (আইভী) সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে মত দিতেন।
গতকাল সোমবার সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড খানকায়ে জামে মসজিদে জোহরের নামায আদায় শেষে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, বিএনপি নেতা এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তৈয়ব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনসহ বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সাখাওয়াত হোসেন খান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রী মহোদয়রা নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন সকলে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও তাদের নির্বাচনী কার্যে অংশগ্রহণ করছেন। সংসদ সদস্যদের এবং অন্যান্য লোকাল গভার্নমেন্ট এর বিভিন্ন প্রতিনিধিদের যদি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয় তাহলে নির্বাচনী আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন বলে আমি মনে করি। সংসদ সদস্যরা সরকারি অফিসে ডেকে নিয়ে নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য বলে দিচ্ছে। আমি আশা করছি এসব কাজ থেকে তারা বিরত থাকবেন। তা না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না।
নারায়ণগঞ্জে দলবাজ কর্মকর্তাদের অভাব নাই উল্লেখ করে শাখাওয়াত হোসেন খান কলেন, আমি যেখানেই যাই সেখানেই ভোটাররা প্রশ্ন করছে যে, তারা কি নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন? এ কারণেই দলবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে সেখানে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের বসাতে হবে, না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
তিনি বলেন, মানুষের মাঝে যে আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি তাতে আমরা শতভাগ আশাবাদী সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিবেন, ধানের শীষের বিজয় হবে।
তিনি বলেন, আমাকে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দল মনোনয়ন দিয়েছেন অপরদিকে প্রতিদ্বন্দি নৌকার যে প্রার্থী তাকে নারায়ণগঞ্জের তৃণমূলের আওয়ামীলীগ প্রার্থী করেননি। গত ১৪ বছরে আইভী তার দেয়া প্রতিশ্রুতির শিকি ভাগও পূরণ করতে পারেনি।
নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সকলের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে হোল্ডিং ট্যাক্স যেখানে তিন হাজার টাকা ছিল সেখানে আইভী এক থেকে দেড় লাখ টাকা করেছে। আমি নির্বাচিত হলে সেই বোঝা থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে মুক্ত করব। সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ, সর্বোপরি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান গত দুই দিন সিদ্ধিরগঞ্জে নেতাদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক ও বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করে মুসুল্লীদের দোয়া চেয়ে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
খানকায়ে জামে মসজিদে নামায শেষে থানা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের বাসায় ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাদের সাথে বৈঠক করেন শাখাওয়াত হোসেন খান। এরপর ১নং ওয়ার্ড এলাকায় মরহুম বিএনপি নেতা গাজী ইসমাইলের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তান ও উপস্থিত ওই ওয়ার্ডের নেতাদের সাথে কথা বলেন। এরপর আসরের নামায আদায় করেন ওই ওয়ার্ডের তালতলা জামে মসজিদে। সেখানে তিনি মুসুল্লীদের কাছে দোয়া চান। মাগরিবের নামায আদায় করেন একই ওয়ার্ডের হিরাঝিল জামে মসজিদে। এরপর পার্শ্ববতী একটি মাদরাসায় গিয়ে আলেম সমাজের দোয়া প্রার্থনা করেন সাখাওয়াত হোসেন খান।
এর আগে রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় একটি রেস্টেুুরেন্ট-এ বৈঠক করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি ও অংগসংগঠনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সাথে। ওইসব বৈঠকে নির্বাচনে সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানোসহ নির্বাচনের নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ