শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

১৬তম সংশোধনীর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার : বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে রিট আবেদনকারী পক্ষ আবেদন করেছে। হাইকোর্টের রায়ের পর সরকারপক্ষে আপিল করার ঘোষণা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। অথচ রায়ের অনুলিপি গত ১ মাস আগেই সংশ্লিষ্ট পক্ষ হাতে পেয়েছে।
গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আজ মঙ্গলবার আবেদনটি শুনানির দিন ধার্যের জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে করা রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে রায় ঘোষণা করেছেন। আমরা ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পেয়েছি এক মাসে আগে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ (সরকার) কোনো আপিল করেননি। যেহেতু রায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপিল আবেদন করা হয়নি, আমরা ওই বিষয়টি আপিল বিভাগকে অবহিত করার জন্য এবং হাইকোর্টে দেয়া রায় নিষ্পত্তি করার জন্য আপিল বিভাগে একটি আবেদন করেছি।
আবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলায় সাংবিধানিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত থাকায় হাইকোর্ট সরাসরি আপিলের জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করেছিল। আদালত বলেছিলো, যেহেতু এই মামলায় সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত সেহেতু এটি আপিল বিভাগেই নিষ্পত্তি করা হবে। কিন্তু সরকারপক্ষ এখন পর্যন্ত এ রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করেনি। মামলা রিটকারী পক্ষ হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এই আবেদন দাখিল করেছে।
চলতি বছরের ৫ মে ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের নিষ্পত্তি করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায় হওয়ায় ষোড়শ সংশোধনী আইনটি বাতিল হয়ে যায়।
মনজিল মোরসেদ বলেন, সরকারপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শাখায় দরখাস্ত দিয়েছে। কিন্তু তারা রায়ের অনুলিপি এখনো গ্রহণ করেনি। যেহেতু বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত সেহেতু আমরাই আগে আপিল বিভাগে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গিয়েছি।
পুর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয় বলাতে দ্বিধা নেই ষোড়শ সংশোধনী একটি মেকি আইন (কালারেবল লেজিসলেশন) এবং এটা রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের (নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথকীকরণের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৯৪ (৪) এবং ১৪৭(২) অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এই দুটি অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ। এই সংশোধনী সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের (খ) দফাকে আঘাত করেছে। কেননা সংবিধানের ৭-এর ‘খ’ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক স্তম্ভ পরিবর্তন করার কোনো বিধান নেই এ কারণে রুলের সারবত্তা রয়েছে এবং রুলটি সফল। রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো কোনো ব্যয় ছাড়া। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইন ২০১৪ (এ্যক্ট নম্বর ১৩, ২০১৪) মেকি, বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ